শিরোনাম

প্রচ্ছদ যুক্তরাষ্ট্র, শিরোনাম, স্লাইডার

করোনায় ট্রাভেলস ব্যবসায় ধস ॥ অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ

বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বিশ্ব ॥ বাংলাদেশীরা আটকা পড়েছেন নিউইয়র্কে

এনা অনলাইন : | রবিবার, ২২ মার্চ ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে বিশ্ব ॥ বাংলাদেশীরা আটকা পড়েছেন নিউইয়র্কে

করোনাভাইরাস আতঙ্কে বদলে গেছে নিউইয়র্কসহ পুরো আমেরিকার জনজীবন। ইতিমধ্যেই আমেরিকার নিউইয়র্ক ও লসএঞ্জেলেস লকডাউন করা হয়েছে। অন্যান্য স্টেটেরও প্রায় একই অবস্থা। আমেরিকার সকল স্টেটেই একই অবস্থা। দিন দিন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। মহামারি আকারে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাস। বিষেষ করে নিউইয়র্কের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। আতঙ্কে নিউইয়র্কের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কিনতে গ্রোসারিতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অনির্দিষ্টকাল ঘরে কাটাতে হবে- এমন আশঙ্কায় পণ্যের মজুত করছেন অনেকে। করোনার সুযোগে অনেক পণ্যের দাম বৃদ্ধি করা হলেও মানুষ সেই দিকে তাকাচ্ছে না। যা প্রয়োজন তা ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে। করোনার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেস্টুরেন্ট এবং ট্রাভেলস ব্যবসায়ীরা। করোনা আতঙ্কে মানুষ ঘোরাফেরাও বন্ধ করে দিয়েছে। যাত্রী সংকটে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে উড়োজাহাজ চলাচল কমে গেছে। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। এতে ধাক্কা লেগেছে ট্রাভেল ব্যবসায়। যাত্রী না থাকায় তাদের অলস সময় কাটাতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে এই ব্যবসায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এর সঙ্গে জড়িতরা। ছোট ছোট ট্রাভলস ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছেন।
ট্রাভেল এজেন্ট ব্যবসায় জড়িত কয়েকজন বাংলাদেশী বলেন, পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, তারা বুঝতে পারছেন না। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এই ব্যবসায় চরম বিপর্যয় নেমে আসবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অনেক ট্রাভেলস ব্যবসায় লোকজন কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কেউ কেউ কিছুক্ষণের জন্য খোলা রাখছেন। তারা বলেন, কেউ কোথাও যাচ্ছে না। বাংলাদেশ তো দূরের কথা কেউ অভ্যন্তরীণ রুটেও চলাচল করছেন না। যারা আগে টিকেট ক্রয় করেছেন তাদের অর্থও ফেরত দিতে হচ্ছে। প্রতি বছর এই সময় মানুষ বাংলাদেশে বেড়াতে যান আবার হাজার হাজার মানুষ ওমরা করতে সৌদী আবর যান। এবার সেই পথও বন্ধ। তারা বলেন, একমাত্র আল্লাহ জানে আমাদের কী অবস্থা হবে।
ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলেসের মোহাম্মদ এ হোসাইন বেলাল বলেন, অবস্থা খুবই নাজুক। লোকাল এবং আন্তর্জাতিক সব ফ্লাইটই বলা চলে বন্ধ। ভয়ে কেউ কোথাও যেতে টাচ্ছেন না। তিনি বলেন, গত দুই তিন সপ্তাহ থেকেই আমাদের ব্যবসায় আঘাত হেনেছে। অনেকেই দেশে যাবার জন্য আগে থেকেই টিকেট ক্রয় করেছিলেন। হঠাৎ করেই করোনার ভয়াবহতার কারণে ফ্লাইট বন্ধ দেয়া হয়। যে সব ফ্লাইট চালু ছিলো, সেই সব ফ্লাইটে যাত্রীদেও টিকেট পরিবর্তন করে দিতে হয়েছে। এই পরিবর্তন করতে গিয়ে আমাদের পকেট থেকে অথৃ ভরতে হচ্ছে। আবার যে সব এয়ারলাইন্স তাদের ফ্লাইট বন্ধ করেছেন, তাদের কাছ থেকে অর্থ পেতেও সময় লাগবে।
জননী ট্রাভেলসের প্রেসিডেন্ট কামরুজ্জামান বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। করোনাভাইরাস আতঙ্ক শুরুর আগে প্রতিদিন ২০/২৫টি বুকিংয়ের কল আসত। এখন কল আসছে আগে বুকিং দেওয়া টিকিটের ক্যানসেল বা বাতিল করার জন্য। অনেকেই টিকিটের রিফান্ড চাচ্ছেন। এসব রিফান্ড ইস্যু করতে গিয়ে ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে আমাদের।’ তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই অচলাবস্থা আর কিছুদিন চললে অনেক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে। অনেকেই চাকরি হারাবেন।
