শনিবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

জ্যামাইকায় দুর্বৃত্তের উৎপাত বেড়েছে

এনা :   শনিবার, ০৯ মার্চ ২০২৪ 12692
জ্যামাইকায় দুর্বৃত্তের উৎপাত বেড়েছে

কুইন্সের জ্যামাইকায় গ্যাংয়ের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সেখানকার বাসিন্দারা। এই গ্যাং এলাকার উঠতি বয়সী কিশোর, তরুণ ও তরুণীদের যেমন টার্গেট করছে, তেমনি বিভিন্ন বয়সীদেরও ছাড়ছে না। এলাকার অনেকেই বিষয়গুলো দেখছেন, জানছেন কিন্তু তেমন কিছুই করতে পারছেন না। অনেকেই এলাকার একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে গিয়েও সেখানকার নেতাদের কাছে বিষয়গুলো জানাচ্ছেন। তারা এ বিষয়ে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। সেখানে অভিভাবকদের যেমন সতর্ক করছেন, এলাকাবাসীকেও সতর্ক করছেন। সেই সঙ্গে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীদেরও সতর্ক করছেন। এলাকার মুরব্বিরাও সেখানে উপস্থিত থাকছেন। সম্প্রতি জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে এ ধরনের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জ্যামাইকায় ওই গ্যাং দ্বারা একাধিক ঘটনার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন মানুষ। তাদেরকে মারধরও করা হয়েছে। হামলার শিকার হওয়া সেখানকার এক তরুণের অভিভাবক বলেন, জ্যামাইকায় গ্যাং গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে বাঙালি কমিউনিটির কিছু ছেলেও সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছে। তারা এলাকার বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করছে। মারধর করে আহত করছে, ছিনতাই করছে, হত্যার হুমকি দিচ্ছে। গাড়ি দিয়ে গতিপথ রোধ করছে। পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ওই গ্যাং সদস্যরা দামি দামি গাড়ি হাঁকাচ্ছে। মানুষের ওপর চড়াও হচ্ছে ও হামলা করছে। এগুলো কমিউনিটি নষ্ট করছে। আমার ছেলেকে মেরে কয়েকদিন আগে রক্তাক্ত করেছে। আমরা মামলাও করেছি। এসব গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তাদের শাস্তি হলে অন্যরা সতর্ক হবে। অপরাধ করতে দ্বিধাবোধ করবে। এখন অনেকেই সন্ধ্যার পর এলাকায় চলতে ভয় পান। ভয়ে থাকেন কখন জানি আক্রমণের শিকার হন।

এই গ্যাং ছাড়াও এলাকায় কিছু নতুন মুখ দেখা যাচ্ছে, যারা চুরিসহ বিভিন্ন ধরনের ছোটখাটো অপরাধ করছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক ব্যবস্থা নিয়েছেন। সিসি ক্যামেরা লাগাচ্ছেন। চুরি ঠেকানোর জন্য সিকিউরিটি নিয়োগ করা হয়েছে।

জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি আফতাব উদ্দিন মান্নান জানান, উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ হতাশার কারণে জড়িয়ে যাচ্ছে নানা অপরাধমূলক কাজে। দিন যত যাচ্ছে, তা তত বাড়ছে। অনেক পরিবারেই বাবা-মা এত বেশি ব্যস্ত থাকেন যে সন্তানদেরকে যথাযথ সময় দিতে পারেন না। এ কারণে সন্তানেরা একাকিত্বে ভুগছে। এই একাকিত্ব থেকেও অনেকেই নানা সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। এ ছাড়া তারা যাদের সঙ্গে মিশছে, সেখান থেকেও কেউ কেউ অপরাধমূলক গ্যাংয়ে যুক্ত হয়ে পড়ছে। একটি সন্তানের বেড়ে ওঠার জন্য যে আদর-যত্ন, যে পরিবেশ দরকার, অনেক সময় তারা সেটিও পাচ্ছে না। পারিবারিক অনেক সমস্যার কারণেই সন্তানেরা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকছে। নিজেকে গুরুত্বহীন মনে করছে। অযত্ন, অবহেলার কারণেও অনেক সন্তান বিপথে চলে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করেন। সন্তানেরা যখন বড় হতে থাকে, তখন তাদেরকে কথা বলার সুযোগ দিতে হবে। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। আমরা এলাকার আইনশৃঙ্খলার বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছি। আমাদের কিশোর ও তরুণ বয়সের সন্তানদের মধ্যে যারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ করছে, সেগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। তারাও বিষয়টি দেখছে। আমরা অভিভাবকদের সঙ্গেও কথা বলেছি। সন্তানদের কোনো সমস্যা হলে সেগুলো নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান করতে হবে। চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হলে তাও নিতে হবে। বিষয়গুলো চেপে রেখে তা বাড়ানোর সুযোগ দেওয়া যাবে না। সমস্যা লুকিয়ে রাখলে সমাধান হবে না।

