এনা অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | 249 বার পঠিত
করোনাভাইরাসে গত বছর প্রবাসে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়েছিল। ঈদের দিন কেটেছে ঘরবন্দি হয়ে। নতুন পোশাকের প্রতিও কারো ছিল না তেমন আকর্ষণ। পোশাকের দোকানগুলোতে ছিল না কেনাবেচা। এ বছর চিত্র পাল্টে গেছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় এবার ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে পোশাকের বাজার। বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের পোশাকের বিপুল সমারোহ বিভিন্ন দোকানে।
তবে, ভারতে করোনা মহামারী ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় লকডাউনে আটকা পড়েছে পোশাকের চালান। লকডাউনের কারণে এবং বিকল্প পথে পণ্য আনতে গিয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার ঈদের আগে নারীদের কিছু জনপ্রিয় পোশাকের দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ স্ট্রিটের জনপ্রিয় ফ্যাশন হাউজ পিরাণ-এর কর্ণধার জেড আলম নমি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত বছর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। মানুষ ঘর থেকে বের হননি। তবে এবারের ঈদে ফ্যাশন হাউজগুলো অনেকটা ব্যস্ত থাকবে। নতুন পোশাকেরও বিপুল সমারোহ রয়েছে। তিনি জানান, এবারের ঈদে মেয়েদের পোশাক ‘শারারা’ ও ‘ঘরারা’র বিপুল চাহিদা রয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশি জামদানি শাড়িরও চাহিদা রয়েছে এবারের ঈদে।
প্রতিষ্ঠার তিন বছরে নিউইয়র্কে জনপ্রিয়তা পেয়েছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফ্যাশন হাউজ গো অ্যান্ড গিফট। অনলাইনে তাদের পণ্য কেনার পাশাপাশি উডসাইডে রয়েছে তাদের বিশাল শোরুম। নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাহারী পোশাক রয়েছে গো অ্যান্ড গিফটে।
প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম মাতুব্বর জানান, প্রতিষ্ঠার প্রথম বছরেই জনপ্রিয়তা পেয়েছে গো অ্যান্ড গিফট। কিন্তু গত বছর অনলাইনে বেচাকেনা চললেও উডসাইডের স্টোর বন্ধ ছিল। তবে এ বছর অনলাইনে ভাল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।স্টোরেও বিক্রি শুরু হয়েছে। তিনি জানান, ঈদ উপলক্ষে গো অ্যান্ড গিফটে বিপুল পোশাকের সমারোহ রয়েছে। নারীদের পোশাক পাকিস্তানি সালোয়ার কামিজ আগা নূরের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া পুরুষের পাঞ্জাবিরও বিশাল কালেকশন রয়েছে তাদের প্রতিষ্ঠানে। বাংলাদেশি জামদানি এবং ভারতের কাতান শাড়িও পাওয়া যায় গো অ্যান্ড গিফটে। তবে লকডাউনের কারণে ভারত থেকে অনেক পণ্যই সময়মত আসতে পারছে না। ঈদের আগে সব পণ্য না এলে পোশাকের বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জনপ্রিয় পোশাকগুলোর দাম কিছুটা বাড়তে পারে।
জ্যাকসন হাইটসের ৭৪ স্ট্রিটের সাভারিয়ায় ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন পোশাকের বিপুল সমারোহ ঘটেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে সাভারিয়ায় নারীদের পোশাক ‘রামশা’র ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
৩৭ অ্যাভিনিউর স্মৃতি ফ্যাশনের অন্যতম কর্ণধার রিজিয়া সুলতানা জানান, ঈদ উপলক্ষে স্মৃতি ফ্যাশনে নারীদের পোশাক আয়েশা, রামশা, লভিল, জেবটান, ধানাক, লুনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা এসে এসব পোশাককে খুঁজছেন। তিনি জানান, এবারের ঈদে ভারত থেকে তাদের নতুন নতুন পোশাক অর্ডার করেছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে সব এলোমেলো হয়ে গেছে। যে প্রতিষ্ঠানে অর্ডার দেওয়া হয়েছে সেটির মালিক করোনায় মারা গেছেন। অন্যদিকে লকডাউনের কারণে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় অনেক পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছতে পারছে না। এ অবস্থায় ঈদের আগ মুহূর্তে পোশাকের ঘাটতি হতে পারে। স্মৃতি ফ্যাশনে বাহারী পোশাক ছাড়াও চাঁদ রাতের মেহেদী এবং পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে চুরি ও গহনা পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান রিজিয়া সুলতানা। এদিকে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ঈদের বাজার জমতে শুরু করেছে। ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি অধ্যুষিত স্টারলিং এলাকায় রয়েছে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফ্যাশন হাউজ নিষাদ এলিগ্যান্ট, ফ্যাশন প্রতিদিন, রেমন্ড ফ্যাশন এবং টাঙ্গাইল শাড়ি ঘর। প্রতি ঈদের আগে এসব প্রতিষ্ঠানে ভিড় লেগেই থাকে। এবারের ঈদে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের জনপ্রিয় পোশাকগুলো স্থান পেয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলোতে।
ব্রঙ্কসের সিনিয়র সাংবাদিক হাবিব রহমান জানান, ঈদ এলে ব্রঙ্কসের বাংলাদেশিরা আগে জ্যাকসন হাইটসে যেতেন। কিন্তু ব্রঙ্কসবাসী এখন জ্যাকসন হাইটসে না গিয়েই তাদের পছন্দের পোশাক কিনতে পারছেন।
নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় ৮-১০টি বাংলাদেশি মালিকানাধীন ফ্যাশন হাউজ রয়েছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য আল-হামরা কালেকশন, পারিমিতা, রেওয়াজ অন্যতম। এসব প্রতিষ্ঠানে ঈদ উপলক্ষে বিপুল কালেকশন রয়েছে নিত্য নতুন পোশাকের।
Posted ৩:৫৫ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল ২০২১
America News Agency (ANA) | ANA