নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : | শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১ | প্রিন্ট | 284 বার পঠিত
সামর্থ থাকার পরও অনেক ভাড়াটিয়া ইচ্ছে করেই সময়মতো ভাড়া দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ নিউইয়কের্র অনেক বাড়িওয়ালার। এমন কি তারা ইউটিলিটি বিলও পরিশোধ করছেন না। ফলে বাধ্য হয়ে তাদেরকে ভাড়াটিয়ার ফ্ল্যাটের বিলও দিতে হচ্ছে। একদিকে বাড়িভাড়া না পাওয়ার কারণে বাড়িওয়ালাদের আয় যেমন কমেছে, তেমনি তারা সময় মতো মর্টগেজ দিতে পারছেন না। যেসব বাড়িওয়ালা শুধু বাড়ি ভাড়ার উপর নির্ভরশীল, তারা কষ্টে দিনযাপন করছেন। ফেডারেল ও স্টেট সরকার থেকে দেনার দায়ে পড়া বাড়ি ফোরক্লোজারে করা যাবে না- এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার কারণে কোন বাড়ি ফ্লোরক্লোজার হচ্ছে না। এটি বন্ধ রাখা না হলে এতদিনে অনেক বাড়িই ব্যাংক কিংবা লোন কোম্পানিগুলো ফোরক্লোজারে তুলে দিতে বাধ্য হতেন।
অভিযোগ রয়েছে, কোন কোন ভাড়াটিয়া প্যান্ডামিকের সময়ে কাজ হারালেও বেকার ভাতা পেয়েছেন, স্টিমুলাস চেক পেয়েছেন তিন দফায়, ট্যাক্স ফাইল করার পর রিটার্নও পেয়েছেন। এত অর্থ পাওয়ার পরও তারা বাড়িওয়ালার ভাড়ার অর্থ পরিশোধ করছেন না। ভাড়া চাইলে পরে দেবেন বলে ৩ থেকে দশমাস পর্যন্ত ভাড়া দিচ্ছেন না। এক সময়ে আর্থিক সংকটের অজুহাতে ভাড়া পরিশোধ না করেই চলে যাচ্ছেন। বাসা ছাড়ার সময়ে যে ফোন নম্বর দিয়ে যাচ্ছেন, পরে সেই নম্বর বন্ধ করে দিচ্ছেন। ফলে বাড়িওয়ালা তাকে আর খুঁজে পাচ্ছেন না। শোনা যায়, কেউ কেউ ভাড়ার অর্থ না দিয়ে বাড়ির মালিক বনে যাচ্ছেন। মুভ করছেন অন্য স্টেট কিংবা এলাকায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়া দিতে না পারা ভাড়াটিয়াকে বাসা থেকে বের করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ছেন। ১/২ দিনের নোটিশে ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ায় অনেক সময় সময়মতো নতুন ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না। ফলে এক থেকে দুইমাস বাসা খালি থাকছে। এতে করে তাদের লোকসান বাড়ছে। শুধু তাই নয়, ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা সংস্কার খাতেও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। আবার এখন মানুষের আয় কমে যাওয়ায় আগে যে পরিমাণ অর্থ বাড়িভাড়া থেকে পেতেন, সেটাও পাচ্ছেন না। ভাড়াটিয়ার অভাবে অনেকে তাই বাধ্য হয়ে ভাড়া কিছুটা কমিয়ে হলেও ভাড়া দিচ্ছেন।
অভিযোগ রয়েছে, যেসব ভাড়াটিয়া আট থেকে দশমাস বাসা ভাড়া দিচ্ছেন না, তারা বাসা ছেড়ে দিয়ে সে অর্থ ও বেকারভাতাসহ বিভিন্ন সহায়তার অর্থ মিলিয়ে নতুন বাড়ি কিনছেন! কেউ কেউ সিটি ছেড়ে বাফেলো কিংবা অন্য স্টেটেও বাড়ি কিনে চলে গেছেন।
সাউথ জ্যামাইকার একজন ভুক্তভোগী বাড়িওয়ালা বলেন, আমার বাসার ভাড়াটিয়া আটমাস ভাড়া দেননি। নোটিশ দেয়ার পরও যাননি। কিন্তু কিছুই করার ছিল না। পরে বাড়িভাড়া না দিয়েই বাসা ছেড়ে চলে গেছেন। এ জন্য আমাকে বিশাল লোকসান গুনতে হয়েছে।