কর্ণফুলী ট্রাভেল ইনকের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সেলিম হারুন দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে এ ব্যবসায় জড়িত। তিনি বলেন, বছরের এই সময়ে ব্যবসা চাঙা থাকে। প্রচুর মানুষ নানা জায়গায় ঘোরাঘুরি করেন। এবার করোনার কারণে ফেব্রুয়ারি থেকেই ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করেছে। সামার ভ্যাকেশন, হজ মৌসুমসহ ভ্রমণ বাণিজ্যের তুঙ্গের এই সময়ে এমন মন্দাবস্থা নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করলেন তিনি।
গ্লোবাল ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুদ্দিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, কমিউনিটিতে আমাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সংযোগ রাখার। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কার্যত কিছুই করার নেই।’ তিনি বলেন, পরিস্থিতি যতই নাজুক হোক, এর অবসান ঘটবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পরিস্থিতির জন্য সবাইকে মূল্য দিতে হবে। কিন্তু সেটি কোথায় গিয়ে থামবে, সেটিই দেখার বিষয়। তার আশা, হজ মৌসুমের আগেই পরিস্থিতি ভালো হবে। আবার লোকজন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। তিনি বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত সকল ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, একমাত্র ফ্লাইট ছিলো এমিরার্টস। বাংলাদেশ সরকার তাও বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ বাংলাদেশে যেতে পারছে না এর চেয়ে দু:খজনক আর কী হতে পারে। তিনি আরো বলেন, অবস্থা আসলেই ভয়াবহ।
পুতুল ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরের মনির বলেন, আমাদের ব্যবসার অবস্থা খুবই বাজে। তিনি বলেন, গত মাসে ১ শর মত টিকেটে বিক্রি করেছিলাম, এ মাসে ২টা থেকে ৩টা টিকেট বিক্রি করেছি।
আমেরিকায় আটকা পড়লেন বাংলাদেশীরা
বাংলাদেশে আটকা পড়েছেন আমেরিকানরা
করোনাভাইরাস প্রতিরোধে চার দেশ ও অঞ্চল বাদে সব আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২১ মার্চ (আজ শনিবার) রাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশগামী যাত্রীরা নিউইয়র্কে আটকা পড়েছে। ২০ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে এই খবর জেনে হতাশ হয়ে পড়ে যাত্রীরা। আবার অনেক বাংলাদেশী আমেরিকান বাংলাদেশে বেড়েতে গিয়েছেন তারাও আটকা পড়েছেন বাংলাদেশে। সোজা কথা আমেরিকানরা আটকা পড়েছেন বাংলাদেশে, আর বাংলাদেশীরা আটকা পড়েছেন আমেরিকায়।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তার রোধে ২১ মার্চ দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে কোনো শিডিউল আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়ো জাহাজকে দেশের কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার অনুমতি দেয়া হবে না।
সরকারের এই ঘোষণায় আমেরিকায় আটকা পড়েছে অনেক যাত্রী। জেএফকে এমিরেটসের ফ্লাইটের এক যাত্রী ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘কোনো পূর্ব নির্দেশনা ছাড়াই হঠাৎ ফ্লাইট বন্ধ ঘোষণা সত্যিই দু:খজনক। আমি বাংলাদেশ থেকে আসার আগেই রিটার্ন টিকিট করে রেখেছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের পরীক্ষা শেষ হয়েছে, তার কলেজ ছয় মাস বন্ধ ঘোষণা করেছে। তাকে নিয়ে ২০ মার্চ দেশে রওনা হব। বিমানে ওঠার আগের মুহূর্তে জানলাম, বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের এই অবস্থা! ফিরে আসলাম এয়ারপোর্ট থেকে। এখন নিউইয়র্কে আটকা পড়লাম।
আরেক যাত্রী বলেন, ‘কোনো কিছুর যেন সিস্টেম নেই। আমার সবাই দেশে থাকি। নিউইয়র্কের কনস্যুলেট অফিসও কোনো তথ্য নেই। তিনি বলেন, এখন আমরা থাকব কোথায়? যাব কোথায়?’ আমার মতো অনেকেই এখন থাকা-খাওয়া নিয়েও চিন্তায় আছেন।’ তারা বলেন, আমরা কীভাবে এখন আমেরিকায় থাকবো। আমরা বেড়তে এসেছিলাম। সেই পরিমাণ অর্থ নিয়েই আমেরিকায় এসেছিলাম। আর যারা আমেরিকায় থাকেন তাদের অবস্থা না হয় ভিন্ন। তারা বলেন, সরকারের উচিত ছিলো এক সময়সীমা বেঁধে দেয়া যাতে করে আমরা যে কোন এয়ারলাইন্সে করে বাংলাদেশে যেতে পারতাম।



Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০