শুক্রবার ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>
ভাবনা

ভালোবাসার থিয়েটার, দায়বদ্ধতার থিয়েটার

রামেন্দু মজুমদার   |   মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮   |   প্রিন্ট   |   646 বার পঠিত

ভালোবাসার থিয়েটার, দায়বদ্ধতার থিয়েটার

বাংলাদেশের নবনাট্যচর্চা আমাদের স্বাধীনতার সমান বয়সী। ১৯৭১-এর আগে আমাদের এখানে মঞ্চনাটক হয়নি যে, এমন নয়। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে নাটকের চর্চা হয়নি। ব্রিটিশ আমলে কলকাতার অনুকরণে ঢাকাতে কিছু বাণিজ্যিক থিয়েটার গড়ে উঠলেও, পাকিস্তান আমলে বাঙালি সংস্কৃতি, বিশেষ করে নাটককে নিরুৎসাহিত এবং অনেক ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করা হতো। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয় বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। নাট্যকর্মীরা এ সুযোগটি পুরোপুরি গ্রহণ করে সূচনা করল নবনাট্যচর্চার ধারা। প্রতিবেশী দেশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তখন গ্রুপ থিয়েটার চর্চা তুঙ্গে। সেটাও আমাদের নাট্যকর্মীদের উৎসাহিত করল এ দেশে নিয়মিত নাট্যচর্চা শুরু করতে। আমাদের নাট্যদলগুলোকে আমরা অভিহিত করি গ্রুপ থিয়েটার হিসেবে। কিছু নাট্যামোদী সমমনা মানুষ একত্রিত হয়ে একটা নাটকের দল গঠন করি, যারা অবাণিজ্যিক ভিত্তিতে ভালো নাটক ভালোভাবে মঞ্চস্থ করতে চাই। আমার জানামতে, উপমহাদেশের বাইরে আমাদের মতো গ্রুপ থিয়েটার চর্চা অনুপস্থিত। নন-প্রফিট থিয়েটার, অ্যামেচার থিয়েটার, ফ্রিঞ্জ থিয়েটার, অফ ব্রডওয়ে, অফ অফ ব্রডওয়ে, কমিউনিটি থিয়েটার- এ ধরনের নানা অভিধায় চিহ্নিত করা হয় এসব থিয়েটারকে। বিদেশিদের কাছে আমাদের থিয়েটারকে পরিচিত করতে একটা কথা আমি প্রায়ই বলি যে, অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণে আমরা মঞ্চনাটকে পেশাদার হতে পারি না; কিন্তু পেশাদারি দক্ষতার সঙ্গে আমরা নাটক করি। এটা আমাদের ভালোবাসার থিয়েটার, সামাজিক দায়বদ্ধতার থিয়েটার। তথাকথিত বাণিজ্যিক থিয়েটার নয়। বাংলাদেশ বা ভারতে এখন পর্যন্ত আমাদের এই গ্রুপ থিয়েটারই মূলধারার থিয়েটার। বিদেশ থেকে যখন নাটকের মানুষ আমাদের দেশে এসে নাটক দেখে এবং গ্রুপ থিয়েটার চর্চা সম্পর্কে অবহিত হয়, তখন তারা বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান- কী করে এত হাজার হাজার নাট্যকর্মী কোনো রকম টাকা-পয়সা না পেয়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর এভাবে নাটক নিয়ে মেতে থাকে!

