শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম

বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘স্যার আবেদ’

এনা অনলাইন : | রবিবার, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত ‘স্যার আবেদ’

ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের জানাজা শেষ হয়েছে। ২২ ডিসেম্বর রবিবার বাংলাদেশ সময় স্থানীয় দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে স্যার আবেদের জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে বনানীর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর কবরে শায়িত হলেন বরেণ্য এই উদ্যোক্তা। এতে সাধারণ মানুষের ঢল নামে।

বাংলাদেশের উন্নয়নের পালাবদলের অন্যতম পথদ্রষ্টা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ৮৩ বছর বয়সে গত ২০ ডিসেম্বর, শুক্রবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতাল মারা যান। তিনি মস্তিষ্কে টিউমারে আক্রান্ত হয়ে ২৮ নভেম্বর থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।



জানাজা শুরু হওয়ার আগে ফজলে হাসান আবেদের ছেলে শামেরান আবেদ বলেন, ‘আমার বাবা সারা জীবন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন। উনি যদি কাউকে দুঃখ দিয়ে থাকেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন।’ শামেরান সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে স্যার আবেদের মরদেহ আর্মি স্টেডিয়ামে রাখা হয়। সেখানে শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর জাতীয় সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানান গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নানা শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ স্যার আবেদকে শ্রদ্ধা জানাতে আজ জড়ো হন আর্মি স্টেডিয়ামে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের পক্ষে স্যার আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মেজর আশিকুর রহমান। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে শ্রদ্ধা জানান উপ-সামরিক সচিব কর্নেল সাইফুল্লাহ পিএসসি।

এছাড়া স্যার আবেদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও দলের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

সকাল ৯টা থেকেই আর্মি স্টেডিয়ামে আসতে শুরু করেন সাধারণ মানুষ, বিশিষ্টজন ও তার দীর্ঘদিনের সহকর্মীরা।

স্যার ফজলে হাসান আবেদকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য আর্মি স্টেডিয়ামে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়। স্টেডিয়ামে নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা ছাড়াও ব্র্যাক, আড়ং, ব্র্যাক ব্যাংক ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির স্বেচ্ছাসেবীরাও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেন।

চলতি বছর স্যার ফজলে আবেদ ব্র্যাকের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। তাকে প্রতিষ্ঠানটির ইমেরিটাস চেয়ার নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠা করার পর সংস্থাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় পরিণত হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচন ও উন্নয়নে ভূমিকা রাখায় স্যার আবেদ বাংলাদেশ ও বিশ্বের অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা পেয়েছেন।

১৯৮০ সালে র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, ২০১১ সালে ওয়াইজ প্রাইজ অব এডুকেশন, ২০১৪ সালে লিও টলস্টয় ইন্টারন্যাশনাল গোল্ড মেডেল, স্প্যানিশ অর্ডার অফ সিভিল ম্যারিট, ২০১৫ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি পুরস্কার অর্জন করেন।

সর্বশেষ চলতি বছর তিনি সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে সাউথ এশিয়ান ডায়াসপোরা অ্যাওয়ার্ড, শিক্ষায় ভূমিকা রাখায় ইয়াডান পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