এনা, ঢাকা : | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮ | প্রিন্ট | 926 বার পঠিত
সব বাধা পেরিয়ে তারুণ্য এগিয়ে যাওয়ার নাম। সাহিত্যক্ষেত্রেও তরুণরা সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আলোর দিকে। সে আলোর পথে যাত্রার ছয় সারথির নাম মিজানুর রহমান বেলাল, হোসনে আরা জাহান, তাপস রায়, আলতাফ শাহনেওয়াজ, মামুন সিদ্দিকী এবং রাজীব হাসান। ২০১৭ সালের ‘কালি ও কলম তরুণ কবি-লেখক পুরস্কার’ উঠেছে তাদেরই হাতে।
মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই ছয় তরুণের হাতে পুরস্কার তুলে দেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।
এমিরেটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্মানীত অতিথি ছিলেন রবীন্দ্র গবেষক মার্টিন কেম্পশেন ও বিশেষ অতিথি ছিলেন কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত। আরও উপস্থিত ছিলেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের।
হাসানুল হক ইনু বলেন, রাজাকার, তেঁতুল হুজুররা স্বাধীন বাংলাদেশে আজও খলচরিত্র। স্বাধীন বাংলাদেশে কেন তারা এখনও আছে, সে প্রশ্নের উত্তর দেবেন লেখকরা। আজকের বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক ঘাটতি রয়ে গেছে। হয়তো আমাদের রাজনীতির উত্তরণ হবে, সমস্যার সমাধান বা উন্নয়ন হবে অনেক। কিন্তু সংস্কৃতির ঘাটতি থেকে গেলে আমরা হোঁচট খাবো। লেখকরা সেই সংস্কৃতির ঘাটতি পূরণ করবেন। আমরা আজ সেই সৃষ্টি চাই, পরিচয়ের সঙ্কট থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।

আনিসুজ্জামান বলেন, একটি সত্যের মুথোমুখি হতে চাই, লেখক সাহিত্যিকের কাছে পাঠকের কী প্রত্যাশা? প্রত্যাশা দুটো, পাঠক সাহিত্যের মধ্যে সৌন্দর্য্য ও সত্য খোঁজ করেন। আর এ দুটোর মেলবন্ধন সাহিত্যিকের প্রধান কাজ। তিনি বিচ্যুত হলে সাহিত্যিকের পদবাচ্য থাকেন না। আমরা আশা করব, আজকের তরুণ লেখকরা সৌন্দর্য্য ও সত্যের মেলবন্ধন ঘটাবেন।
মার্টিন কেম্পশেন বলেন, আজকের তরুণরা লেখালেখির মাধ্যমে সমাজসেবা করতে চাইছে, সেটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ। সমাজের জন্য সে কঠিন কাজটির বড় প্রয়োজন রয়েছে।
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, যেকোনো পুরস্কার আনন্দদায়ক, সে সঙ্গে দায়িত্ববোধ তৈরি করে। সে সঙ্গে বইয়ের কাটতি বাড়াতে সাহায্য করে। আজকে যারা পুরস্কার পেলো, তাদের কাছ থেকেও আরো বেশি ভালো লেখা প্রত্যাশা করব।
এ বছর কবিতায় ‘জুমজুয়াড়ি’ গ্রন্থের জন্য মিজানুর রহমান বেলাল ও ‘নিশিন্দা পাতার ঘ্রাণ’ গ্রন্থের জন্য হোসনে আরা জাহান, কথাসাহিত্যে ‘এই বেশ আতঙ্কে আছি’ গ্রন্থের জন্য তাপস রায়, প্রবন্ধ, গবেষণা ও নাটকে ‘নৃত্যকী’ গ্রন্থের জন্য আলতাফ শাহনেওয়াজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাহিত্যে ‘মুক্তিযুদ্ধের অজানা ভাষ্য’ গ্রন্থের জন্য মামুন সিদ্দিকী এবং শিশু-কিশোর সাহিত্য বিভাগে ‘হরিপদ ও গেলিয়েন’ গ্রন্থের জন্য রাজীব হাসান।
বাংলাদেশে নবীন কবি-লেখকদের সাহিত্যচর্চা ও সাধনাকে গতিময় এবং তরুণদের সৃজনধারাকে সঞ্জীবিত করার লক্ষ্যে এইচএসবিসির সহায়তায় ‘কালি ও কলম তরুণ কবি-লেখক পুরস্কার’ প্রবর্তন করে শিল্প ও সংস্কৃতিবিষয়ক সাহিত্যপত্রিকা কালি ও কলম। ২০১৪ সাল থেকে কালি ও কলম এককভাবে পুরস্কারটি প্রদান করছে।
Posted ১০:৪২ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮
America News Agency (ANA) | Payel