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের সময়ে সবচেয়ে গৌরবের ঘটনা; আবার অপরিসীম ত্যাগ ও বেদনারও বটে। বাংলাদেশের এমন কোনো পরিবার কি খুঁজে পাওয়া যাবে, যারা কোনো না কোনোভাবে ১৯৭১ সালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি? গোটা দেশের মানুষ একাত্ম হয়ে পরাধীনতা থেকে, পাকিস্তানি বর্বরতা থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিল। ব্যতিক্রম ছিল মুষ্টিমেয় স্বাধীনতাবিরোধী বিকৃত মানসিকতার মানুষ। স্বাভাবিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের নাটকে অনিবার্য হয়ে উঠল। প্রথমদিকে মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মূল্যবোধের অবক্ষয় আর পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী কর্মকাণ্ড দেশে প্রশাসন থেকে গণমাধ্যম- সর্বত্র যখন মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের আস্টম্ফালন, ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু যখন নির্বাসিত, বিকৃত ইতিহাস গড়ার অপচেষ্টায় যখন রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়; তখন মঞ্চ থেকে স্বাধীনতার চেতনার কথা, মূল্যবোধের কথা, সত্যিকারের ইতিহাসের কথা নির্ভয়ে উচ্চারিত হলো। স্বাভাবিকভাবে দেশের সাধারণ মানুষ এসব মঞ্চনাটককে স্বাগত জানাল। আমাদের সবচেয়ে বড় গর্ব, নাট্যকর্মীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা। এ দায় তারা স্বেচ্ছায় নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। কারণ, তারা বিশ্বাস করেন, মানুষের জন্যই শিল্প। তাই তাদের আকাঙ্ক্ষা শোষণহীন, মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি সমাজ। সে সমাজ গঠনে সহায়ক শক্তি হিসেবে তারা কাজ করতে চান। সব অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করতে চান। সে লড়াই শিল্পের লড়াই, সমাজে মানবিকতাবোধ আবার জাগিয়ে তোলার লড়াই। অনেক সময় শিল্পের মাধ্যমে অন্যায়-অবিচারের প্রতিবাদ যথেষ্ট মনে হয় না; তখন রাজপথে নামতে হয়। সবাই মিলে একজোট হয়ে আন্দোলন করলে দুঃশাসনের অবসান হয়- বাংলাদেশের ইতিহাস এ সাক্ষ্যই দেয়। নাট্যকর্মীদের এই জনসম্পৃক্ততা আমাদের নাটককে জনপ্রিয় হতে সাহায্য করেছে। সব শিল্পের মূলে রয়েছে মানুষ- এ জীবনবোধ আমাদের সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে কাজ করে। নাটকের মধ্যে তা আরও বেশি। কারণ জনগণের কাছ থেকে দূরে বসে একাকী হয়তো কাব্যচর্চা করা যায়, ছবি আঁকা যায়; কিন্তু নাটক করা যায় না। নাটক একদিকে যেমন যৌথ শিল্প, অন্যদিকে জীবন্ত মানুষের সামনে অভিনীত হওয়ার লক্ষ্যে সৃষ্ট শিল্প। বেশিরভাগ নাটকই রচিত হয় সমকালে সমসাময়িক মানুষের সামনে অভিনীত হওয়ার জন্য। সে কারণে আমাদের দেশের বেশিরভাগ মৌলিক নাটক সমসাময়িক জীবনের হাসি-কান্না, আকাঙ্ক্ষা-বঞ্চনা, গৌরব-হতাশার কথা বলে।

