শিরোনাম

প্রচ্ছদ যুক্তরাষ্ট্র, শিরোনাম, স্লাইডার

অচেনা এক নিউইয়র্ক

এনা অনলাইন : | শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

অচেনা এক নিউইয়র্ক

বিশ্বের যতগুলো ব্যস্ততম শহর রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটি। আর এ সিটির প্রাণ হচ্ছে ম্যানহাটন। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে সেই ব্যস্ততম ম্যানহাটন যেনো থমকে দাঁড়িয়েছে। জনজীবন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্রেতার অভাবে অনেক নামদামি রেস্টুরেন্ট সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে অনেকের চাকরি হারানোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খেলাধুলা, ব্রডওয়ে শোসহ সব অনুষ্ঠান স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রেন এবং বাসে যাত্রীসংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে। ব্যস্ততম এয়ারপোর্টগুলোও এখন কার্যত ফাঁকা। অনেক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট সীমিত করেছে। অনেক স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ১৪ মার্চ বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সিটির সব পাবলিক স্কুল ১৬ মার্চ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছেন। আইন করে রেস্টুরেন্ট, বার, থিয়েটার, জন সভা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। স্কুলের কার্যক্রম চলবে অনলাইনে। রেস্টুরেস্ট খোলা থাকবে সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। ব্যস্ততম ম্যানহাটানের টাইমস স্কোয়ার এখন জনমানবহীন। অনেক মসজিদে নামাজ বন্ধ বা নামাজের সময়সীমা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের ট্যাক্সি ড্রাইভারদের অবস্থা আরো করুণ। একমাত্র গ্রোসারি বা সুপার মাকের্ট এবং ফার্মেসি মার্কেট ছাড়া সব ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লালবাতি জ্বলে উঠেছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
জীবন্ত নিউইয়র্কের জীবনযাত্রা থমকে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই নিউইয়র্ক সিটিতে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তাঘাট সুনশান। মানুষজন নেই। এ কারণে আমাদের ব্যবসা কম হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে যাই। তারমধ্যে আবার কোন ইনকাম নেই। যদিও আমাদের ঘরভাড়াসহ অন্যান্য খরচ ঠিকই করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি নিজে গাড়ি লিজ নিয়েছিলাম, এখন লিজের খরচই উঠাতে পারছি না। তাই ভাবছি, গাড়িটি জমা দিয়ে দেবো। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও যদি অর্থই কামাতে না পারি, তাহলে কাজ করবো কিভাবে। তিনি আরো বলেন, আমি জীবনে এ রকম ভয়াবহ অবস্থা আর কখনোই দেখিনি।
উবার চালান বাংলাদেশি জামান। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস আতঙ্কে সবাই ভুগছেন। যে কারণে কেউ বাইরে যেতে চাচ্ছেন না। নেহায়েত যাদের জরুরি কোন কাজ নেই, তারা ঘর থেকে একদমই বের হচ্ছেন না। এ কারণে আমাদের যাত্রী অনেক কমে গিয়েছে। বলতে গেলে ইনকাম প্রায় ৫০% কমে গিয়েছে।
তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটিতে রেস্টুরেন্ট, ক্লাব, সিনেমা হল, থিয়েটার, ব্রডওয়ে শো, খেলাধুলা সব বন্ধ, যে কারণে যাত্রী নেই।
তিনি বলেন, গাড়িটি আমার নিজস্ব, তাই আমাকে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। তাছাড়া আমি ভয়ে শুক্র এবং শনিবার কাজ করি না।
অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে ইয়েলো ট্যাক্সির গ্যারাজে মালিকরা ৫০% ছাড় দিয়েছেন। সেই সাথে যাত্রী না থাকার কারণে অনেক উবার এবং লিফ ড্রাইভার তাদের এ্যাপসই খুলতে পারছেন না।
টাইমস স্কোয়ারের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন আমানত হোসেন। তিনি বলেন, রেস্টুরেন্টে ব্যবসা নেই। যে কারণে আমাদের মালিক আমাদের লে-অফ করে দিয়েছে। রেস্টুরেন্ট সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটির টাইমস স্কোয়ারের সৌন্দর্য্য ছিলো রাতে। সেই রাতের নগরী যেনো এখন ভূতড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে। এমনিতেই করোনাভাইরাসের কারণে টাইমস স্কোয়ারে মানুষজন কম। রাতে কেউ থাকে না বলেই চলে। অথচ দিনরাত ২৪ ঘন্টা মানুষের উপস্থিতিতে সরগরম থাকতো টাইমস স্কোয়ার।
জেএফকে এয়ারপোর্টে কাজ করেন একজন বাংলাদেশি। তিনি নাম প্রকাশ না করার শওর্ত বলেন, জেএফকে এয়ারপোর্টের এই করুণ চিত্র আমি আমার জীবনে দেখিনি। এয়ারপোর্ট বলতে গেলে একেবারেই ফাঁকা।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার কারণেই এই অবস্থা। এছাড়া সবসময়ই দেখা যেতো অনেকেই প্রিয়জনকে বিদায় বা রিসিভ করতে এয়ারপোর্টে ভিড় জমাতেন। এখন কেউই কাউতে আনতে বা বিদায় জানাতে আসছেন না।
একই অবস্থা লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্টেও। একজন বাংলাদেশি জানান, লোকজনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। এ পরিস্থিতিতে কেউ ভ্রমণ করতে চাচ্ছেন না। এ ছাড়াও এসব এয়ারপোর্টে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধ্বস নেমেছে।
কামালউদ্দিন প্রতিদিন জ্যামাইকা থেকে ট্রেনে ম্যানহাটানে যান। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে ট্রেনের যাত্রী অনেক কমে গিয়েছে। পুরো ট্রেনেই যাত্রী নেই। কোন বগিতে এক বা দু’জন দেখা যায়।
তিনি বলেন, নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ঘোষণা করেছেন, পাবলিক বাহন বন্ধ করা যাবে না। যে কারণে যাদের প্রওয়াজন তারা কাজে যাচ্ছেন। আবার অনেকে বাসায় বসেই অফিসের কাজ করছেন।
তিনি আরো বলেন, ভাল বিষয় হচ্ছে, ট্রেন এবং বাসগুলো প্রতিনিয়ত ধোয়ামোছা করা হচ্ছে।
এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে নিউইয়র্কসহ আমেরিকার অনেক মসজিদ সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেক সমজিদের সময়সীমা কমিয়ে দেয়া হয়েছে। জ্যামাইকা-বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারে গত সপ্তাহের জুমার নামাজের ৫ মিনিট আগে মসজিদ খোলা হয়েছে। ২ রাকাত ফরজ আদায় করার পর আবার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, জনস্বার্থে এ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং খুতবা ছোট করা হয়েছে। সর্বশেষ তিনি জানান, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদ বন্ধ থাকবে। নামাজ আদায়সহ মসজিদের সকল কর্মকান্ড স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আল মামুর স্কুলও বন্ধ করা হয়েছে। শনিবার এবং রোববারের মোক্তবও বন্ধ থাকবে।



Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১