গ্রান্ড সেন্ট্রালের কাছে অবস্থিত পারসন্সের একজন বাড়িওয়ালা বলেন, পরিচিত মানুষকেই বাড়িভাড়া দিয়েছিলাম, কিন্তু প্যান্ডামিকের মধ্যে কয়েকমাস বাড়িভাড়া না দিয়ে ওই ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়েছেন। বিপাকে পড়তে হয়েছে আমাদেরকে। তারা হঠাৎ করে অল্প সময়ের নোটিশ দিয়ে বাসা ছাড়ার কারণে আর একটি ভাড়টিয়া ঠিক করে যে ভাড়া দেবো, সেটাও করা যায়নি।
জ্যামাইকার একজন বাড়িওয়ালা বলেন, আগে আমার তিন বেডরুমের বাসার ভাড়া ছিল (বিল ছাড়া) ২৬০০ ডলার। হঠাৎ ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ায় তিনমাস খালি ছিল, সমপরিমাণ অর্থ না পেলে ভাড়া দেব না বলে অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু ভাড়াটিয়া না পাওয়ায় পরে বাধ্য হয়ে ৪০০ ডলার কমিয়ে ২২০০ ডলারে দিতে হয়েছে। এখন বছরে ৪৮০০ ডলার লোকসান গুনতে হবে, কিন্তু কিছুই করার নেই। ভাড়াটিয়া যে অর্থ দিচ্ছে, তা দিয়েই মর্টগেজ দিচ্ছি। আমি ফরবিয়ারেন্স নেইনি। চিন্তা করেছি ফরবিয়ারেন্স মানেতো আর লোন মওকুফ না। এক সময় দিতেই হবে। এ কারণে কম ভাড়া দিয়ে কষ্ট করে হলেও মর্টগেজ চালিয়ে নিচ্ছি।
জ্যাকসন হাইটসের একজন বাড়িওয়ালা বলেন, করোনার কারণে আমার একাধিক বাড়িতে বাসা ও রুম খালি রয়েছে। কিন্তু মাসের পর মাস ভাড়াটিয়া পাচ্ছি না। কিন্তু এখন কিছুই করার নেই। চেষ্টা করেই যাচ্ছি। লোকসান চলছে।
খ্যাতনামা একটি ট্যাক্স অফিসের কর্ণধার ও বাড়ির মালিক বলেন, আমার উডসাইডসহ বিভিন্ন জায়গায় বাসা আছে। করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আগের মতো ভাড়াটিয়া নেই, অনেকেই নিউইয়র্ক ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। ফলে আগের মতো সহজেই ভাড়াটিয়া মিলছে না। আবার যে ভাড়া ছিল, সেটাও মিলছে না। এখন ঠিক করেছি ভাড়া কিছু কম হলেও দিয়ে দেবো। বাসা খালি রাখলে লোকসান হবে। আমার একাধিক বাসা, বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে বলে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছি। ১৯০০ ডলারের বাসা ১৮০০ ডলার হলে কিংবা আর একটু কম হলেও দিয়ে দেব ঠিক করেছি।
ব্রায়ারউডের একজন বাড়িওয়ালা চার সপ্তাহ চেষ্টা করেও ভাড়াটিয়া পাচ্ছেন না। তিন বেডরুমের বাসা ভাড়া অনেক কম চাইলেও ভাড়াটিয়া পাননি।
তিনি বলেন, যে ভাড়টিয়া ছিলেন তিনি অর্থ কষ্টে থাকার কারণে ঠিকমতো ভাড়া দিতে পারছিলেন না। এরপর বাসা ছেড়ে দেন। একমাসের নোটিশে বাসা ছেড়ে দেয়ার কারণে ভাড়াটিয়া মিলছে না। এখন ঠিক করছি কিছু কম হলেও দিয়ে দেব।
