বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

কী আছে সামরিক জাদুঘরে?

অনলাইন ডেস্ক :   |   বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭   |   প্রিন্ট   |   1165 বার পঠিত

কী আছে সামরিক জাদুঘরে?

বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর রয়েছে এক দীর্ঘ ঐতিহ্যের ইতিহাস। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বাক্ষর রেখেছে এ বাহিনী। জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মিশনে নিজেদের কাজের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের জন্য সুনাম বয়ে এনেছে। সামরিক বাহিনীর এমন নানা সাফল্যের নিদর্শন দেখতে পাবেন রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে। সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত এ জাদুঘর সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে। ঢাকায় বিজয় সরণিতে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের পশ্চিম পাশে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের অবস্থান। এটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। এই জাদুঘরে দেখা মিলবে সামরিক বাহিনীর নানা গৌরবোজ্জ্বল কর্মকাণ্ড আর শান্তিরক্ষী মিশনে এ বাহিনীর সাফল্যের নানা নিদর্শন। রয়েছে নানা সমরাস্ত্রের সংগ্রহ। দ্বিতল ভবনের সামনে সুবিশাল মাঠের চারপাশে সজ্জিত এ সামরিক জাদুঘর।

১৯৮৭ সালে প্রথম সামরিক জাদুঘরটি মিরপুর সেনানিবাসে প্রতিষ্ঠিত হয়। সামরিক জাদুঘরের গুরত্ব এবং দর্শকদের চাহিদার কথা বিবেচনা করে ১৯৯৯ সালে জাদুঘরটি স্থায়ীভাবে বিজয় সরণিতে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের ব্যাজ, পোশাক, অস্ত্র, গোলাবারোদ, ক্যানন, অ্যান্টি এয়ারক্রাফট গান এবং যোগাযোগের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন যানবাহন এখানে সংরক্ষিত রয়েছে।

সামরিক জাদুঘরের গেট দিয়ে ভেতরে ঢুুকতেই চোখে পড়বে ট্যাংক পিটি-৭৬। রাশিয়ার তৈরি এই ট্যাংকটি পানিতেও ভেসে চলতে সক্ষম। এই ট্যাংকটি ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকা থেকে বাংলাদেশ বাহিনী কর্তৃক পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। সামরিক জাদুঘরের মাঠের উত্তর ও পূর্বদিক দিয়ে সুসজ্জিতভাবে সাজানো রয়েছে আরো ১৬টি ট্যাংক ও কামান। এগুলো খোলা আকাশের নিচে রাখা আছে। মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে প্রদর্শিত হচ্ছে মোটরলঞ্চ ‘এমএল সূর্যোদয়’। এটি জাপান সরকার অনুদান হিসেবে দিয়েছিল।

মূল ভবনের দোতলায় রয়েছে আটটি গ্যালারি। প্রথম গ্যালারিতে হাত-কুঠার, তীর-ধনুকসহ পুরনো যুগের অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। দ্বিতীয় গ্যালারিতে রয়েছে- ডিবিবিএল গান, এসবিবিএল গান, বিশেষ ব্যক্তিদের ব্যবহৃত হাতিয়ারসহ যুদ্ধাস্ত্র। তৃতীয় গ্যালারিতে এলএমজি, এসএমজিসহ মাঝারি অস্ত্র। চতুর্থ গ্যালারিতে রয়েছে মর্টার, স্প্যালো, এইচএমজিসহ ভারী অস্ত্র।

পঞ্চম গ্যালারিতে সর্বসাধারণের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক-পরিচ্ছদ, র‌্যাংক, ব্যাজ ও ফিতা। ষষ্ঠ গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে- মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দলিল, সেক্টর কমান্ডারদের পোর্ট্রেট, কিছু ব্যবহার্য সামগ্রী। সপ্তম গ্যালারির নাম দেয়া হয়েছে ‘বিজয় গ্যালারি’। এতে সশস্ত্র বাহিনীর যেসব ব্যক্তি মুক্তিযুদ্ধে জীবন দিয়েছেন, তাদের পোর্ট্রেট ও সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অষ্টম গ্যালারিতে রয়েছে- সাবেক সব সেনাপ্রধানের তৈলচিত্র, বীরশ্রেষ্ঠ ও বীর প্রতীকদের নামের তালিকা।

ভবনের নিচতলায় প্রদর্শিত হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানী যে গাড়িটি নিয়ে বিভিন্ন যুদ্ধএলাকা পরিদর্শন করেন, সেই জিপ গাড়িটি। এর পাশাপাশি রয়েছে গোলন্দাজ বাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত ১৪.৫ মি.মি. কোয়াড বিমানবিধ্বংসী কামান, ১২০ মি.মি. মর্টার ব্রান্ডেট এএম ৫০, ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর ব্যবহৃত ছয় পাউন্ডের ট্যাংকবিধ্বংসী কামান, ১০৬ মি.মি. রিকয়েললেস রাইফেল। আরো আছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে উদ্ধারকৃত স্টাফ কার মার্সিডিজ বেঞ্জ ও সিলিন্ডার ২০০০ সিসি।

সামরিক জাদুঘরের বিশেষ আকর্ষণ ‘মুজিব কর্নার’। এটি মূল ভবনের নিচতলায় পশ্চিম পাশের কক্ষে সম্প্রতি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে স্বাধিকার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ৩০টি অঙ্কিত আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে।

এ ছাড়া ‘ইতিহাস দর্পণ’ নামে একটি আইটি কর্নার আছে এ জাদুঘরে। এখানে দু’টি রুমের মধ্যে একটি ১১টি আকর্ষণীয় টার্চ স্কিন কম্পিউটারের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধসম্পর্কিত চলচ্চিত্র এবং দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে করণীয় এবং অন্যটিতে বড় স্ক্রিনে ‘১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস’ নামের এক ঘণ্টা ৫০ মিনিটের চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ জাদুঘর সপ্তাহে পাঁচ দিন খোলা থাকে। দিনগুলো হচ্ছে- শনি, রবি, সোম, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার। গ্রীষ্মকালে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত, আর শীতকালে ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৫টা পর্যন্ত। বুধবার বন্ধ। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত খোলা। এ ছাড়া অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১১:২৯ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৬ আগস্ট ২০১৭

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শারদীয় ভূষণ
(1637 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997