বৃহস্পতিবার ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

চোরদের ভিসায়ও ভালোবাসার কুদরত?

মোস্তফা কামাল :   |   রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   12851 বার পঠিত

চোরদের ভিসায়ও ভালোবাসার কুদরত?

চোররা কেবল সমাদৃত-সম্মানিত নয়; নানা সূচকে দয়াবান, মহোদয়ও। তাদের চুরি দেখেও না পারতে তাদের কেউ চটায় না।
সমীহ করে। দেখি না চোর বেটায় কী করে- সেই তামাশা দেখে। ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৌতুকের পুনরাবৃত্তি। রাতে ভানুবাবু টের পান, তার ঘরে সিঁদ কেটে চোর ঢুকেছে। তিনি ঘুমের ভান ধরে চুপ থাকেন, আর ভাবেন ‘দেখি না কী করে’? চোর ভানুবাবুর বালিশের নিচে হাত দিয়ে চাবি নিয়ে আলমারি খুলে সোনা-গহনা, টাকা-পয়সা বস্তায় পুরছে। ভানু তখনও সব দেখেন আর ভাবেন, ‘দেখি না কী করে?’ চোর মহাশয় ঘরের সব মালসামানা নিয়ে দরজা খুলে বাইরে চলে যাওয়ার সময়ও তার একই ভাবনা- ‘দেখি না কী করে’?

সকালে স্ত্রীসহ পড়শীরা জানতে চান, তিনি চোরকে ধরলেন না কেন? অথবা একটা চীৎকারও কেন দিলেন না? ভানুর জবাব, ‘ধরতে গেলে বা চীৎকার দিলে চোর যদি তাকে হুকুম করতো- চোরাই মালসামানাগুলো মাথায় নিয়ে পৌঁছে দিতে!’ দেশের জাতীয় চোররাও এখন সেই প্রিভিলেজ পাচ্ছে। চুরি করে দিব্যি সিনা টান করে চলে যায়। বুক ফুলিয়ে ঘোরেও। আর বড় বড় কথা তো বলেই। তাহলে চোরদের সমস্যা কোথায়? চোরদের অনেক হিতাকাক্সক্ষীও। এবার ঘটনাচক্রে তাদের গা ঢাকা দেয়ার সময়ও এর প্রমাণ মিলছে। কী চমৎকারভাবে চম্পট দিচ্ছে চোরেরা। নইলে চোরগুলো টুস করে বিমানে উঠে ফুস করে চলে যাচ্ছে কিভাবে? তাদের চুরির আগে ভিসা লাগানো থাকে? নাকি ভিসা কনফার্ম করেই চুরিতে নামে তারা? তাদের দেশ ছেড়ে পালানো কনফার্ম হওয়ার পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপটাও কি কম ইন্টারেস্টিং?

চোরদের স্ত্রী-সন্তানরাও হয় বেশ সমঝদার। কয়েকটা বিয়ে করলেও স্ত্রীরা চেতেন না। বরং মিলেমিশে চুরি-চামারিতে শরীক হন। বেনজীরের স্ত্রী-মেয়ে বা ছাগলকাণ্ডের মতিউরের ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রীদের এই সম্প্রীতির গুণ বিশ্লেষণ করার মতো। মতিউর ছেলেটাকে অস্বীকার করার পরও ছেলেটা বেয়াদবি করেনি। বাবাকে বলেনি, তুমি এতো এতো চুরি-চোট্টামি করেছো, আমি কখনো অস্বীকার করেছি তোমাকে? অথবা ক্ষেপে গিয়ে বাবার অনেক কিছু কি ফাঁস করে দিয়েছে? না, তা দেয়নি। চোর- দুর্নীতিবাজরা বেশ দানবীর-সমাজদারও। মসজিদ-মন্দিরে দান-খয়রাত, সদকা-জাকাতে উদার হাত তাদের। স্ত্রী, সন্তান এমনকি বান্ধবীদেরও অকাতরে ধন-সম্পদ বিলান। হৃদয়টা যেনো মাখন-পনিরের মতো নরম-কোমল। তা তুলনা করতে গেলে আমাদের অনেকের বলতে হবে, আমরা স্ত্রী-সন্তানদের প্রতি কী অবিচারই না করছি। এমন কি শালা-সমুন্ধি-শাশুড়ির প্রতিও?

বেশি স্ত্রী-বান্ধবীতে তাদের রিজিকও যেনো বেড়ে যায়। সবাই মিলে তাদের টাকার বস্তা আগলে রাখে। প্রায় প্রতিটি দুর্নীতিবাজ ও সফল ব্যক্তিরই কয়েকটি করে বিয়ে! বান্ধবীও অগুণতি। সুলতান সুলেমান, সম্রাট শাহজাহান, ঈসা খাঁ, বিল ক্লিনটনরাও করেছেন। মতিউর-বেনজীর-পিকে হালদাররা সেই সম্প্রদায়েরই। তাদের জন্য গোপনেও দোয়া করেন অনেকে। তাদের যে কোনো কৃতকর্মের পক্ষে সাফাই গাওয়ার লোকের অভাব হয় না। এটাই বাস্তব। সম্পদহীনতায় ভালোবাসাও দৌঁড়ে পালায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাও মুখ ফিরিয়ে নেয়। অথচ বেনজীর-আছাদ মিয়াদের জন্য কতো আন্তরিক তাদের সহকর্মীরা! তারা অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিবৃতি দিয়েছে। বলেছে, সাংবাদিকরা যেন পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করে। মন্ত্রীরাও বলছেন, নিরীহ কাউকে যেন দুর্নীতিবাজ বলা না হয়। এমন সাফাই ও দোয়ার হাত ক’জনের মাথায় থাকে?

লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট; ডেপুটি হেড অব নিউজ, বাংলাভিশন, ঢাকা।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ৪:০৪ পূর্বাহ্ণ | রবিবার, ৩০ জুন ২০২৪

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Dhaka University Centennial & New Beginnings
(13551 বার পঠিত)
স্বামী তুমি কার?
(12860 বার পঠিত)
দল বেঁধে সৈকতে
(1423 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997