কিছু সংখ্যক ভাড়াটিয়া অ্যাপার্টমেন্টে বাসা ভাড়া নিয়ে প্যান্ডামিকের সময়ে ঠিকমতো ভাড়া দেননি। এই রকম একজন বলেন, আমরা যে বিল্ডিংয়ে থাকি, গত বছর এক সময়ে দেখলাম অনেকেই ভাড়া দিচ্ছেন না। তারা মনে করেছেন, ভাড়া মওকুফ হবে। কিন্তু যখন দেখলাম অন্য অনেকেই দিচ্ছেন না, তখন আমরাও ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দিই। কিন্তু কয়েকমাস বন্ধ রাখার পর দেখলাম এটা ঠিক হচ্ছে না। অ্যাপর্টমেন্ট অথরিটি নোটিশ দেন বাসাভাড়া পরিশোধের। এরপর সেটি পরিশোধ করতে হয়েছে। চিন্তা করেছি ভাড়া যেহেতু দিতেই হবে, তাই সময়মতো দিয়ে দেয়াই ভাল। কারণ এখন ইভিকশন বন্ধ আছে। যখন এটা উঠে যাবে, তখন ভীষণ খারাপ অবস্থা হবে। যেসব ভাড়াটিয়া ভাড়া না দিয়ে থেকেছেন, তাদেরকে কোর্টের মাধ্যমে মার্শাল দিয়েও খুঁজে বের করা হতে পারে। এতে তার রেপুটেশনও খারাপ হবে। অন্য জায়গা ভাড়া নিতে গেলে তখন সমস্যায় পড়বেন। এ কারণে সবারই সতর্ক হওয়া উচিত। যার যা পাওনা, তা সময়মতো দিয়ে দেয়াই উচিত। কারো প্রাপ্য পাওনা না দেয়াটা পাপও। করেনায় চলে গেলেতো পাপ নিয়ে মরতে হবে। সেই চিন্তাও করতে হবে।
ব্র্রঙ্কস প্ল্যানিং বোর্ড-৯-এর সদস্য ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান এবং ল্যান্ড এন্ড জোনিং কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, করোনার মধ্যে বেশিরভাগ মানুষের আয় স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেড়েছে। তারপরও এক পরিবারের তিনজন বেকার ভাতা পেয়েও বাসা ভাড়া দিচ্ছেন না। আবার একজন একা আয় করেও বাসা ভাড়া দিচ্ছেন। এটি আসলে নৈতিকতার বিষয়। এখন কঠিন সময় যাচ্ছে, এ সময়ে সবাইকে সবার প্রতি মানবিক হতে হবে। বাড়িওয়ালাদেরও দেখতে হবে তার ভাড়াটিয়া সত্যিকার অর্থে বিপদে পড়েছেন কিনা। ভাড়া দেয়ার সামর্থ নেই এমন অবস্থায় রয়েছেন কিনা। যদি এমন হয়, তাহলে আলোচনা করেই দুই পক্ষ একটি সমঝোতায় আসতে পারেন। আর যাদের অন্তত যে অর্থটুকু না হলে তিনি মর্টগেজ কিংবা বিল দিতে পারবেন না, সেটুকু বাড়িওয়ালাকে দেয়ার অনুরোধ করতে পারেন। ভাড়াটিয়ার উচিত হবে বাড়িওয়ালার সাথে খোলাখুলি কথা বলা। আয় থাকলে বাড়িওয়ালার অর্থ পরিশোধ করে দেয়া উচিত। কারণ বাড়িওয়ালাদের কষ্টটাও বুঝতে হবে। এখন সবার সবার প্রতি সহানুভ‚তিশীল না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়বে। কোন ভাড়াটিয়া একজনের বাড়িতে আট থেকে দশমাস ভাড়া থেকে অর্থ না দিয়ে চলে গিয়ে অন্যত্র বাড়ি কেনাটা অবশ্যই সততার পরিচয় বহন করে না। ন্যায় ও সততা একটি বড় বিষয়। অন্যকে কষ্ট দিয়ে সুবিধা নিয়েছেন মনে করে আত্মতৃপ্ত হওয়ার কিছু নেই। ভাড়া না দিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যাওয়াটা বেআইনী, অন্যায় ও অমানবিক।
উল্লেখ, নিউইয়র্কে করোনা রোধ করতে বাড়িওয়ালা যাতে ভাড়াটিয়াকে বাসা থেকে বের করে দিতে না পারেন- সে কারণে ইভিকশন বন্ধ করা হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত কাউকে বাসা থেকে বের করা যাবে না। কোন ভাড়াটিয়া যদি বাড়ি ভাড়া না দিতে পারেন, এ জন্য তাকে যেমন বাসা ছাড়ার নোটিশ দিতে পারবেন না, সেই সাথে তাকে বাড়ি বা বাসা থেকে বের করে দেয়ার জন্য আদালতে কোন আইনী ব্যবস্থাও নিতে পারবেন না। ফেডারেল সরকার করোনা বাড়তে থাকায় ইভিকশন বন্ধ রেখেছে। নিউইর্য়ক স্টেট থেকেও ইভিকশন বন্ধ রাখা হয়েছে। গত