অনেকেই জানতে কৌতূহলী- বিশ্বনাট্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের নাটকের অবস্থান কোথায়? এর জবাব দেওয়া শক্ত। প্রত্যেক দেশেই নিজস্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও সমসাময়িকতার পটভূমিতে নাটক অভিনীত হয়। বিদেশে অনেক ব্যয়বহুল প্রযোজনা দেখে আমাদের কাছে অর্থহীন মনে হয়েছে। কিন্তু তাদের বিবেচনায় নিশ্চয় প্রযোজনাটির একটি কার্যকারণ রয়েছে। তবে সব দেশেই বাণিজ্যিক থিয়েটারের বাইরে বড় বড় ভালো থিয়েটার চলে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়। যেমন ইংল্যান্ডে ন্যাশনাল থিয়েটার, বারবিকান সেন্টার, গ্লোব থিয়েটার বা রয়াল শেকসপিয়র কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানকে আর্টস কাউন্সিলের মাধ্যমে সরকার ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে থাকে। তাদের বাজেটের ৮০ শতাংশ আসে এসব অনুদান থেকে। বাকি ২০ শতাংশ টিকিট বিক্রি থেকে। জার্মানির ন্যাশনাল থিয়েটারগুলোর ক্ষেত্রেও তাই। আমেরিকাতে অবশ্য ন্যাশনাল থিয়েটার নেই। যেমন নেই ভারতেও। ইরান বা চীনে বেশিরভাগ থিয়েটার চলে সরকারি অর্থানুকূল্যে। তবে সেসব জায়গায় কী ধরনের থিয়েটার হবে, সে সম্পর্কে লিখিত-অলিখিত নিয়ন্ত্রণ আছে। ন্যাশনাল থিয়েটার বলতে সাধারণত আমাদের চোখে বড় বড় স্থাপনার কথা ভেসে আসে। কিন্তু আফ্রিকার সুদানে গিয়ে আমার সে ভ্রান্তি নিরসন হলো। আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশেই ন্যাশনাল থিয়েটার হচ্ছে একটা সাদামাটা মঞ্চ, যার ওপর টিনের ছাউনি, দু’পাশে দুটি বড় ঘর। দর্শকের আসন মঞ্চের সামনে খোলা আকাশের নিচে। আরব দেশগুলো আজকাল নাটকের জন্য অনেক আধুনিক স্থাপনা তৈরি করেছে। তবে সেখানে নিয়মিত নাট্যচর্চার কোনো ধারা এখনও গড়ে ওঠেনি। এই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যে নাট্যচর্চা করি, তা খণ্ডকালীন। পুরো সময়টা আমরা মঞ্চনাটকে দিতে পারি না। কারণ এ থেকে জীবিকা নির্বাহ করা যায় না। তবে আমরা যদি সার্বক্ষণিক নাট্যকর্মী হতে পারতাম, তবে হয়তো নাটকের মান অনেক উন্নত হতো। এখানে একটা কথা বলে রাখি, উন্নত বিশ্বেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা নাটকের স্কুল থেকে নাটক বিষয়ে শিক্ষা লাভ করে ৮০ শতাংশের বেশি ছাত্রছাত্রী থিয়েটারে সার্বক্ষণিক কাজের সুযোগ পায় না। আমাদের মতোই ভিন্ন পেশা অবলম্বন করে জীবিকা নির্বাহ করে; তবে সুযোগ পেলেই নাটকে ঢুকে পড়ে। বিদেশে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত তরুণরা নাটকের সঙ্গে যুক্ত হয়। আমাদের দেশে আমরা কাজ করতে করতে শিখি। যাদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে তারা নবাগতদের শেখান। আজকাল অবশ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নাট্যকলার কোর্স শেষ করে ছেলেমেয়েরা বেরোচ্ছে। তবে তাদের কম সংখ্যকই মূলধারা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কারিগরি ক্ষেত্রে স্বাভাবিক কারণেই আমাদের নাটক তুলনামূলক পিছিয়ে আছে; কিন্তু বিষয়বস্তু বা অভিনয়ের স্বতঃস্ম্ফূর্ততায় আমাদের নাটক বিশ্বনাট্যাঙ্গনে নিজেদের পরিচিতির জানান দিতে পেরেছে।

