বৃহস্পতিবার ১৪ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

>>

জাতিসংঘ মিশন ও নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেটে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

এনা অনলাইন :   |   বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১   |   প্রিন্ট   |   669 বার পঠিত

জাতিসংঘ মিশন ও নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেটে জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী উদযাপন

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল নিউইয়র্ক এর যৌথ উদ্যোগে ১৭ মার্চ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উদযাপন করা হয়। দুই পর্বে ভাগ করে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকালে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট স্ব স্ব কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিবসটির কর্মসূচি শুরু করে। এরপর জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়। সকালের আয়োজনের মধ্যে আরও ছিল দিবসটি উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ, মুক্ত আলোচনা এবং জন্মদিনের কেক কাটা পর্ব। স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে এবং কনস্যুলেট জেনারেল-এর অডিটোরিয়ামে আলাদা আলাদাভাবে আয়োজিত সকালের পর্বে জাতির পিতা ও তাঁর পরিবারের শাহাদাত বরণকারী সদস্যদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

বিকালে স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেটের যৌথ উদ্যোগে শিশুদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত হয় শিশু আনন্দমেলা। এতে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী শিশুদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপস্থাপন এবং ‘নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে পত্রলিখন’ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের ভাষণ উপস্থাপনের ভিডিও ও পত্র ভার্চুয়াল এই অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। শিশুদের অংশগ্রহণে “শুনো একটি মুজিবের কন্ঠে” সমবেত সঙ্গীত, কবিতা পাঠ ও নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজনে মুগ্ধ হন দর্শকগণ। অনুষ্ঠানটির র‌্যাফেল ড্র পর্ব অংশগ্রহণকারী শিশুদের বাড়তি আনন্দ এনে দেয়। বিকালের এই ভার্চুয়াল আয়োজনে জাতির পিতার জন্ম থেকে শুরু করে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম, স্বাধীন বাংলাদেশ পুনর্গঠনসহ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তাঁর অবদানের উপর একটি শিশুতোষ গ্রাফিক্স ভিডিও প্রদর্শন করা হয়।

সকালের আলোচনা পর্ব এবং বিকালের ‘শিশু আনন্দমেলা’ উভয় পর্বেই স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। এছাড়া শিশুদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, নিউইয়র্ক এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেছা।

স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলার স্বাধিকার আদায়ের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে জাতির পিতা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমাদের উপহার দিয়েছেন স্বাধীন স্বার্বভৌম বাংলাদেশ”। তিনি আরও বলেন, জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শ্লোগান “মুজিববর্ষের কূটনীতি, প্রগতি ও সম্প্রীতি” এবং এবছর জাতীয় শিশু দিবসের প্রতিপাদ্য “বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন হোক রঙ্গিন” উদ্বৃত করেন তিনি। জাতির পিতা শিশুদের কতটা গভীরভাবে ভালোবাসতেন, শিশুদের সুন্দর ভষ্যিতের জন্য তিনি তার সাড়ে তিন বছরের সরকারে যে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে গেছেন যা তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে জাতির পিতার সংগ্রামী জীবন সমন্ধে অবহিত করা এবং শিশুকাল থেকেই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধু করার জন্য অভিভাবকসহ সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রত্যেকের বাড়িই একটি স্কুল, এবং আমরা আমাদের শিশুদের শিক্ষক। শিশুদেরকে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমন্ধে জানানো আমাদেরই দায়িত্ব”। স্থায়ী মিশন ও কনস্যুলেট আয়োজিত জাতির পিতার জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবসের আয়োজনে নিউইয়র্ক প্রবাসী শিশুরা জাতির পিতার ৭ মার্চের ভাষণ উপস্থাপন এবং বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে যে গভীরতা, অধ্যয়ন, পরিশীলন ও স্বত:স্ফুর্ততা দেখিয়েছে তা সত্যিই বিস্ময়কর মর্মে মন্তব্য করেন স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি শিশুদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর লেখা একটি চিঠি পাঠ করে শোনান।

নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল এর কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেছা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর মানবদরদী ও নির্ভীক শৈশবের ইতিহাস, তাঁর মেধা ও প্রজ্ঞা এবং তাঁর জীবনের আদর্শ আমাদের শিশু-কিশোরদেরকে অনুপ্রাণিত করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে”। তিনি জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

কোভিড-১৯ এর এই সঙ্কটময় প্রেক্ষাপটে স্থানীয় নীতি ও নির্দেশনা, জাতিসংঘ সদরদপ্তরের পরামর্শ ও জাতীয় নির্দেশনা অনুযায়ী জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সকালের পর্বটি সংক্ষিপ্ত আকারে এবং বিকালের পর্বটি ভার্চুয়ালভাবে আয়োজন করা হয়। স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, পরিস্থিতি স্বাভবিক হলেই যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানসমূহ উৎসবমূখর পরিবেশে উদযাপন করা হবে।

বিকালের পর্বে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস-বিপা এবং বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-বাফার শিশু শিল্পীরা অংশ নেয়। এছাড়া নিউইয়র্কে বসবাসরত শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা ভার্চুয়ালি অংশ নেয়।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১১:০৭ অপরাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ ২০২১

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

Dhaka University Centennial & New Beginnings
(13578 বার পঠিত)
RAFONA Organize Armed Forces Day
(13146 বার পঠিত)
‘শুভ বড়দিন’ আজ
(13140 বার পঠিত)
[abm_bangladesh_map]
Editor-in-chief :
Sayeed-Ur-Rabb
Corporate Headquarter :

44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA,

06463215067

americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2025Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997