শিরোনাম

প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য, শিরোনাম

স্মার্টফোন ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে এলজি

এনা অনলাইন : | শুক্রবার, ২২ জানুয়ারি ২০২১ | সর্বাধিক পঠিত

স্মার্টফোন ব্যবসা থেকে সরে যাচ্ছে এলজি

গত কয়েক দশক ধরে যুগান্তকারী সব পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে স্মার্টফোনের বাজার। এক দশক আগেও হাতে গোনা কয়েকটি ব্র্যান্ডের দখলে ছিল দ্রুত বর্ধনশীল এ বাজার। তবে অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের সেই আধিপত্যে ভাগ বসিয়েছে চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো। নিত্যনতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি, নজরকাড়া ডিজাইন ও কম দামের কারণে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে শাওমি, অপো ও ভিভোর মতো ব্র্যান্ডগুলো। এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে কখন যেন হারিয়ে গেছে একসময়ের জনপ্রিয় স্মার্টফোন ব্র্যান্ড এলজি। গত পাঁচ বছরে টানা লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে স্মার্টফোন ব্যবসা বন্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছে দক্ষিণ কোরীয় এ সংস্থা। খবর রয়টার্স।

গত বুধবার এলজি ইলেকট্রনিক্স জানিয়েছে, লোকসানে থাকা মোবাইল বিভাগ নিয়ে সব বিকল্পের বিষয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটি তার স্মার্টফোন ব্যবসা বন্ধ কিংবা কিছু অংশ বিক্রি করে দিতে পারে।



এক সময় অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী এলজি ইলেকট্রনিক্স ১৯৫৮ গোল্ডস্টার নামে যাত্রা করেছিল। কোরিয়ান যুদ্ধের পর দেশীয় ভোক্তাদের ইলেকট্রনিক্স ও গৃহ সরঞ্জাম সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও দ্রুত সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৯৫ সালে লাকি কেমিক্যাল ও এলএস কেবলের সঙ্গে একত্রিত হয়ে লাকি-গোল্ডস্টার এবং পরে এলজি ইলেকট্রনিক্সে রূপান্তরিত হয়। এরপর বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক্স শিল্পে বড় ভূমিকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির এগিয়ে চলা।

২০১৩ সালের হিসাবে এলজি বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় বৃহত্তম এলসিডি টিভি প্রস্তুতকারক ছিল। ইলেকট্রনিক্স জগতে দাপটের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার এ সময়ে তারা স্মার্টফোনের দিকে মনোযোগ দেয়। ২০০৯ সালে সংস্থাটি প্রথম অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন বাজারে নিয়ে আসে। এর দুই বছর পরই এলজি প্রথম অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম চালিত ট্যাবলেট নিয়ে হাজির হয়। বাজারে আসার অল্প সময়ের মধ্যেই ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে এলজি বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারে তৃতীয় স্থান দখল করে নেয়। কিন্তু চীনা ব্র্যান্ডের আধিপত্যে ক্রমান্বয়ে স্মার্টফোন বাজার থেকে ছিটকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট বাজারে নিত্যনতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও খ্যাতি ছিল এলজির। ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর সংস্থাটি জি ফ্ল্যাক্স নামে কার্ভড স্মার্টফোন উন্মোচন করে। চলতি বছর রোলএবল ডিভাইস বাজার আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এলজি। যদিও এরই মধ্যে সংস্থাটির পক্ষ থেকে খারাপ খবর শোনা গেল। হতে পারে এটিই প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ স্মার্টফোন।

এলজি ইলেকট্রনিক্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্যে টানা ২৩ প্রান্তিক ধরে মোবাইল ব্যবসাতে টানা লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। অংকের হিসাবে লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার।

সংস্থাটি বলেছে, বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনসহ মোবাইল ব্যবসার প্রতিযোগিতা আরো তীব্রতর হয়েছে। এলজি ইলেকট্রনিক্স মনে করে, বর্তমান সময়ে ও ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতা বিবেচনা করে মোবাইল ফোন ব্যবসা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেয়ার উপযুক্ত সময়ে পৌঁছেছি।

এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ঝামেলাযুক্ত এ ব্যবসার ইতি টানতে পারে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিষয়টি আরো জোরালো হয়েছে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহীর কথাতেও। এলজির প্রধান নির্বাহী ব্রায়ান কোওন বলেন, মোবাইল ইউনিটের কী ঘটছে তা বিবেচনার বাইরে রেখে কর্মীদের ধরে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

স্মার্টফোনের বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট জানিয়েছে, কৌশল বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২০১৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্ব স্মার্টফোন বাজারে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল এলজি। কিন্তু চীনা ব্র্যান্ডগুলোর আধিপত্যে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। পরে গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শীর্ষ ৭ ব্র্যান্ডের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি জায়গা করে নিতে পারেনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এলজি যদি মোবাইল ফোন ব্যবসা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে সংস্থাটি তাদের বাজার মূলধন ৩৬০ কোটি ডলার বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেহেতু এতদিন ধরে সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি লোকসানের ক্ষয়ক্ষতি ও সম্পদের বিচ্ছিন্নকরণের বিষয়গুলো তাদের সম্পদের হিসাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

এছাড়া মোবাইল বিভাগের সমাপ্তি এলজি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির ব্যবসা প্রসারণে মনোযোগ দিতে সহায়তা করতে পারে। সম্প্রতি সংস্থাটি বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরি করতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ম্যাগনা ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে একটি যৌথ উদ্যোগ শুরু করেছে।

হাই ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক কো ইউই-ইয়ং বলেন, এলজি মোবাইল ব্যবসা ব্যয় কমিয়ে আনতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। বর্তমানে সংস্থাটি এমন এক পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও অ্যাপল ইনকের থেকে বাজার শেয়ার দখলে নিয়ে বিক্রি বাড়ানো প্রয়োজন। অথচ এক্ষেত্রে এলজির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সুতরাং এলজির জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার এ পরিস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

গত মাসে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, কম ও মাঝারি দামের স্মার্টফোনে আউটসোর্সিং বাড়ানোর জন্য তারা মোবাইল বিভাগ পুনর্গঠন করছে। এটিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যয় কমানোর প্রয়াস হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: বণিক বার্তা

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