শিরোনাম

প্রচ্ছদ রাজনীতি, শিরোনাম

ত্রাণ লুটপাটকারীদের সম্পর্কে নেতাদের কড়া বাণী

এনা অনলাইন : | রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

ত্রাণ লুটপাটকারীদের সম্পর্কে নেতাদের কড়া বাণী

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ত্রাণ বিতরণের নামে কোনো রকম অনিয়ম সহ্য করা হবে না। খেটে খাওয়া মানুষের ত্রাণ নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলবে, সে যেই হোক কঠোর হাতে দমন করা হবে।’

করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে নানা অভিযোগের প্রেক্ষাপটে শনিবার সকালে এক ভিডিওবার্তায় মন্ত্রী এ কথা বলেন। জাতীয় সংসদ এলাকার তার সরকারি বাসভবন থেকে ওই বার্তা দেন তিনি।



গণপরিবহন চালানোর বিষয়ে এ সময় মন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। একইভাবে গণপরিবহন চলাচলের নিষেধাজ্ঞাও ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হল। তবে পণ্যবাহী পরিবহন, খাদ্যদ্রব্য, জরুরি সেবা, পচনশীল দ্রব্য, ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী, ত্রাণবাহী গাড়ি, গণমাধ্যম, জীবন ধারণের উপাদান, মৌলিক উপাদানবাহী গাড়ি, মৎস্য ও মৎস্য জাতীয় পণ্য, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় পণ্যবাহী পরিবহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাস নামের এই অদৃশ্য শত্রুকে পরাজিত করতে সব মতপার্থক্য ভুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে ধৈর্য এবং সাহসিকতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এ লড়াইয়ে জিততে হলে প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই। এ দুর্যোগে কর্মহীন খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান-বিত্তবান মানুষ এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, ঘরে অবস্থান এবং সামাজিক দূরত্ব যারা বজায় রাখতে পারছেন না তারা নিজেরাই নিজেদের বিপদ ডেকে আনছেন। এই সংকটের মধ্যেও একটি কুচক্রী মহল গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ত্রাণ লুটপাটকারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন কর্নেল অলি
বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে গরিব, দুস্থ ও সহায়-সম্বলহীন মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এবং খাদ্যসামগ্রী চুরি ও লুটপাটকারীদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় মুক্তিমঞ্চের আহ্বায়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন আমরা মিডিয়াতে যে পরিমাণ করোনাভাইরাসের রোগীর তালিকা পাচ্ছি, তার চেয়েও বেশি পাচ্ছি চাল চোরের সংখ্যা।’

শনিবার এলডিপির সাংগঠনিক সম্পাদক সালাহউদ্দিন রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।

অলি বলেন, ‘লকডাউনের কারণে সমগ্র দেশে কয়েক কোটি হতদরিদ্র এবং বেকার মানুষ অতি কষ্টে জীবনযাপন করছে। তাদের এই কষ্ট লাঘবের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে চাল এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী বিতরণের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কিন্তু করোনাভাইরাসের মতো এত বড় মহামারির মধ্যেও দুর্নীতিবাজরা এ ত্রাণসামগ্রী ও স্বল্পমূল্যের চাল আত্মসাৎ করতে ব্যস্ত।’

তিনি বলেন, ‘জাতির এই ক্রান্তিকালে যারা গরিবের হক মেরে খায় তাদের প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। কারণ এরা দেশের শত্রু এবং মানবতার শত্রু। এ ধরনের পশুদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই।’

সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে অলি আহমদ বলেন, ‘এসব ত্রাণসামগ্রী এবং স্বল্পমূল্যের চাল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের তত্ত্বাবধানে বিতরণ করা একান্তই প্রয়োজন। এতে করে হতদরিদ্র, বেকার শ্রমিকরা উপকৃত হবে এবং জনগণও শান্তিতে থাকবে।’

যারা ত্রাণ আত্মসাতের চিন্তা করে তারা মানুষরূপী জানোয়ার: হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) এ দুর্যোগের সময়ে যারা অসহায় মানুষের ত্রাণ আত্মসাৎ করার চিন্তা করে তারা মানুষরূপী জানোয়ার।

আমরা লক্ষ্য করছি, এ দুর্যোগের সময়ে ত্রাণ নিয়ে কিছু আত্মসাতের অভিযোগ উঠছে। আমি অবাক হয়ে যাই! কারা এসব মানুষ, যারা এ দুর্যোগের সময়ে অসহায় মানুষের ত্রাণ আত্মসাৎ করার চিন্তা করে! এদের মানুষ বলা যায় না! মানুষরূপী জানোয়ার। এদের প্রতি আমি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ করি, নিন্দা জানাই।

নিজ বাসা থেকে শনিবার এক ভিডিও বার্তায় হানিফ এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমি জেলা প্রশাসকদের অনুরোধ করব আপনাদের অধীনস্থ সব উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিন- এ ত্রাণ যেন কেউ আত্মসাৎ করতে না পারে। কঠোর ব্যবস্থা নিন।

কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে ত্রাণ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিক কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিন। এ অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণ নিয়ে কোনো কারচুপি-জালিয়াতি আমরা বরদাশত করব না। আমরা কঠোরভাবে এটা দমন করতে চাই।

হানিফ বলেন, বারবার সতর্ক করে দেয়ার পরও আমাদের কিছু মানুষের ভুলে সমগ্র দেশে আস্তে আস্তে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশের জনগণকে ঘরে থাকার জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল।

কিন্তু কিছুসংখ্যক মানুষের অসচেতনতার কারণেই এ লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। ফলে করোনাভাইরাস ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যাচ্ছে। মানুষকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আবারও সবার প্রতি অনুরোধ করব সবাই ঘরে থাকুন। নিজে বাঁচুন অন্যকে বাঁচতে দিন।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১