শিরোনাম

প্রচ্ছদ যুক্তরাষ্ট্র, শিরোনাম

নিউইয়র্কে উচ্ছেদের নোটিশ ৬ মাসে কমেছে ৩৫ হাজার

কাজী ইবনে শাকুর : | শুক্রবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২০ | সর্বাধিক পঠিত

নিউইয়র্কে উচ্ছেদের নোটিশ ৬ মাসে কমেছে ৩৫ হাজার

নিউইয়র্কে সাধারণ ভাড়াটেদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের সংখ্যা গত ৬ মাসে অন্তত ৩৫ হাজার কমে গেছে বলে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটে ভাড়াটেদের স্বার্থে গত জুন মাসে যে আইন পাস করা হয়েছে, তার বদৌলতে এটা সম্ভব হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করা হয়েছে। ইতিপূর্বে নিউইয়র্কে ভাড়াটেদের উচ্ছেদের জন্য ক্রমাগতভাবে বিভিন্ন হায়রানিমূলক পদক্ষেপ নেয়া হতো। বিভিন্নভাবে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে তাদের ভাড়া বাসা থেকে উচ্ছেদের জন্য বাড়ির মালিকদের সুযোগ দেয়া হতো। কিন্তু ২০১৯ সালের ভাড়াটে সুরক্ষা আইন এই বেআইনি সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে কোন নতুন ভাড়াটে আসে, তখন প্রতিবারই বাড়ির মালিকদের ২০ শতাংশ হারে ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ ছিলো। আর ভাড়া বাড়লেও এপার্টমেন্ট রেগুলেটেড বা নিয়ন্ত্রিত থেকে যেতো। কিন্তু রেগুলেটেড এপার্টমেন্টে প্রতিবার ভাড়া বাড়ানোর জন্য বাড়ির ভাড়া হয়ে পড়তো আকাশচুম্বী। ২০১৯ সালের ‘টেনেন্ট প্রটেকশন’ আইন এ ব্যবস্থার অবসান ঘটায়। ভাড়া না নিয়ে অনেক টেনেন্টকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। তবে তা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও দীর্ঘমেয়াদে এ আইনের প্রভাব কি হতে পারে, তা দেখার বিষয়। তবে এ আইনে যে জুন মাস থেকে ৩৫ হাজার কম লোক উচ্ছেদ হয়েছে, তা অনেকের কাছেই স্বস্তির বিষয়।
এক সময় বিভিন্ন উপায়ে ভাড়াটে উচ্ছেদের প্রক্রিয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে যন্ত্রণা দিয়ে উচ্ছেদ করার উদ্যোগ নেয়া হতো। যেমন, ম্যানহাটানে ভাড়া বাড়ানোর জন্য যে ভাড়াটে আছে, তাকে উচ্ছেদের পরিকল্পনা নিতো বাড়িওয়ালারা। প্রায়ই ভাড়া জমা না নিয়ে বলতো, ভাড়া দিচ্ছে না। সে ব্যবস্থায় কাজ না হলে তখন তারা বাড়িতে নির্মাণ কাজ করা হবে বলে নোটিশ দিয়ে অথবা নির্মাণ সামগ্রীর টোকাটুকি করিয়ে ভাড়াটেদের জীবন অতিষ্ঠ করা হতো। শতাব্দীর পুরোনো ভবনে ধূলিকণা, বালি বাতাস ভরে তুলতো। গরম পানি বা হিট ছাড়াই চলতে বাধ্য করা হতো ভাড়াটেদের। মাসের পর মাস ভাড়াটেদের হিট ও হট ওয়াটার ছাড়া থাকতে বাধ্য করা হয়। নতুবা বলা হয়, বাসা ছেড়ে দিতে যাতে, বেশি ভাড়ায় নতুন ভাড়াটেকে জায়গা দেয়া যায়। হাউজিং কোর্টে গেলে সুবিচার পাওয়া যেতো না। আইনের মারপ্যাঁচের জন্য উকিলের প্রয়োজন, অথচ উকিল যোগাড় করা কঠিন ভাড়াটেদের জন্য। আর তাই বাধ্য হয়েই এক সময় ছেড়ে দিতে হতো বাসা।