মঞ্চনাটকের ক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা আমাদের দেশে অনুল্লেখ্য। আমাদের প্রকৃত পৃষ্ঠপোষক দর্শক। বাংলাদেশের নবনাট্যচর্চার যে বড় অর্জন ছিল দর্শক সৃষ্টি, তা এখন আমরা নানা কারণে হারাতে বসেছি। ঢাকা মহানগরীর কথাই ধরি। এখানে সিংহভাগ মানুষ আছেন, যারা জীবনে কোনোদিন মঞ্চনাটক দেখেননি। শুধু একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে আমরা তাদের কাছে পৌঁছাতে পারি না। আজকাল ঢাকায় যে অসহনীয় যানজট তাতে মিরপুর বা উত্তরা থেকে দু’ঘণ্টা-দু’ঘণ্টা চার ঘণ্টা সময় ব্যয় করে সেগুনবাগিচায় এসে দেড়-দুই ঘণ্টার নাটক দেখা রীতিমতো দুঃসাধ্য। ভালো নাটকের সংবাদ তাদের কাছে পৌঁছানোর কোনো মাধ্যম নেই। তারকাখ্যাতি অর্জন করেছেন, এমন বেশি শিল্পী মঞ্চে অভিনয় করেন না। তাই বাড়তি কোনো আকর্ষণও নেই। এখন নিখরচায় টেলিভিশন, ইউটিউব বা ওয়েবভিত্তিক কনটেন্ট থেকে যখন যেভাবে ইচ্ছা বিকল্প বিনোদনের দ্বার উন্মুক্ত। পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টিকোণ থেকে যদি বিবেচনা করি তবে দেখব, পুঁজিবাদী সমাজে নিজস্ব প্রচার বা লাভ ছাড়া কেউ বিনিয়োগে উৎসাহী নয়। খেলায় পৃষ্ঠপোষকতা করলে প্রচার পাওয়া যায়; কিন্তু নাটকের দর্শক সীমিত বলে পৃষ্ঠপোষকরা আগ্রহী হন না। নাটককে আবার স্বাস্থ্য-শিক্ষার মতো করপোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির আওতায়ও গণ্য করেন না। কারণ সংস্কৃতিতে বিনিয়োগের ফল তাৎক্ষণিক চোখে দেখা যায় না। আমাদের থিয়েটারের এখন প্রধান সংকট দুটি- দর্শকস্বল্পতা ও মানসম্পন্ন প্রযোজনার স্বল্পতা। মানবসম্পদ সৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে থিয়েটারের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে হবে। দর্শক যাতে বৃদ্ধি পায় তার জন্য ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন প্রান্তে নাটক করার উপযোগী মঞ্চ তৈরি করতে হবে এবং প্রচারের নানা মাধ্যম খুঁজে বের করতে হবে, যাতে নাটকের খবরটা মানুষের কাছে পৌঁছে। অর্থই যে শুধু আমাদের থিয়েটারকে বাঁচাতে পারবে- এ কথা আমি বিশ্বাস করি না। এই মুহূর্তে যান্ত্রিক সভ্যতা আর মানব সভ্যতা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। আর আমাদের দেশে আমরা এখনও প্রযুক্তি ব্যবহারে নবিশই বলা চলে। যেদিন এই প্রযুক্তিকে আমাদের পুরোপুরি জানা হয়ে যাবে, সেদিন আবার আমরা নিশ্চিতভাবে ফিরে আসব প্রাণের কাছে। সে কারণেই, একজন শিল্পী মঞ্চে নাটক করে যে প্রাণের স্পর্শ পান, যে তৃপ্তি পান; অন্য কোনো মাধ্যমে তা লাভ করা যায় না। আমাদের ঐতিহ্যের পথ ধরে অর্থকে প্রাধান্য না দিয়ে মানবিক জায়গা থেকে আমরা নিশ্চয় থিয়েটারকে অনন্য শিল্পমাধ্যম হিসেবে টিকিয়ে রাখতে পারি। বিশ্বে একটা অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করতে পারি। এমন দিনের কল্পনা কি আমরা করতে পারি না, যখন প্রতিটি প্রতিভাবান নাট্যজন ভাববেন- মঞ্চে নাটক না করলে আমার শিল্পীজীবন অসম্পূূর্ণ; আর প্রতিটি দর্শক ভাববেন, মঞ্চে নতুন নাটক না দেখলে আমার চিন্তার খোরাক জুটবে না, আমার সন্তানের রুচিবোধ তৈরি হবে না! সব হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে যদি আমরা সত্যনিষ্ঠ হয়ে শক্ত পায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি, তবে নিশ্চয় সংকট কেটে যাবে। তার জন্য প্রয়োজন ভালো নাটক ভালোভাবে করে যাওয়া- এর কোনো বিকল্প নেই।

[সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে প্রদত্ত অধ্যাপক সিতারা পারভীন স্মারক বক্তৃতা, ঈষৎ সংক্ষেপিত]

সূত্র: সমকাল

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ৩:৪০ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৪ জুলাই ২০১৮

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Dhaka University Centennial & New Beginnings
(13552 বার পঠিত)
স্বামী তুমি কার?
(12861 বার পঠিত)
দল বেঁধে সৈকতে
(1424 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997