শিরোনাম

প্রচ্ছদ রাজনীতি, শিরোনাম

টিআইবি’র অনেক রিপোর্টই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: তথ্যমন্ত্রী

এনা অনলাইন : | সোমবার, ১৫ জুন ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

টিআইবি’র অনেক রিপোর্টই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, টিআইবি’র (ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ) অনেক রিপোর্টই একপেশে ও সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সোমবার দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে টিআইবি’র সমালোচনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।



তিনি বলেন, ‘টিআইবির কাজ শুধু দোষ খুঁজে বেড়ানো। গত সাড়ে ১১ বছর দেশ পরিচালনার কোনো কাজে টিআইবি সরকারের প্রশংসা করতে পারেনি। এই টিআইবি বড় গলায় বলেছিল, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে। যখন কানাডার আদালতেও বিশ্বব্যাংক হেরে গেল, টিআইবির তখন জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। এমন বহুক্ষেত্রে টিআইবি প্রমাণ করেছে, তারা প্রকৃতপক্ষে সঠিক গবেষণাপ্রসূত কোনো রিপোর্ট পেশ করে না। তাদের অনেক রিপোর্টই একপেশে ও সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’

ড. হাছান আরও বলেন, ‘তাদের অনুরোধ জানাবো, তারা যেন তাদের প্রধান কার্যালয় জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য যেসব দেশ থেকে অর্থ পায়, সেখানকার পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করে। তাহলেই সেসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পরিস্থিতি বুঝতে পারবে।’

করোনা মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপির মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যেও বিএনপির নেতাদের ভাষা প্রচণ্ড রাজনৈতিক বিদ্বেষপূর্ণ। আমরা আশা করেছিলাম, তারা অন্যান্য দেশ এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কাছ থেকেও শিখবে। ভারতে বিরোধীদলীয় নেত্রী সোনিয়া গান্ধী করোনার শুরুতেই চিঠি লিখে সরকারকে জানিয়েছেন, ভারত সরকার যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছে, সেগুলো তারা সমর্থন করেন এবং এই দুর্যোগে তারা সরকারের পাশে আছেন। বাংলাদেশে বিএনপি সেটি করতে ব্যর্থ হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি মোকাবিলা একটি যুদ্ধ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বয়স ৭৪ বছর, তিনি এক মুহূর্তও বসে নেই। তিনি প্রতিদিন কাজ করছেন, জেলা ও বিভাগীয় সদরে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন, সংসদ অধিবেশনে প্রতিদিন অংশগ্রহণ করছেন। আমরা প্রত্যেকেই যে কোনো মুহূর্তে আক্রান্ত হতে পারি, এরপরও আমরা বসে নেই। দাপ্তরিক কাজ যেমন করছি, রাজনৈতিক কাজও করছি। একই সঙ্গে নিজ নির্বাচনী এলাকা থেকে শুরু করে নিজ জেলার কাজগুলোও যতটা সম্ভব তদারকির চেষ্টা করছি।’

নিজেকে যতটুকু সম্ভব সুরক্ষিত রেখে করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমার প্রয়াত শ্রদ্ধেয় নেতা মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ দু’জনই মানুষের মাঝে কাজ করতে গিয়েই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। আমাদের দলের যে সমস্ত নেতা ও সংসদ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছেন কিংবা চিকিৎসা নিচ্ছেন, তারাও মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়েই আক্রান্ত হয়েছে। এগুলো প্রমাণ করে, আমাদের দলের কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ের নেতা ও সংসদ সদস্যরা  জনগণের পাশে থাকতে গিয়ে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

দেশে সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা নেই- বিএনপির এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের প্রাণান্তকর চেষ্টায় এখনো বাংলাদেশের পরিস্থিতি বিশ্বের উন্নত ও প্রতিবেশি দেশগুলোর তুলনায় ভালো রয়েছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আরো উন্নতির জন্য সরকার বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ নানামুখী ব্যবস্থা নিয়েছে। হাজার হাজার মানুষ যে সুস্থ হলো, তারা সেগুলো দেখেন না। শত শত মানুষ যে হাসপাতালে আছে এবং সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে চোখ থাকতেও যারা অন্ধের মতো সেগুলো দেখেন না, তাদের চোখে তো আলো দেওয়া সম্ভব নয়।’

করোনার এই সময় বিষোদগারের রাজনীতি পরিহারের জন্য বিএনপির প্রতি অনুরোধ জানিয়ে ড. হাছান বলেন, ‘আপনাদের গতানুগতিক বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পরিহার করুন, জনগণের পাশে থাকুন। আপনারা লোক দেখানো কয়েকটা ফটোসেশন করবেন আর নিজেকে সুরক্ষিত রেখে প্রেস ব্রিফিং করে সেখানে বিষোদগার করবেন, এই সময় এটি সমীচীন নয়, জনগণ এটি কামনা করে না। তাই আসুন একসঙ্গে কাজ করি।’

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১