মঙ্গলবার ২১ মার্চ, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ | ৭ চৈত্র, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

গতি ফিরেছে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে

এনা অনলাইন :   শনিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩ 12704
গতি ফিরেছে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে

নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ড সিটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেটের অভ্যর্থনা কক্ষে তখন ৫০-৬০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি অপেক্ষা করছেন। তাদের কেউ এসেছেন পাসপোর্টের আবেদনপত্র জমা দিতে। আবার কেউ এসেছেন নো-ভিসা নিতে। কেউ কেউ এসেছিলেন সাধারণ তথ্য জানতে। কনস্যুলেটের ঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী ওই সময় অধিকাংশ কর্মকর্তা জুমার নামাজের বিরতিতে ছিলেন।

সেখানকার চারটি কাউন্টারের তিনটি বন্ধ ছিল। তবে জরুরি পরিষেবার জন্য খোলা ছিল একটি কাউন্টার। অপেক্ষমান সেবাগ্রহীতাদের সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছিলেন কনস্যুলেটের ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব চ্যান্সেরি ইসরাত জাহান। তিনি সেবার মনোভাব নিয়ে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন সেবাগ্রহীতাদের।

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের এই দৃশ্য এখন সচরাচরই চোখে পড়ে। সেবাগ্রহীতারাও খুশী কনস্যুলেটের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সেবা পেয়ে। কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর গতি ফিরে পায় কনস্যুলেটের কাজে। ডেপুটি কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসান এবং ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব চ্যান্সেরি ইসরাত জাহানসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রচেষ্টায় কনস্যুলেটের সেবাকে সহজতর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সার্বক্ষণিক পরিষেবামূলক কর্মকাণ্ড তদারকি করছেন সিনিয়র কর্মকর্তারা। তারা সেবা গ্রহীতাদের সমস্যার সমাধান দিচ্ছেন খুব সহজভাবেই। তবে অনেকের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছেন না কর্মকর্তারা। আইনের জটিলতা ও বিধি-বিধানের কারণে অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। এরমধ্যে অন্যতম পাসপোর্ট ও জন্মসনদের নাম পরিবর্তন। এসব ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মকে অনুসরণ করতে হয় কনস্যুলেটের। ফলে শতভাগ খুশীমন নিয়ে অনেকেই ফিরতে পারছেন না।

দুই বছর আগে বিপরীত চিত্র ছিল নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে। সাধারণ প্রবাসীদের এন্তার অভিযোগ ল কনস্যুলেটের সেবার মান নিয়ে। পাসপোর্টের আবেদন করে সময়মত পাসপোর্ট পাওয়া ছিল দুরূহ বাপার। নানান অজুহাতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে তখন। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাটসহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে দূরের পথ অতিক্রম করে কনস্যুলেটে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে গেছেন অনেকে, এমন নজির অহরহ। কনস্যুলেটে ফোন করলে কেউ তখন ধরতো না। কোনো সহায়ক তথ্য মিলতো না। এমনকী করোনা মহামারীর সময় বহু প্রবাসী মানি অর্ডারসহ ডাকযোগে পাসপোর্ট এবং নো-ভিসার আবেদন করেছিলেন কনস্যুলেটে। অনেকের আবেদন তখন খোয়া যায়। ওই সময় এক অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কনস্যুলেটে ৭০ হাজার ডলারের অনিয়ম। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এ ঘটনা তদন্ত করে কয়েকজন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করেছিলেন। পরে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু প্রধান অভিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত কর্মকর্তা দেশে ফিরে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একজন নেতার সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই আওয়ামী লীগ নেতার সঙ্গে তিনি যৌথ অংশীদারিত্বে ব্যবসা করছেন, যখন তিনি ফার্স্ট সেক্রেটারির (পাসপোর্ট ও ভিসা) দায়িত্বে ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন শাস্তি পাওয়া ওই কর্মকর্তা।

নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে সেবা নিতে আসা একাধিক বাংলাদেশির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা কনস্যুলেটের বর্তমান সেবার মান নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে বাংলাদেশের আইন ও বিধি-বিধানের ফাঁদে পড়ে অনেকে অনেক ধরনের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং দুর্ভোগে পড়ছেন। এজন্য ঢাকার সংশ্লিষ্ট বিভাগের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।

