মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

ট্রাম্পের নতুন নীতিতে ঝুঁকির মুখে কিউবার অর্থনীতি

অনলাইন ডেস্ক :   |   রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭   |   প্রিন্ট   |   818 বার পঠিত

ট্রাম্পের নতুন নীতিতে ঝুঁকির মুখে কিউবার অর্থনীতি

কিউবায় মার্কিন নাগরিকদের ব্যবসা ও ভ্রমণের সুযোগ আরো কমিয়ে দেশটির সঙ্গে নতুন সম্পর্কনীতি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মধ্য দিয়ে কিউবার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে পূর্বসূরির বিপরীত অবস্থান নিলেন তিনি। প্রেসিডেন্টের এ সিদ্ধান্তটি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায় গ্রুপসহ কিউবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সীমিত সম্পর্ক কিউবাবাসী ও দেশটির ছোটখাটো ব্যবসায়ীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠার আশা করা হলেও বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এটি হিতে বিপরীত হয়ে উঠতে পারে। খবর ব্লুমবার্গ ও এএফপি।

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মিয়ামিতে কিউবার সঙ্গে নতুন সম্পর্কনীতি ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নীতিমালায় নতুন করে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে করে এখন থেকে কিউবার সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রয়েছে, এমন কোনো কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না আমেরিকানরা। কিউবা অর্থনীতিতে  সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ‘কিউবার সঙ্গে আমাদের সাবেক প্রশাসনের একপেশে চুক্তিটি আমি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করলাম।’

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর মধ্য দিয়ে তার নির্বাচনী প্রচারণায় দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করলেন। তিনি বলেন, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে কিউবা অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। ওবামা প্রশাসন কিউবার সঙ্গে অর্ধশতকের শীতলতা ভেঙেছিল। কিন্তু তা সাধারণ কিউবাবাসীর উপকারে আসেনি; শুধু দেশটির একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীই সুবিধা পেয়েছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশির ভাগ সময় সমর্থন জুগিয়ে আসা খোদ ইউএস চেম্বার অব কমার্স কিউবার সঙ্গে নতুন সম্পর্কনীতির সমালোচনা করেছে। চেম্বারের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সংস্থাটির আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান মেরন ব্রিলিয়ান্ট এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি নতুন গৃহীত পদক্ষেপটির কারণে দ্বীপরাষ্ট্রটির অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ল। খোলাখুলি বলতে গেলে নতুন সিদ্ধান্তটির মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গণতান্ত্রিক এক কিউবা গঠনে যুক্তরাষ্ট্রের খুব একটা আগ্রহ নেই।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কিউবার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক অনেকটাই সহজ করে এনেছিলেন। যার সুবাদে আনকোরা এ দেশটিতে ব্যবসা চালু করতে অনেক মার্কিন কোম্পানিই আগ্রহী হয়ে ওঠে। ব্যবসার সুযোগ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানিরই কিউবায় আনাগোনা শুরু হয়ে যায়।

যন্ত্রাংশ উত্পাদক ক্যাটারপিলার ইনকরপোরেশনের সিইও দউগ ওবামহেম নিজেদের পণ্য বিক্রির সম্ভাবনা যাচাইয়ে গত বছর কিউবা ঘুরে যান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কিউবার সঙ্গে যুক্ত থাকলে ব্যবসার অনেক সুযোগ সৃষ্টি হবে, এ বিষয়ে ক্যাটারপিলার নিশ্চিত।

কিউবায় বিনিয়োগ করতে হলে সেনাসমর্থিত ব্যবসায় গ্রুপ জিএইএসএকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তার নেয়া সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এ ‘নিষ্ঠুর’ প্রশাসনকে সমুচিত জবাব দেয়া হয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তে কিউবার পর্যটন খাত বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হবে। কারণ কিউবার পর্যটন খাতটি জিএইএসএর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এতে করে পর্যটন নির্ভরশীল কিউবার অর্থনীতি ও প্রবৃদ্ধি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেসঙ্গে জিএইএসএর অধীনে থাকা ছোটখাটো অনেক ব্যবসা ও বেসরকারি ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কিউবার অর্থনীতিবিদ পাভেল ভিদাল বলেন, ‘বর্তমানে কিউবার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম উত্স পর্যটন ও বেসরকারি খাত। মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেয়া সিদ্ধান্তটি এ খাতের জন্য বড় ধরনের আঘাত হানবে।’

তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত কোম্পানিগুলো পর্যটন খাতের দায়িত্বে রয়েছে। তাই বিদেশী বিনিয়োগ ও অর্থ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর ক্ষমতা খর্ব করা হলে তা দেশের অর্থনীতিতেই প্রভাব ফেলবে।

কিউবা প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর জামাতা লুইস রদ্রিগেজ লোপেজ-ক্যালেজাস পরিচালিত জিএইএসএর অনেক বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ব্যবসা রয়েছে। যার মধ্যে ম্যারিয়ট হোটেল চেইন অন্যতম। কিউবার সঙ্গে নতুন সম্পর্কনীতিতে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছে স্টারউড হোটেল। অন্যদিকে নীতিমালা পরিবর্তনের আভাস পেয়ে কিউবার শীর্ষ ৫৫ ব্যবসায়ীর একটি গ্রুপ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কন্যা ও উপদেষ্টা ইভাংকা ট্রাম্প বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা সম্পর্কের ক্ষেত্রে পিছু হটলে অনেক ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আর এসব ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর দুর্দশার কোনো শেষ থাকবে না।

তবে কিউবার সঙ্গে ওবামা প্রশাসনের নেয়া সব উদ্যোগ ঝেড়ে ফেলেননি ট্রাম্প। এর মধ্যে হাভানায় মার্কিন দূতাবাস চালু এবং প্রমোদতরী ও উড়োজাহাজ সংস্থা হয়ে দ্বীপরাষ্ট্রটিতে সরাসরি ভ্রমণের মতো নীতিগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরগুলোও নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রয়েছে। তবে নতুন নিষেধাজ্ঞায় কিউবা ভ্রমণ কঠিন হয়ে উঠবে; ফলে ফ্লাইট ও প্রমোদতরীতে ভ্রমণ চাহিদাও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিউবা ভ্রমণ শেষে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বিপুল সংখ্যক কিউবান রাম ও সিগার দেশে নিয়ে আসার নীতিমালাতেও পরিবর্তন আসেনি। এছাড়া আমেরিকায় বাস করা কিউবার নাগরিকের দেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সরবরাহ সম্প্রসারণ কর্মসূচিও অব্যাহত রাখা হবে বলে জানা গেছে।

তবে নতুন পরিবর্তনগুলো এখনই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নীতিমালাগুলো খসড়া হিসেবে উপস্থাপন করতে প্রশাসনকে ৩০ দিন সময় দিয়েছেন। আর এগুলো বাস্তবায়নের সময় নির্দিষ্ট করা হয়নি। বনিক বার্তা-

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ৩:৪৮ অপরাহ্ণ | রবিবার, ১৮ জুন ২০১৭

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997