এনা অনলাইন : | রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮ | প্রিন্ট | 497 বার পঠিত
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণ- দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকালে দুই কোরিয়া সীমান্তের পানমুনজমে শুরু হওয়া বৈঠক বিকালে শেষ হয়।
ঐতিহাসিক বৈঠকটির মধ্য দিয়ে চিরবৈরী দুই প্রতিবেশী দেশের অমীমাংসিত অনেক বিষয়ের যেমন নিষ্পত্তি হতে যাচ্ছে, তেমনি কোরীয় অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বে এটি শান্তির পরিবেশ তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।
বৈঠক শেষে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা থেকেও আশার বাণী এসেছে। দুই কোরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবং ওই অঞ্চলসহ গোটা বিশ্বে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি বন্ধে আলোচিত বৈঠকটি প্রভাব ফেলবে বলে আমরা আশাবাদী।
কিম ও মুনের এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৬৮ বছর পর কোরিয়া যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির ঘোষণা এলো। ১৯৫০ থেকে ৫৩ সাল পর্যন্ত প্রলয়ংকরী এক যুদ্ধের পর শান্তি চুক্তির মধ্য দিয়ে দুই কোরিয়া পৃথক হয়। তারপর থেকে উত্তর কোরিয়া একের পর দক্ষিণ কোরিয়া, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে হুমকি দিয়ে আসছিল।
একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে গোটা বিশ্বকেই ব্যতিব্যস্ত করছিল। শেষ পর্যন্ত দুই কোরিয়ার বৈঠকের মধ্য দিয়ে বৈরিতার অবসান এবং শান্তি-সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দুই প্রেসিডেন্ট একমত হয়েছেন।
আশার কথা, কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণরূপে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে দেশ দুটি। এ বছরের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ও আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও তারা একমত হয়েছেন।
বস্তুত, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়া হুমকি-পাল্টাহুমকির মধ্য দিয়ে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়। সে পরিস্থিতি থেকে আলোচনার টেবিলে কিম জং উনকে ফিরিয়ে আনা এবং পরমাণু কর্মসূচি থেকে বিরত রাখা অবশ্যই বড় ধরনের ঘটনা।
যারা এর পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন, আমরা তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানাই। মূলত, ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর প্রথমে চীন এবং পরে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন কিম। এখন ট্রাম্প-কিম ভবিষ্যৎ বৈঠকের ফলাফলের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।
তবে সবার উচিত হবে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তির পথের এ সূচনা যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করা। দুই কোরিয়া এক হোক বা না হোক, উভয়ে শান্তিতে বসবাস করলে এবং এ অঞ্চল যুদ্ধের হুমকিমুক্ত হলেই এ বৈঠক চূড়ান্ত বিচারে ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হবে। চীন ও জাপানসহ গোটা বিশ্ব সে প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছে। একই প্রত্যাশায় দুই কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে জানাই অভিনন্দন।- যুগান্তর
Posted ৯:৫৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ২৯ এপ্রিল ২০১৮
America News Agency (ANA) | Payel