নিউজার্সি থেকে আসা আহম্মেদ আলী জানান, তিনি দেড় বছর আগে দ্বৈত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। দেশে তদন্তের নামে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বাড়িতে যাচ্ছে। তারা নানাভাবে হয়রানি করছে। ঘুষ দাবি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জন্মসনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট থাকার পরও একজন বাংলাদেশি কেন দ্বৈত নাগরিকত্ব পাবেন না তা বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সরকারের উচিত এসব সমস্যার সমাধান করা।

নিউইয়র্কের জ্যামাইকা থেকে আসা মাসুদ রহমান বলেন, তিনি গত ছয় মাস ধরে জন্মসনদ সংশোধন করার জন্য কনস্যুলেটে ঘুরছেন। কিন্তু কনস্যুলেট কোনো ধরনের সাহায্য করতে পারছে না। কারণ এটি বিধি-বিধানের ফাঁদে পড়েছে।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কাজের গতি ফিরে পাওয়া প্রসঙ্গে ফার্স্ট সেক্রেটারি ও হেড অব চ্যান্সেরি ইসরাত জাহান বলেন, আমরা সরকারি চাকরি করার ব্রত নিয়ে কাজ করছি। আমাদের কাজ মানুষকে সেবা দেওয়া। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে আমরা যারা কাজ করি, সবাই আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি। তিনি বলেন, সেবা একটি মহৎ কাজ। এমন মহৎ কাজ করলে অন্যরকম আনন্দ পাওয়া যায়।

তিনি জানান, কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম অত্যন্ত বিচক্ষণ, কর্মঠ ও পেশাদার একজন কূটনীতিক। তিনি সার্বক্ষণিক নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের প্রতিটি কাজ তদারকি করেন। নিজে সেবা গ্রহীতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। কার কী সমস্যা আছে জানতে চান এবং প্রয়োজনীয় সমাধান দেন। এখানে উল্লেখ্য, কনসাল জেনারেল বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তার অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেলের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি কনসাল জেনারেল এসএম নাজমুল হাসান। নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে সেবার মানোন্নয়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে এসএম নাজমুল হাসান বলেন, কনস্যুলেটে আমরা সর্বোচ্চ সেবাটুকু দেওয়ার চেষ্টা করি। একজন সেবাগ্রহীতা যাতে হাসিমুখে সেবা নিয়ে ফিরে যেতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টাই করি।

তিনি জানান, নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে প্রতিদিন গড়ে তিনশ আবেদন জমা পড়ে। সেবার মান বাড়াতে আমরা একদিনেই নো-ভিসাসহ পাসপোর্ট ডেলিভারি দিচ্ছি। এছাড়া যাদের ডিজিটাল জন্মসনদ দরকার তাদের দু-একদিনের মধ্যেই জন্মসনদ দিতে পারছি।

ভারপ্রাপ্ত কনসাল জেনারেল জানান, জরুরি প্রয়োজনে যে কোনো প্রবাসী অফিস সময়ের বাইরেও সেবা নিতে পারছেন। যেমন- কোনো প্রবাসী মারা গেলে সপ্তাহের যে কোনো দিন, শনি বা রোববার হোক- প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করছি। এছাড়া জরুরিভাবে কারো দেশে যাবার জন্য নো-ভিসার প্রয়োজন হলে আমরা সেই সেবাটাও দেবার চেষ্টা করি।

তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় দেখা যায় যে নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের আওতাধীন নয়, এমন এলাকা থেকেও অনেক প্রবাসী সেবা নিতে আসেন। আমরা তাদেরও স্বাচ্ছন্দে সেবা দেই। তিনি জানান, নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে কর্মকর্তারা অত্যন্ত আন্তরিক মনোভাব নিয়ে কাজ করেন। আর এ কারণেই সেবার মান দিন দিন বাড়ছে বলে জানান নাজমুল হাসান।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১১:১৫ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

 

President/Editor-in-chief :

Sayeed-Ur-Rabb

 

Corporate Headquarter :

 44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA, Phone : +6463215067.

Dhaka Office :

70/B, Green Road, 1st Floor, Panthapath, Dhaka-1205, Phone : + 88-02-9665090.

E-mail : americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2023Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997