শিরোনাম

প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, শিরোনাম

করোনা আতঙ্কে বেড়েছে প্রাইভেট জেট ও চার্টার উড়োজাহাজের ব্যবসা

এনা অনলাইন : | সোমবার, ০২ মার্চ ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

করোনা আতঙ্কে বেড়েছে প্রাইভেট জেট ও চার্টার উড়োজাহাজের ব্যবসা

করোনা আতঙ্কে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ পরিবহন ব্যবসা বিপুল লোকসান গুনতে বসেছে। তবে এই সুযোগে ব্যক্তিগত জেট ও চার্টার উড়োজাহাজ ব্যবসায় রমরমা চলছে। বিশেষ করে ধনী ব্যবসায়ীরা বিকল্প হিসেবে প্রাইভেট জেট ভাড়া করছেন। অনেকে আবার পারিবারিক ভ্রমণের জন্যও ভাড়া করছেন চার্টার উড়োজাহাজ।

ব্যক্তিগত জেট পরিচালনা কোম্পানি প্রাইভেট ফ্লাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যাডাম টুইন্ডেল বলেন, কম সময়ের নোটিশে ও অন ডিমান্ড চার্টারের চাহিদা বেড়েছে এতে সন্দেহ নেই। দলবদ্ধ স্থানান্তর, করপোরেট এবং ব্যক্তিগত ডাকও পাচ্ছি।



এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হলো জীবাণুনাশক টিমসহ ভ্রমণ চাহিদা। তারা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে অন্য যাত্রীদের সংস্পর্শ এড়িয়ে এশিয়ার মধ্যে ভ্রমণ করতে চেয়েছিল। এছাড়া একটি পরিবার বালি থেকে হংকংয়ে ভ্রমণের জন্য প্রাইভেট জেট ভাড়া করেছিল। চার্টার কোম্পানি ভিক্টোর সম্প্রতি একটি ফিল্ম স্টুডিও থেকে ডাক পেয়েছিল। তারা ৫০ জনের একটি দল টোকিও থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে ভ্রমণ করেন।

গত ডিসেম্বর চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পরপরই চার্টার উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর চাহিদা বেড়ে গেছে। দ্রুতই এ ভাইরাস ছয়টি মহাদেশে ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে চাহিদা বহুগুণে বেড়েছে বলে উল্লেখ করেছে একাধিক কোম্পানি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইনসিগনিয়া গ্রুপের প্রেসিডেন্ট রিচার্ড লুইস বলেন, প্রাইভেট জেটের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী ফ্লাইটের জন্য চাহিদা বেশি আসছে। সম্পদশালীদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দেয় ইনসিগনিয়া গ্রুপ। তারা বলছে, এ ধরনের গ্রাহক অন্য লোকদের সঙ্গে কেবিন ভাগাভাগি করতে চান না।

এভাবে আকাশ ভ্রমণ যে সস্তা নয় তা বলাইবাহুল্য। তবে ইদানীং প্রাইভেট জেট ও চার্টার কোম্পানিগুলো বিলাসবহুল বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। গালফস্ট্রিম ফোর প্রাইভেট জেট কোম্পানির ১২ আসনের জেটে করে নিউইয়র্ক থেকে লন্ডন যেতে খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার। অবশ্য ছোট জায়গায় বেশি মানুষ কিছুটা গাদাগাদি হয় বটে। এটির মান বলতে গেলে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের ১০ হাজার ডলার মূল্যের প্রথম শ্রেণীর সমান।

তারপরও করোনাআক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে ব্যক্তি বা কোম্পানি এই অর্থ দিতে কসুর করছে না। নিউইয়র্কভিত্তিক চার্টার কোম্পানি জেটসেট গ্রুপ সাধারণত প্রতিমাসে গড়ে ১৫০টি ফ্লাইট বুক করে। গত কয়েক সপ্তাহে তাদের বুকিং ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে। কোম্পানির সিইও স্টিভ অরফালি বলেন, ভাইরাস আতঙ্কের কারণেই চাহিদা এভাবে হঠাৎ করে বেড়েছে। তিনি জানান, তার অধিকাংশ গ্রাহকই মধ্যম আকারের ব্যবসা করেন। তাদের বিভিন্ন কারখানা ও গুদাম পরিদর্শনে যেতেই হয়। আবার পারিবারিক অবকাশ যাপনের জন্যও অনেকে বুকিং দিচ্ছে।

