এনা : | মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | 12787 বার পঠিত
প্রবাসীরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। তারা যে বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি, তা বার বার প্রমাণ করেছেন। কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো সরকারই প্রবাসীদের দিকে সুনজর দেয়নি, বরং মুখে রেমিট্যান্স যোদ্ধা বললেও কার্যত তাদের অবহেলা করেছে। দেশে বা প্রবাসে, সবখানেই প্রবাসীরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। রাষ্ট্রের কোনো সেবা নিতে গেলেই তাদের প্রাপ্য দূরে থাক- সাধারণের চেয়ে বেশী অর্থ গুণতে হচ্ছে।
ঢাকার উত্তরা-১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক ফ্ল্যাট নির্মাণ করছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত আয়ের মানুষের জন্য। সেখানে বৈদেশিক মূদ্র অর্জনকারী হিসাবে প্রবাসীদের কোটা রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রবাসী হলেও আবেদন করার সময়ই গুণতে হবে আড়াই লাখ টাকা বেশী ফি। এরপর অন্যান্য খরচও প্রবাসীদের বেলায় বেশী প্রযোজ্য।
মোহাম্মদ শাহজাহান মৃধা নামে একজন প্রবাসী ঠিকানার কাছে অভিযোগ করেন, তিনি রাজউকের প্লটে আবেদন করতে গিয়ে দেখেন, প্রবাসী হলেই আবেদন ফি আড়াই লাখ টাকা বেশী। অর্থাৎ একজন বাংলাদেশি আবেদন ফি চার লাখ এবং প্রবাসী হলে সাড়ে ৬ লাখ টাকা। এমনকী প্রবাসীদের জন্য ফ্ল্যাটের মূল্য বেশী পরিশোধ করতে হবে।
তিনি জানতে চান, প্রবাসীদের ক্ষেত্রে কেন আলাদা নিয়ম হবে? কেন বেশী টাকা দিতে হবে? মাথার ঘাম পায়ে ফেলে প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে অর্থ উপার্জন করেন। সেই অর্থ দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সমৃদ্ধ করেন। অথচ দেশে আমাদের পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থার অবসান হওয়া দরকার।
প্রবাসী তারিফ হাসান অভিযোগ করেন, শুধু দেশে নয়, প্রবাসে বাংলাদেশি মিশন ও কনস্যুলেটে বাংলাদেশিদের সেবার নামে হয়রানি করা হয়। এসব মিশন ও কনস্যুলেটে যারা কাজ করেন তারা নিজেদের রাজা এবং প্রবাসীদের প্রজা মনে করেন। এমনকী যে কোনো সেবা নিতে গেলেও ফি দ্বিগুণ, এমনকী কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন-চার গুণ বেশী। তিনি বলেন, একজন বাংলাদেশি পাসপোর্ট করতে গেলে ৪২০০ টাকা ফি দেন। অথচ একজন প্রবাসীকে দিতে হয় চার গুণ ফি, অর্থাৎ পাসপোর্ট করতে গেলে ট্যাক্সসহ ১৩০ ডলার ফি দিতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় ১৬ হাজার টাকা। আমেরিকায় একটি পাসপোর্টের আবেদন ফি ১১০ ডলার। সেক্ষেত্রে দেশটির নাগরিকরা যদি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসেও পাসপোর্টের আবেদন করেন, তাদের এক ডলারও বেশী ফি দিতে হয় না। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশে বেলায়।
জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের খরচ মেটাতে প্রবাসীদের কাছ থেকে বেশী অর্থ আদায় করা হচ্ছে। অথচ যাদের অর্থে কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ব্যয়ভার মেটানো হয় তারা কাক্সিক্ষত সেবা পান না। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মত উন্নত দেশে নয়, বিশ্বের অন্যান্য দেশে প্রবাসীদের সব সেবার জন্য দ্বিগুণ, ক্ষেত্রবিশেষ চার গুণ ফি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ঢাকায় বিমানবন্দরে প্রবাসীদের শুধু অবহেলা নয়, একসময় হয়রানি করা হতো। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দরে প্রবাসীদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়নি আজো। অতিসম্প্রতি বিমানবন্দরে বিশেষ লাউঞ্জ চালু হলেও তাতে সন্তুষ্ট নন প্রবাসীরা।
ঢাকার শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নিউইয়র্কে আসা বেশ কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি অভিযোগ করেন- বিশেষ লাউঞ্জে বিশেষ কোনো সুবিধা নেই। ন্যায্যমূল্যে খাবারের স্বল্পতা রয়েছে সেখানে। অল্প সময়েই খাবার ফুরিয়ে যায়। বসার জন্য আরামদায়ক কোনো চেয়ার নেই। সেখানে প্ল্যাস্টিকের চেয়ারে আরাম করে বসা যায় না। অথচ বিশ্বের প্রতিটি বিমানবন্দরে আরামদায়ক চেয়ার আছে, যেখানে যাত্রীরা বিশ্রাম নিতে পারেন।
Posted ৯:৪৫ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৪
America News Agency (ANA) | ANA