বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

লাল সবুজের পোশাক

অনলাইন ডেস্ক :   |   শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭   |   প্রিন্ট   |   1538 বার পঠিত

লাল সবুজের পোশাক

স্বাধীনতা এবং লাল-সবুজের ইতিহাস আমরা অর্জন করেছি অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে। যেখানে জড়িয়ে আছে গভীর শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও আবেগ। আর দেশকে ভালোবেসে পতাকা বা প্রিয় রঙকে সম্মান জানানোতে জুড়ি নেই পোশাকি ভাষার। পোশাক একটি চলমান ক্যানভাসের মতো কাজ করে। তাই খুব সহজেই মনের ভাষা তুলে ধরা যায় এখানে। সে জন্য লাল-সবুজের পোশাক দেশকে সম্মান জানানোর একটি সহজ উপায় বলা যায়। দেশের মানুষের এই আবেগ মাথায় রেখেই প্রতিবছর দেশি ফ্যাশন হাউসগুলো স্বাধীনতা এবং বিজয় দিবস সামনে রেখে নিয়ে আসে লাল-সবুজের রকমারি ডিজাইন।
১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথম উত্তোলন করা হয় লাল-সবুজের পতাকা। সেই থেকে লাল-সবুজ যেন প্রত্যেক বাংলাদেশির প্রাণের রঙ। একই সঙ্গে পতাকা মোটিফ এসেছে আমাদের পোশাকেও। লাল-সবুজের পতাকা আমাদের আপন রঙের ছটা, আমরা যা বহন করি পোশাক, অনুষঙ্গ থেকে শুরু করে আমাদের হৃদয়ে। এমন পোশাককে তাই স্বাধীনতার প্রতীকও বলা চলে। স্বাধীনতার রঙে পরনের পোশাক নিয়ে আরও বলেন ফ্যাশন হাউস রঙ বাংলাদেশের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাস_ একটি দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে পারে ওই দেশের পোশাকি হালচাল আর তরুণ সমাজের চিন্তাধারা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, পোশাক এবং তরুণের মাঝে ফুটে আছে দেশের পতাকার লাল-সবুজ। ছোট থেকে শুরু করে দেশের বয়স্কদের পোশাক, অনুষঙ্গের বড় জায়গা দখল করে আছে পতাকা মোটিফ। পতাকার মোটিফ তাই বড় আকারেই রয়ে গেছে বিজয় দিবসের পোশাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্লোগান, শহীদদের স্মৃতি নিয়ে করা হয় ডিজাইন।
লাল পাড়ের সবুজ শাড়ি, সঙ্গে লাল ব্লাউজ। নিদ্বর্িধায় তা বাঙালি মেয়ের গৌরব। আর তরুণীদের উদ্যম সহযাত্রী। এই চিন্তায় সুর মিলিয়ে স্নাতকপড়ূয়া নাহিদা বলেন, ‘লাল-সবুজের পতাকা আমাদের রক্ত এবং লাখো জীবনের বিনিময়ে অর্জিত। এ পতাকা যেমন হৃদয়ে ধারণ করি, তেমনি লাল-সবুজের পোশাক পরতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ হয়। পতাকা মোটিফের পোশাক পরি দেশকে ভালোবেসে, যা দেশ নিয়ে আরও জানতে, দেশের জন্য কিছু করতে আরও উৎসাহিত করে।’ তাঁত, সিল্ক, হাফসিল্ক বা জামদানির মধ্যে বেশি ফুটে ওঠে এমন রঙ। আরামদায়ক এবং সহজে বহন করা যায় বলে কামিজের জনপ্রিয়তা এ দেশে ব্যাপক। আর কামিজ, ফতুয়া বা টপসে অনেক আগে থেকেই দেখা যায় স্বাধীনতার রঙের ছাপ। ধীরে ধীরে তা তরুণীদের হৃদয়ে মিশে গেছে। তেমন এক তরুণীর নাম রামিসা রাফিকা রিজভী। আবেগের রঙ এবং নিজের পোশাক নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবুজ আমার অনেক প্রিয় একটি রঙ। তার সঙ্গে লাল মিশে গিয়ে আরেক রকম সুন্দরের সৃষ্টি করে। আর এ রঙ রয়েছে আমার মনের মধ্যে। হৃদয়ে মিশে থাকলে পরতে তো তাই ভালো লাগারই কথা। এককথায় লাল-সবুজের কামিজের তুলনা হয় না। আর চলতি ট্রেন্ড এবং মোটিফের মধ্যেই দেখা যায় এমন রঙের পোশাক। ব্যবহৃত হয় সময়ের প্যাটার্ন ও কাটছাঁট। সবুজের মধ্যে ফুটে ওঠে বিভিন্ন অর্থবোধক প্রিন্ট। সঙ্গে লাল ওড়না।’