নতুন ভাড়াটে প্রটেকশন আইন জারি হবার আগে এই জোরপূর্বক উচ্ছেদ সহজ ছিলো। আর ভাড়া নিয়ন্ত্রিত এপার্টমেন্ট থেকে এভাবে উচ্ছেদ করে প্রতিবার নতুন ভাড়াটের ওপর ২০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো ছিলো যেনো এক সাধারণ নিয়ম। এ রকম চলতো নিউইয়র্কের প্রায় অর্ধেক এপার্টমেন্টে। আর যুগ যুগ ধরে আইন ছিলো রিয়েল এস্টেট মালিকদের পক্ষে, যদিও তা সুবিধা দেয়ার কথা কর্মরত মধ্যবিত্ত শ্রেণির। অর্থের জোরে বাড়ির মালিকরা ভাড়াটেদের তুলে দিতে পারতো। নতুন ভাড়াটে আসলেই ভাড়া বাড়াতে পারতো ২০ শতাংশ, একবার ভাড়া কোন একটি স্তরে পৌঁছলে এপার্টমেন্ট রেন্ট স্থিতিশীলতা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। আর তারপর বাড়িওয়ালা যেমন ইচ্ছা তেমন ভাড়া নিয়ে থাকে। বাড়ি ভাড়া বাড়ির উন্নয়নে ব্যয় করার নাম করে স্থায়ীভাবে বাড়ি ভাড়া বাড়ানো হতো। এই ব্যবস্থা অনেকটাই ফ্রডে ভরা। যেসব ভাড়াটে এ ব্যবস্থায় উচ্ছেদকে কোর্টে চ্যালেঞ্জ করতো, তাদের ভয়ঙ্কর সব এটর্নিদের মোকাবিলা করতে হতো। আর অধিকাংশ সময় তারা অকার্যকর হতো।
নিউইয়র্ক সিটিতে ভাড়াটেদের প্রতিনিধি করার জন্য সিটি লিগ্যাল সার্ভিসে অর্থায়ন বাড়িয়েছে, যাতে কম আয়ের লোকদের হাউজিং কোর্টে সহায়তা দেয়া যায়। কিন্তু এখনও যেসব ব্যবস্থা রয়েছে, তা বাড়ির মালিকদের পক্ষেই বেশি। আর তাতে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হয়ে শেল্টারে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। দেখা যায়, ১৯৯৪ সাল থেকে ২ লাখ ৯০ হাজার ভাড়া নিয়ন্ত্রিত এপার্টমেন্ট মার্কেট রেট ইউনিটে পরিণত করা হয়েছে। নতুন টেনেন্ট প্রটেকশন আইন সে ব্যবস্থা রহিত করেছে অবশেষে।
উল্লেখ্য, এ পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে নিউইয়র্কের ভোটাররা আইন পাশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী স্টেট আইন প্রণেতাদের নির্বাচনে হারিয়ে দিয়ে। এ ক্ষেত্রে রিপাবলিকান ও ডেমক্রেটপন্থী উভয় দলের আইন প্রণেতারা বাড়ির মালিকদের পক্ষে থাকতেন, কারণ আইন প্রণেতারা নির্বাচনকালে বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে প্রচুর অর্থ পেয়ে থাকে। গত বছর ডেমক্রেটিক প্রাইমারিতে তরুণ কর্মীরা যেসব ডেমক্রেট-রিপাবলিকানদের সাথে গাঁটছড়া বেঁধে বাড়িওয়ালাদের স্বার্থরক্ষা করতো, তাদের বেছে বেছে পরাজিত করে। আর সিনেটে ডেমক্রেট মেজরিটি করে ২০১৮ সালের নভেম্বরে। তারপর এই ভাড়াটে সুরক্ষা আইন পাস করা হয়।
যেভাবে ভাড়াটেদের নিগৃহীত করে নিউইয়র্কের রিয়েল এস্টেট প্রসার করা হয়েছে বিগত ২৫ বছর ধরে, তা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের করুণ জীবন ইতিহাসের মাধ্যমে গড়া। আর রেন্ট আইন ঠিক করায় এখন হাজার হাজার ভাড়াটে তাদের আয়সীমার মধ্যে ভাড়া রাখতে পারছে।
এখনও প্রায় ৬০ হাজার মানুষ শেল্টারে থাকে এবং নিউইয়র্কে প্রতি ১০ জনে ১ জন স্কুলছাত্র গৃহহীন। প্রায় অর্ধেক নিউইয়র্কবাসী তাদের আয়ের ৩০ শতাংশ ভাড়া হিসেবে ব্যয় করে।
কম আয়ের লোকদের জন্য আরো বাড়ি নির্মাণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আর সিটি প্রপার্টি ট্যাক্স সিস্টেম সংস্কার প্রয়োজন, যার মাধ্যমে ভাড়াটেদের উপর করারোপ করা যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, নিউইয়র্কবাসী এমন লোকদেরই নির্বাচিত করবেন, যাতে নির্বাচিতরা তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে, রিয়েল এস্টেট ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থ নয়। আর সেজন্য তাদের ভোট দিতে যেতে হবে।



Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