বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগেও বাংলাদেশি অফিসারের সংখ্যা বাড়ছে

এনা অনলাইন :   |   মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২   |   প্রিন্ট   |   12880 বার পঠিত

নিউইয়র্ক পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগেও বাংলাদেশি অফিসারের সংখ্যা বাড়ছে

পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সপরিবারে ডিডেক্টিভ মাসুদ।

নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অফিসারদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন উচ্চপদে তারা দায়িত্ব পালন করছেন। পরীক্ষায় উন্নীত হয়ে পদোন্নতি লাভ করছেন। বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ শাখা গোয়েন্দা বিভাগেও বাংলাদেশি অফিসারদের সংখ্যা বাড়ছে। অপরাধ দমন এবং মামলার তদন্তসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজে গোয়েন্দারা মূখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন।

গত এপ্রিল ১ শুক্রবার গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত তিনজন বাংলাদেশি আমেরিকান তৃতীয় গ্রেড থেকে সম্মানজনক দ্বিতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশি একজন অফিসার গোয়েন্দা বিভাগে তৃতীয় গ্রেডে পদোন্নতি পেয়েছেন। এছাড়াও ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল ২ থেকে অ্যাসোসিয়েট ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট লেভেল ১-এ উন্নীত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

গোয়েন্দা বিভাগে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, মাসুদ রহমান, মোহম্মদ হোসেন, মোহাম্মদ আলী এবং আসহাফিক চৌধুরী।
ট্রাফিক বিভাগে পদোন্নতিপ্রাপ্তরা হলেন, মোহাম্মদ আর ইসলাম, সুলতানা জাহান, কার্তিক মল্লিক, এমডি আর ইসলাম, ফারজানা মোতাইদ, আবরুর আর খান। ওয়ান পুলিশ প্লাজায় এক অনুষ্ঠানে তাদের পদোন্নতির সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। পুলিশ কমিশনার কিচেন্ট সেওয়েল, চিফ অব ডিপার্টমেন্ট কেনেথ কোরিসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত গোয়েন্দা মাসুদ রহমান ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের নোয়াখালি থেকে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার পিতার নাম নুরুল ইসলাম। তিনি বিএমসিসি থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ২০০২ সালে তিনি একজন পুলিশ অফিসারের পদে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন। তিনি পুলিশ বিভাগে কাজের পাশাপাশি, বিভিন্ন সুযোগে বাংলাদেশি কমিউনিটির সেবা করে চলেছেন। অপরাধ তদন্ত কাজের পাশাপাশি ডিটেক্টিভ মাসুদ রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য অনেক দেশের জন্য একজন বিশিষ্ট সুরক্ষা কর্মকর্তা হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি তার কর্মের জন্য নিউইয়র্ক সিটির অন্যান্য কমিউনিটি বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সুপরিচিত এবং সম্মানিত।

ডিটেক্টিভ মোহম্মদ হোসেন ১৯৯০ সালে তার পরিবারের সদস্যদের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে আগমন করেন। তার পিতার নাম আব্দুল খালিক। তারা সিলেটের বিয়ানীবাজারের আরিজখাটিলা গ্রামের অধিবাসী। তিনি হাইস্কুল ফর হেলথ প্রফেশনস অ্যান্ড হিউম্যান সার্ভিসেস থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির লেহম্যান কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন।

ডিটেকক্টিভ হোসেন সম্পর্কে তার সাবেক সুপারভাইজার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক বলেন, ‘ডিটেক্টিভ হোসেন একজন স্মার্ট, বিশদভিত্তিক, প্রতিভাবান এবং অস্বাভাবিকভাবে তার কাজের প্রতি নিবেদিত। আমি তার সাফল্য কামনা করছি এবং আমি আনন্দিত তার এই পদোন্নতিতে।

অপর ডিটেকক্টিভ মোহাম্মদ আলী ১৯৯৭ সালে ডাইভারসিটি ভিসা জয় করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। তার পিতা মোহাম্মদ মোক্তার হোসেন মজুমদার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত উপসচিব। ডিটেকক্টিভ আলী যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হওয়ার আগে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক হন। ম্যানহাটন কমিউনিটি কলেজ থেকে অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি শেষ করার পর তিনি কম্পিউটার বিজ্ঞান এবং গণিতে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন নিউইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটি ব্রুকলিন কলেজে। তিনি ২০০৬ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন এবং ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে একটি বিশেষ ইউনিটে নিয়োগ পান। তিনি ২০০৮ সালে গোয়েন্দা বিভাগের তৃতীয় গ্রেড পদে উন্নীত হন। দিলরুবা জাহান-আলী দম্পতির তিনটি সন্তান রয়েছে।

গোয়েন্দা আসহাফিক চৌধুরীর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। তার বাবার নাম সেলিম চৌধুরী এবং মায়ের নাম শাহনাজ চৌধুরী। তার বাবা-মা ফেনী জেলার বাসিন্দা। তিনি বেঞ্জামিন কার্ডোজো হাই স্কুল থেকে স্নাতক হন এবং সিটি কলেজে প্রাক-আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তিনি ২০১৭ সালে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। ২০১৯ সালে তিনি তখন পেট্রোল বরো কুইন্স নর্থ অ্যান্টি-ক্রাইম টিমে কাজ যোগদান করেন এর পরে তাকে কুইন্সের জ্যামাইকার ১০৩তম ডিটেকটিভ স্কোয়াডে পুলিশ অফিসার হিসাবে এবং সম্প্রতি গোয়েন্দা পদে পদোন্নতি পান।

এদিকে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি ক্যাপ্টেন কারাম চৌধুরী এক বিবৃতিতে পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, একজন ডিটেকটিভ দ্বিতীয় গ্রেড পাওয়া কঠিন। বাংলাদেশি আমেরিকান যারা গোয়েন্দা বিভাগে পদোন্নতি পেয়েছেন তাদের কাজ অনুকরণীয় এবং তারা আমাদের গর্ব, কমিউনিটির গর্ব।
বাপার পক্ষ থেকে ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এরশাদুর সিদ্দিক এবং জেনারেল সেক্রেটারি লেফটেনান্ট প্রিন্স আলম পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

এনওয়াইপিডি এখন বাংলাদেশি আমেরিকানদের কাছে আকর্ষণীয় পেশায় পরিণত হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়জয়কার উল্লেখ করে বাপা’র মিডিয়া লিয়াজোঁ ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি জানান, বর্তমানে আনুমানিক ১৪৫০ জন বাংলাদেশি এনওয়াইপিডির বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। যাদের মধ্যে ৪ জন ক্যাপ্টেন, ১ জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার, ৯ জন লেফটেন্যান্ট, কয়েক ডজন সার্জেন্ট, ডিটেক্টিভ এবং পুলিশ অফিসারসহ ৪৫০ জন ইউনিফর্ম অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও এনওয়াইপিডিতে প্রায় ১ হাজার ১০০ সিভিলিয়ান লোক নিযুক্ত রয়েছেন তারা স্কুল সেফটি এজেন্ট, ট্রাফিক এজেন্ট, স্কুল ক্রসিং গার্ড হিসাবে কর্মরত এবং সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১১:২৮ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল ২০২২

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997