পাঞ্জাবি বাঙালি ছেলেদের ঐতিহ্যবাহী এবং প্রিয় পোশাক। ব্যতিক্রম নয় বিশ্ববিদ্যালয়পড়ূয়া আবির হোসেনের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, পাঞ্জাবি আমার এমনিতেই অনেক প্রিয় পোশাক। আর জাতীয় পতাকার রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া হলে তো কথাই নেই। এর জন্য সত্যিই অন্যরকম আবেগ কাজ করে। পাঞ্জাবি এখন সুতি বা লিনেনেই বেশি মানানসই। আর চলতি ফ্যাশনে পাঞ্জাবিতে দেখা যায় প্রিন্ট, কাটওয়ার্ক ডিজাইন।
দেশের পতাকা হৃদয় থেকে পোশাক, অনুষঙ্গে বহন করা যেমন গর্বের, তেমনি পতাকা উত্তোলনের কিছু নিয়ম এবং তার মাপটি জেনে রাখাও জরুরি।
* জাতীয় পতাকায় ১০:৬ দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তক্ষেত্রাকার গাঢ় সবুজ রঙের মাঝখানে একটি লাল বৃত্ত থাকবে।
* লাল বৃত্তটি পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ ব্যাসার্ধবিশিষ্ট হবে। পতাকার দৈর্ঘ্যের নয়-বিংশতিতম অংশ হতে অঙ্কিত উল্লম্ব রেখা এবং পতাকার প্রস্থের মধ্যবর্তী বিন্দু হতে অঙ্কিত অনুভূমিক রেখার পরস্পর ছেদ বিন্দুতে বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু হবে। অর্থাৎ পতাকার দৈর্ঘ্যের বিশ ভাগের বাম দিকের নয় ভাগের শেষ বিন্দুর ওপর অঙ্কিত লম্ব এবং প্রস্থের দিকে মাঝখান বরাবর অঙ্কিত সরল রেখার ছেদ বিন্দু হলো বৃত্তের কেন্দ্র।
* পতাকার সবুজ পটভূমি হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ান ব্রিলিয়ান্ট গ্রিন এইচ-২ আর এস ৫০ পার্টস এবং লাল বৃত্তাকার অংশ হবে প্রতি হাজারে প্রোসিয়ান ব্রিলিয়ান্ট অরেঞ্জ এইচ-২ আর এস ৬০ পার্টস।
* নির্দিষ্ট দিবসে পতাকা উত্তোলন করা জরুরি। জেনে রাখতে হবে, কোন দিনগুলোতে পতাকা অর্ধনমিত রাখতে হবে।
স্বাধীনতা দিবস মাথায় রেখে কিছু সচেতনতা জরুরি_
১. স্বাধীনতা দিবসের পোশাক বিজয়ের মোটিফে ও দেশি আঙ্গিকে হোক। পশ্চিমা পোশাকে এমন নকশা না আঁকি যেন তা শালীনতাবহির্ভূত হয়।
২. ফেসবুকে স্বাধীনতার শুভেচ্ছা জানানো পোস্ট বা কমেন্ট না বুঝেই ভুলভাল দেওয়া মোটেও উচিত নয়। এতে মানুষের মনে ভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং নিজের দেশকে ছোট করা হয়। তাতে আত্মসম্মানেরও চিহ্ন থাকে না।
৩. পোশাক থেকে জরুরি মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাকে হৃদয়ে ধারণ করা। শুধু ওপরে দেশপ্রেম দেখিয়ে লাভ নেই, যদি তা শুধুই পোশাকি হয়।
৪. মনে রাখা জরুরি_ দেশপ্রেম শুধু একদিনের নয়।
৫. দেশের ইতিহাস জানা খুবই প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইতিহাস বিকৃতি থেকে দেশকে রক্ষা করার মনোভাব থাকা প্রয়োজন।
মডেল : বীথি ও সানিয়াত; পোশাক : রঙ বাংলাদেশ
সূত্র: সমকাল

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১২:২২ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৪ মার্চ ২০১৭

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

শারদীয় ভূষণ
(1637 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997