আল মামুর স্কুলের চেয়ারম্যান এবং জেএমসির পরিচালনা পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল আফতাব উদ্দিন মান্নান বলেন, যখন একটি এলাকায় কমিউনিটি গ্রো করে, তখন কিছু কিছু ঘটনা ঘটে। অনেক সময় টার্গেট করেও করা হয়। বাঙালি কমিউনিটির কিছু সন্তান ওই টার্গেটের শিকার হচ্ছে। তারা গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়াচ্ছে। জ্যামাইকায় দুটি হাইস্কুল পুলিশ পাহারায় থাকে। সেখানে দুর্ঘটনা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় পুলিশ থাকে। হাইস্কুলে কি পুলিশ থাকার কথা? স্কুলের স্টুডেন্টের কাছে ড্রাগ, অস্ত্র এগুলো কি থাকার কথা? কিন্তু আছে। অপরাধে জড়ানোর আরও একটি কারণ হচ্ছে নতুন আসা অনেক সন্তান এখানে অ্যাডজাস্ট করতে হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে আসার পর এখানে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবেও সমস্যায় পড়ছে। আবার অনেক বাবা-মা সন্তানকে শাসন করছেন, মারধর করছেন, ক্লাসে ফার্স্ট হওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। এগুলোও সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কয়েক দিন আগে আমার এক নেইবারহুড অভিযোগ করেন, তার বাসার পাশে কিছুু ছেলে ভ্যাপিং করে, মারিজুয়ানা সেবন করে। এতে অন্য মানুষের সমস্যা হয়। আমরা বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। পুলিশ বলছে, ভ্যাপিং ও মারিজুয়ানা তো এখানে লিগ্যাল। এ কারণে তারা কিছু করতে পারছে না। আসলে অনেক কিছুতেই সমস্যা আছে। আমরা চেষ্টা করছি ইয়ুথদের জন্য কাউন্সেলিং, ভলেনটিয়ারিংসহ বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করতে, যাতে করে তারা কিছু শিখতে পারে।

মাওলানা ও ইমাম কাজী কাইয়ুম বলেন, উঠতি বয়সী সন্তানদের মধ্যে অনেকেই সমস্যায় আছে। কিন্তু বাবা-মা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পরিবার ও নিজেদের মান-সম্মানের কথা চিন্তা করে অনেক কিছুই গোপন রাখেন। তারা যে কত বড় ভুল করছেন, সেটা তারা পরে বুঝতে পারছেন। পরিবারে একটি সন্তানকে বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সুযোগ দিতে হবে সামাজিক পরিবেশে বড় হওয়ার। তার মধ্যে পারিবারিক ও সামাজিক দায়িত্ববোধগুলোও তৈরি করতে হবে। তাদেরকে বুঝতে হবে, সে একা নয়, তার পরিবার আছে। তাদের কথা তাকে ভাবতে হবে। পরিবারকেও সন্তানদের কথা শুনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা জ্যাকসন হাইটসের তুলনায় জ্যামাইকায় গ্যাংয়ের কথা বেশি শুনি। উঠতি বয়সী বেশ কয়েকটি তরুণ হঠাৎ মারা গেল। আমরা মনে করি, পরিবারের উঠতি বয়সী সন্তানদের সমস্যা হলে তাদেরকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানের জন্য যে ভালো পরিবেশ দরকার, তার কথার মূল্য দেওয়া দরকার এবং তার সুযোগ-সুবিধাগুলো নিশ্চিত করা দরকার, সেটি করতে হবে। তার সঙ্গে ভালো আচরণ করতে হবে। তাকেও পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় মূল্যবোধ শেখাতে হবে। সন্তানদের সামনে বাবা-মায়ের ঝগড়া-বিবাদ পরিহার করতে হবে। একটি সন্তান যেন বোঝে, সে তার পরিবারে নিরাপদ। অনেক সময় স্কুল থেকেও কিশোররা বিভিন্ন ধরনের গ্যাংয়ে মিশে যাচ্ছে। সন্তান কোন স্কুলে যাচ্ছে, সেখানে পরিবেশ কেমন, সে কাদের সঙ্গে মিশছে, এটাও অভিভাবককে দেখতে হবে।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ৯:৪১ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৯ মার্চ ২০২৪

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

 

President/Editor-in-chief :

Sayeed-Ur-Rabb

 

Corporate Headquarter :

 44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA, Phone : +6463215067.

Dhaka Office :

70/B, Green Road, 1st Floor, Panthapath, Dhaka-1205, Phone : + 88-02-9665090.

E-mail : americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2024Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997