মঙ্গলবার ২৬ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

চিরবিদায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের

এনা :   |   সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   12773 বার পঠিত

চিরবিদায় সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০০ বছর। স্থানীয় সময় ২৯ ডিসেম্বর (রবিবার) জিমি কার্টার সেন্টার এক বিবৃতি এই তথ্য জানিয়েছে। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন জো বাইডেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ দেশটির রাজনীতিবিদরা।

এক বিবৃতিতে জিমি কার্টারের ছেলে চিপ কার্টার বলেন, আমার বাবা একজন নায়ক ছিলেন; শুধু আমার কাছেই নন, যারা শান্তি, মানবাধিকার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন এমন সবার কাছেই।

কার্টারের যাত্রা শুরু হয়েছিল জর্জিয়ার একটি ছোট্ট শহর প্লেইন্সে। তিনি সেখানে ১ অক্টোবর, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীতে একজন অফিসার হিসেবে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরের পারমাণবিক সাবমেরিন বহরের উন্নয়নে সহায়তা করেছিলেন। পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে কার্টার পারিবারিক চিনাবাদাম চাষের ব্যবসা চালানোর জন্য ১৯৫৩ সালে তার নিজ শহরে ফিরে আসেন।

জিমি ১৯৬০-এর দশকে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত রাজ্যের ৭৬তম গভর্নর হওয়ার আগে জর্জিয়ার প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

১৯৭৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কার্টার জেরাল্ড ফোর্ডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পরিপ্রেক্ষিতে রিচার্ড নিক্সন পদত্যাগ করার পরে রাষ্ট্রপতির পদে অভিষিক্ত হন। কার্টার ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৮০ সালের নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে পরাজিত হন জিমি।

নিজের জন্মস্থান জর্জিয়ার প্লেইনসে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নিজ বাড়িতে হাসপাতালের সুবিধাসম্পন্ন বিশেষ যত্নে ছিলেন কার্টার। এই ছোট শহরটিতেই তিনি বেড়ে উঠেছিলেন এবং পিচ স্টেটের গভর্নর ও হোয়াইট হাউসে অভিষিক্ত হওয়ার আগে এখানে একটি বাদাম ফার্ম হাউস পরিচালনা করতেন।

কার্টার সেন্টার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জিমি কার্টার শান্তিপূর্ণভাবে প্লেইনসে তার বাড়িতে আত্মীয়স্বজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ছেলে চিপ কার্টার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমার বাবা একজন ‘নায়ক’ ছিলেন, শুধু আমার কাছেই নয় যারা শান্তি, মানবাধিকার ও স্বার্থহীন ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন তাদের সবার কাছে তিনি এমনটি ছিলেন।”

২০১৫ সালে দক্ষিণাঞ্চলীয় এই ডেমোক্র্যাটের ব্রেইন ক্যানসার ধরা পড়ে। তার একক মেয়াদকালে জিমি কার্টার ছিলেন মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিতপ্রাণ। মেয়াদের প্রথম দুই বছরে তার সফলতার মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল ও মিশরের মধ্যে শান্তিচুক্তি স্থাপনের বিষয়টি, যা ইতিহাসে ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি নামে সমধিক পরিচিত। তবে তার সমালোচনাও কম হয়নি। ইরানে মার্কিন পণবন্দিদের মুক্তির বিষয়ে ১৯৮০ সালে তার ব্যর্থ উদ্যোগ বেশ সমালোচনার জন্ম দেয়। এছাড়া তেল সঙ্কট নিয়েও সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে।

১৯৮২ সালে জিমি কার্টার তার কূটনৈতিক উদ্দেশ্য প্রকাশে কার্টার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০২ সালে জিমি কার্টার তার সামাজিক ও আর্থিক ন্যাবিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়াসের জন্য নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি একজন সক্রিয় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ সুনাম কুড়াতেও সক্ষম হন।

জিমি কার্টারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ বিষয়ে এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, ‘জিমি কার্টার তার কাজের মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করেছেন, যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। আর এসব কারণেই সারা বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে…তিনি ছিলেন অনন্য।’

উল্লেখ্য, দেশটির ইতিহাসে জিমিই প্রথম শতবর্ষী প্রেসিডেন্ট। মৃত্যুকালে চার সন্তান ও ১১ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন তিনি। তার স্ত্রী রোসালিন ২০২৩ সালে মারা যান।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১:২৩ অপরাহ্ণ | সোমবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997