বছর মার্চে করোনা শুরু হওয়ার পর থেকে কয়েক দফায় ইভিকশন বন্ধ রাখার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। বাড়িওয়ালাও যাতে বিপদে না পড়েন এবং ভাড়াটিয়া ভাড়া দিতে না পারলে তারা যাতে মর্টগেজ দেয়া নিয়ে ঝামেলায় না পড়েন, সেজন্য বাড়িওয়ালাদের জন্য ফরবিয়ারেনন্স-এর সুযোগ দিয়েছেন। অনেক বাড়িওয়ালা ফরবিয়ারেন্সের সুযোগ নিয়েছেন। দফায় দফায় ব্যাংকের সাথে কিংবা মর্টগেজ কোম্পানির সাথে আলোচনা করে ফরবিয়ারেন্সের সময় বাড়িয়েছেন। ফলে এখন তাদেরকে মর্টগেজের মাসিক অর্থ দিতে হচ্ছে না। যারা ফরবিয়ারেন্স নিয়েছেন, তারা পরবর্তীতে মর্টগেজের অর্থ পরিশোধ করবেন। এজন্য লোনের মেয়াদ শেষ হওয়ার সময়ের সাথে যত মাস তারা মর্টগেজ দিতে পারবেন না, সেই অর্থ যোগ করে দেয়া হবে। তবে সেজন্য অতিরিক্ত ইন্টারেস্ট দিতে হবে না।
হাব ব্যাংকের ইসমাইল আহমেদ বলেন, যারাই ফরবিয়ারেন্স নেবেন, তারা ব্যাংক কিংবা মর্টগেজ কোম্পানির সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন। প্রয়োজনে লোনের কারেন্ট স্ট্যাটাস রাখতে কিছু অর্থ দিতে হলে সেটাও দেবেন। না হলে পরবর্তীতে এগুলো ক্রেডিট রিপোর্টে অ্যাফেক্ট করবে।
এ কারণে মর্টগেজ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা ফরবিয়ারেন্স নিয়েছেন, তারা কারেন্ট স্ট্যটাস করে রাখলে, আশা করা হচ্ছে, কোন সমস্যা হবে না, পরে পরিশোধ করতে পারবেন। এছাড়াও এখন সরকার কোন বাড়ি ফোরক্লোজারে দেয়াও বন্ধ রেখেছে। ইভিকশন বন্ধ থাকার কারণে একদিকে বাড়িওয়ালা যেমন ভাড়াটিয়াদের উচ্ছেদ করতে পারছেন না, তেমনি ব্যাংক ও মর্টগেজ কোম্পানিও যাতে মর্টগেজের অর্থ না পেলে বাড়ি কিংবা বাসা ফ্লোরক্লোজার করতে না পারে, সেই ব্যবস্থাও সরকার নিয়েছে। এ ব্যবস্থার পাশাপাশি ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের আমেরিকা রেসকিউ রিলিফ বিলে সরকার বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত- সেই অর্থ দেয়া শুরু হয়নি।
মোহাম্মদ এন মজুমদার আরো বলেন, রেন্ট রিলিফের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না এখনও। তবে আইন পাস হয়েছে। এর আগে নিউইয়র্কের ভাড়াটিয়াদের জন্য বাড়িভাড়ার সুবিধা দেয়া হয়েছিল। যাদের আয় ৫০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছিল, তারা যোগ্য হলে কিছু অর্থ পেয়েছেন। যদিও অনেকেই বেকারভাতা পাওয়ার কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তাদের আয় বেড়ে যাওয়ায় রেন্ট রিলিফ পাননি। এ কারণে অনেক ক্ষেত্রে সব অর্থ ভাড়াটিয়াদের মধ্যে বিরতণ করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার বলা হচ্ছে, এক বছরের মধ্যে যেসব ভাড়াটিয়া বাসা কিংবা বাড়ি ভাড়া দিতে পারেননি, তাদেরকে সহায়তা দেয়া হতে পারে। সেটা কেমন করে দেয়া হবে- তা পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানানো হবে।
Posted ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল ২০২১
America News Agency (ANA) | ANA