এনা অনলাইন : | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ | প্রিন্ট | 707 বার পঠিত
বৈশ্বিক মহামারীর মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা আর জালিয়াতির মামলায় এক সপ্তাহ ধরে পলাতক রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ স্থা্নীয় ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দেবহাটা সীমান্তবর্তী কোমরপুর গ্রামের লবঙ্গবতী নদীর তীর থেকে একটি গুলিভর্তি পিস্তলসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র্যাব-৬ এর সাতক্ষীরা ক্যাম্পের অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি বজলুর রশিদ জানান।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ বলেন, “সাহেদ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টায় ছিল। আর কিছুক্ষণ দেরি হলে হয়ত তাকে আর পাওয়া যেত না। হেলিকপ্টারে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে।”
বিতর্কিত ব্যবসায়ী সাহেদ এই সাতক্ষীরারই ছেলে। গত ৬ ও ৭ জুলাই উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতাল এবং রিজেন্ট গ্রুপের প্রধান দপ্তরে র্যাবের অভিযানের পর থেকে তিনি লাপাত্তা ছিলেন।
কোভিড-১৯ পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর ওই হাসপাতালে অভিযান চালায় র্যাব। জানা যায়, ‘কোভিড ডেডিকেটেড’ হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আসা এ চিকিৎসালয়ের লাইসেন্সের মেয়াদই পার হয়ে গেছে বহু আগে।
অভিযানে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট, করোনাভাইরাস চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার পর রিজেন্ট হাসপাতালের উত্তরা ও মিরপুর শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
র্যাবের ওই অভিযানের পর রিজেন্টের মালিক মোহাম্মদ সাহেদের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খবরও সংবাদমাধ্যমে আসতে শুরু করে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহসম্পাদক পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কীভাবে তিনি নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন, সেসব তথ্যও এখন গণমাধ্যমে আসছে।
নৌকায় করে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাহেদ
এ সময়ের আলোচিত রিজেন্ট হাসপাতাল প্রতারণা মামলার প্রধান আসামি ও রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. সাহেদ সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত দিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তিনি জিন্সের প্যান্ট ও নীল রঙের শার্টের ওপর কালো রঙের বোরকা পরে ছিলেন। এমন অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যা্বের সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-১) বজলুর রশীদ এ তথ্য জানান।
বজলুর রশীদ বলেন, সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশের লবঙ্গবতি নদীর পাড় থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। নদীর ঠিক ধারে একটি নৌকা রাখা ছিল। ওই নৌকায় উঠে ভারতে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সাহেদ। ঠিক সে সময় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
সাহেদের কাছ থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে বলে জানান র্যাব কর্মকর্তা। গ্রেপ্তারের পর সাহেদকে সাতক্ষীরা জেলা স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁর জন্য হেলিকপ্টার রাখা আছে। ওই হেলিকপ্টারে করে সাহেদকে ঢাকায় নিয়ে আসছে র্যাব।
বজলুর রশীদ বলেন, ‘র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য ছিল সাহেদ তাঁর নিজ জেলা সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সদর দপ্তর থেকে গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ স্যারেরা এখানে এসেছেন। সারারাত ধরে আমরা সীমান্ত এলাকায় আমাদের টহল জোরদার করি। রাতভর অভিযান শেষে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে আমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হই।’
এদিকে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক আশিক বিল্লাহ বলেন, ‘আজ বুধবার ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে র্যাবের বিশেষ অভিযানে সাতক্ষীরার দেবহাটা সীমান্ত এলাকা থেকে মো. সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁর কাছে অবৈধ বিদেশি পিস্তল ও গুলি পাওয়া গেছে।’
Posted ৩:০১ অপরাহ্ণ | বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০
America News Agency (ANA) | Payel