এনা : | মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ | প্রিন্ট | 1176 বার পঠিত
নতুন ফুলের শোভা জানিয়ে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে। আর এ ঋতুর আগমনী বার্তায় গতকাল সোমবার রঙে রঙে বসন্তের জয়গানে মেতে ওঠে নারী, পুরুষ, শিশুরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে ছিল বসন্ত বরণের বহুমুখী আয়োজন। সংস্কৃতিপ্রেমীরা সেসব আয়োজনে শামিল হয়েছেন। শহরবাসী মেতেছিলেন বসন্ত বরণ উত্সবে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকাজুড়ে উযাপনের মাত্রাটা ছিল চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে আকর্ষণীয় আসর বসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায়। ‘এসো মিলি প্রাণের উত্সবে’ স্লোগানে বকুলতলার মঞ্চসহ রাজধানীর চারটি মঞ্চে বসন্ত আবাহনের অনন্য আয়োজনটি করে জাতীয় বসন্ত উত্সব উদ্যাপন পরিষদ। সকাল থেকে রাত অবধি নাচ-গান ও কবিতায় মুখরিত ছিল শিল্পাচার্য জয়নুলের স্মৃতিধন্য এ আঙিনা। একে অপরের গালে বা কপালে বসন্তের বর্ণময়তা ছড়িয়ে দিতে মেতেছিল আবির খেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনের আঙিনায় বসন্ত বরণের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন সমগীত। সন্ধ্যায় ছিল শিল্পকলা একাডেমির বসন্ত আবাহনের আয়োজন। এর বাইরে বসন্তের ছোঁয়া লেগেছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলার দুই ক্যানভাস বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। শাহবাগসহ রাজধানীর ফুলের দোকানগুলোয় নজরে আসে ঋতুরাজ উদ্্যাপনের সৌন্দর্যময় দৃশ্যপট। এসব পুষ্পবিতানে গোলাপ, গাঁদাসহ নানা ফুলে গড়া মালা, বন্ধনী কিংবা টায়রা সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল নর-নারীগণ।
ঝলমলে সকালের আলো তখন ছড়িয়ে পড়েছে বকুলতলায়। সবুজ পাতার ফাঁক গলে মিষ্টি রোদের কিরণে উদ্ভাসিত মঞ্চ। ভেসে এলো সারেঙ্গীর মোহময় সুর। যন্ত্রশিল্পী মতিয়ার রহমানের পরিবেশনায় রাগ ভৈরবীর সুরেলা ধ্বনি ঋতুরাজ বরণকারীদের মনে ছড়িয়ে দিল ভালোলাগার অনুরণন। যন্ত্রবাদন শেষে পরিবেশিত হয় অসিত রায়ের শাস্ত্রীয়সংগীত। শিল্পী গেয়ে শোনান বসন্তভিত্তিক ধ্রুপদী রাগ। ঋতুরাজকে স্বাগত জানিয়ে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী গেয়ে শোনায় ‘আয়রে বসন্ত নবীন পাখা মেলে’। পরের পরিবেশনায় উপস্থাপিত হয় সাঁওতালি নাচ। মাদলের তালে তালে চার সাওতাল তরুণ তরুণীর অপূর্ব নৃত্য পরিবেশন দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর মঞ্চে আসে নৃত্যদল কাদামাটি। ‘আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে’ গানের সুরে নাচবার সময় দর্শক-শ্রোতাদের পানে ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দেয়। তামান্না রহমানের নির্দেশনায় ‘বসন্ত এসে গেছে’ গানের সুরে নাচ করে নৃত্যম। এরপর কবিতায় বসন্তের কথা বলে যান বাচিকশিল্পী ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়। পাঠ করেন রবীন্দ্রনাথের কবিতা ‘শেষ বসন্ত’। ফাহিম হোসেন চৌধুরী গেয়ে শোনান ‘অলি বারবার ফিরে আসে যায়’। ‘বসন্ত বর্ণন’ শীর্ষক মণিপুরি নাচ পরিবেশন করেন ওয়ার্দা রিহাব ও তাঁর দল ধৃতি নর্তনালয়। বাউলসাধক শাহ আবদুল করিমের গানের মাধ্যমে ঋতুৃরাজের মহিমা তুলে ধরেন বিমান চন্দ্র বিশ্বাস। গেয়ে শোনান ‘বসন্ত বাতাসে সই গো, বসন্ত বাতাসে/বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে …’। নজরুলের ‘বাসন্তী’ কবিতাটি আবৃত্তি করেন বেলায়েত হোসেন। সঙ্গীত পরিবেশন করে বুলবুল ললিতকলা একাডেমি। ‘আহা আজি এ বসন্ত’ পরিবেশন করে নৃত্যাক্ষ। আদিবাসী নৃত্য পরিবেশন করে রাঙামাটি থেকে আগত অন্তর দেওয়ান ও তাঁর দল।
বসন্ত আবাহনের এ আয়োজনে অতিথিদের ফুলের প্রীতি বন্ধনী পরিয়ে দেয় শিশুরা। এরপর কিছুক্ষণের জন্য চলে ডালায় সাজানো লাল, নীল, হলুদসহ নানা রঙের আবির মাখিয়ে দেয়ার পর্ব। একে অন্যের কপালে ও গালে নানা রঙের আবির দিয়ে উত্সবটিকে যেন আরও রাঙিয়ে দেন। সবশেষে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বসন্ত শোভাযাত্রা। চারুকলা অনুষদ থেকে বেরিয়ে টিএসসি ঘুরে পুনরায় মঞ্চের কাছে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি।
এছাড়া একই সময়ে পুরোনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কেও ছড়িয়েছিল বসন্ত উত্সবের রঙ। বসন্ত কথনের সঙ্গে ছিল দলীয় সংগীত, একক সঙ্গীত দলীয় আবৃত্তি ও সমবেত নৃত্য। আধুনিক ঢাকার ও উত্তরার ৭ নম্বর পার্ক মাঠেও অনুষ্ঠিত হয় নানা পরিবেশনায় বসন্ত উত্সব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে বটতলায় সঙ্গীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘সমগীত’। সহজিয়া সুরের গানে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখে জলের গান।
বসন্ত বরণে শিল্পকলা একাডেমিতে সোমবার বিকালে শুরু হয় তিন দিনের বসন্ত উত্সব। একাডেমির নন্দনমঞ্চে শুরু হয় এ উত্সব, যার আয়োজক একাডেমির সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি বিভাগ।
Posted ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
America News Agency (ANA) | Payel