অরফালি বলেন, এই গ্রাহকরা যখন ব্যক্তিগত ভ্রমণে যান তখন সাধারণত পরিবারকে সাধারণ মানুষের সামনে আনতে চান না। এ কারণে তারা বেশি খরচ হলেও প্রাইভেট জেটই পছন্দ করেন। আর এখন তো বড় আতঙ্কের ব্যাপার। বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে প্রথম শ্রেণীতে ভ্রমণ করলেও কিন্তু ঝুঁকি থাকছে।

যারা সাধারণত প্রাইভেট জেটে চড়েন না তারাও ইদানীং ফোন দিচ্ছেন বলেন জানান অরফালি। করোনাভাইরাসের এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কারণে তারা প্রাইভেট জেট বেছে নিলেও এই লোকেরা তাদের সুযোগ সুবিধা ও সময় বাঁচানোর কথা ভেবে নিয়মিত গ্রাহকে পরিণত হবে এমনটাই আশা করছেন তিনি।

এদিকে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লজিস্টিক সঙ্কটেও পড়ছে চার্টার কোম্পানিগুলো। তারা বলছে, গ্রাহকরা প্রচুর চাহিদা দিচ্ছেন কিন্তু তাদের সময়মতো উড়োজাহাজ দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আবার উড়োজাহাজ থাকলেও ক্রু পাওয়া যাচ্ছে না। আবার চীনের ভাইরাস উপদ্রুত এলাকার উদ্দেশে কোনো ফ্লাইট হলে তারা সেখানে অবস্থান না করে ভিয়েতনামে এসে গ্রাহকদের জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী চীন থেকে ফিরে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন পর্যন্ত বসে থাকার কারণে খরচ ও সময় অপচয় হচ্ছে। চীনের ফ্লাইটে ক্রুরাও যেতে চান না।

অবশ্য বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই মনে করছে, এই চাহিদা বৃদ্ধির প্রবণতা ক্ষণস্থায়ী হবে। কারণ করোনাভাইরাস আতঙ্কে মানুষ ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। ফলে হিসাবী মানুষেরাও প্রাইভেট জেট ভাড়া করছে। প্রাদুর্ভাব কমে এলেই চাহিদা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

কারা ভ্রমণ করছে সে বিষয়ে ভার্জিনিয়ার লিসবার্গভিত্তিক প্যারামাউন্ট বিজনেস জেটের প্রতিষ্ঠাতা সিইও রিচার্ড জাহের বলেন, আমাদের গ্রাহক তারাই যাদের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচুর বিনিয়োগ আছে। তারা যখন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার লোকসান করেন তখন স্বভাবতই এমন কোনো স্থানে ছুটি কাটাতে যেতে চান না যেখানে প্রচুর টাকা খরচ করবেন। একই সঙ্গে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আছে এমন এলাকাও তারা এড়িয়ে চলেন। ফলে বর্তমান প্রবণতা প্রাইভেট উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোর জন্য ভালো নয়।

প্রাইভেট ফ্লাইয়ের সিইও টুইডেলও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, যে কোনো স্বল্পমেয়াদি লাভেরই দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগ ও চ্যালেঞ্জের সঙ্গে একটি ভারসাম্য থাকে। এর সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাবও জড়িত থাকে। এখন হঠাৎ করে বাড়তি চাহিদা দেখা যাচ্ছে, কিন্তু অন্য গ্রাহকরা হয় ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করছেন অথবা পরিবর্তন করছেন।

বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলোকে প্রচুর ফ্লাইট বাতিল করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক দেশ চীনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেছে। এখন পর্যন্ত ৭০টির বেশি দেশে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অন্যান্য দেশের মধ্যে আকাশ যোগাযোগ স্থগিত হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। চীনে আমেরিকান এয়ারলাইনস গ্রুপ, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস হোল্ডিং এবং ডেল্টা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট স্থগিত এপ্রিল পর্যন্ত। তাদের ফ্লাইট চীনের মূলখণ্ডের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করছে না। অথচ এই রুটেই তাদের মূল ব্যবসা।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০