শিরোনাম

প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার ভ্রমণে সতর্কতা

ফুঁসছে পশ্চিমবঙ্গ: বিক্ষোভ ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ

এনা অনলাইন : | রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

ফুঁসছে পশ্চিমবঙ্গ: বিক্ষোভ ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাজধানী দিল্লি ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয় ও পাঞ্জাবসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার মুর্শিদাবাদ, বেলডাঙ্গা, উলুবেড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় গাড়ি, বাস ভাঙচুরের পাশাপাশি রেলস্টেশনে অগ্নিসংযোগের খবর দিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। গতকাল শনিবারও রাজ্যটির বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ করা হয় বলে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার।

বেশিরভাগ এলাকায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ ছিল। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারি বাস ভাঙচুর ও পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকটি স্টেশনে আগুনও ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিবাদকারীদের দমাতে কোনো কোনো এলাকায় পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতায় ভারতের উত্তরপূর্ব রাজ্যগুলোতে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফ্রান্স। প্রয়োজন ছাড়া ওইসব এলাকায় না যেতে নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে দেশ চারটি। ভারতে অবস্থানরত নাগরিকদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা এবং গণমাধ্যমের খবর অনুসরণেরও পরামর্শ দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতায় পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের আসাম ভ্রমণে স্থগিতাদেশ দেয়ার কথা বলা হয়েছে। কানাডা এবং ফ্রান্সও উত্তরপূর্ব ভারতে ভ্রমণে নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএনআই।



মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহ্বানেও কাজ হয়নি। গতকাল সকাল থেকেই নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় শুরু হয় বিক্ষোভ, রেল-সড়ক অবরোধ। কোথাও আবার বাস-গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর মতো ঘটনা ঘটছে। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর পাশাপাশি শুক্রবারে এই আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের আঁচ এ রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর থেকেই অশান্ত হয়ে ওঠে উলুবেড়িয়া, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-সহ রাজ্যের বেশ কিছু অঞ্চল। বিক্ষোভের আঁচ পড়ে কলকাতায়। আইন নিজেদের হাতে তুলে না নেয়ার বার্তা দেয়ার পাশাপাশি বিক্ষোভকারীদের সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী এবং রাজ্যপাল। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা ও হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় বিক্ষোভকারীরা কোথাও রেললাইনে, কোথাও জাতীয় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করে। প্রায় প্রতিটি জেলায় অবরোধের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেলডাঙায় পুলিসকে কাঁদানে গ্যাস ছুড়তে হয়। নামাতে হয় র‌্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স। বিডিও অফিসের সামনে ভাঙচুর হয় দুটি গাড়ি।

হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন বিরোধীদের টার্গেট ছিল রেল। বিক্ষোভকারীরা ট্রেন ও রেলের কেবিন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। বিক্ষোভ ও অবরোধের জেরে ব্যাহত হয় রেল ও সড়ক যোগাযোগ। পার্ক সার্কাসে দুই ঘণ্টা অবরোধ চলায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা। মা উড়ালপুলে তীব্র যানজট হয়। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ অসমের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সড়ক ও রেল যোগাযোগও কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

কলকাতা ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গায় অবরোধে শামিল হয় বিভিন্ন সংগঠনের মানুষ। তার জেরে এদিন দুপুর থেকে বিভিন্ন জায়গার মানুষকে চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। এদিন দুপুর দেড়টা থেকে উলুবেড়িয়ার নিমদীঘিতে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে অবরোধ শুরু হয়। তার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় শ’য়ে শ’য়ে গাড়ি দাঁড়িয়ে যায়। কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের রুইয়াতেও অবরোধ করেন এলাকার লোকজন। প্রায় আধাঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে অবরোধ তোলে। এর জেরে এখানেও যানজট হয়। এদিন বারাসতের কাজিপাড়ায় রেলগেটের কাছে একটি ধর্মীয় সংগঠন এই বিলের প্রতিবাদে মিছিল করছিল। তখন ট্রেনের সময় হয়ে যাওয়ায় গেটম্যান গেট বন্ধ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু, মিছিলকারীরা বাধা দেন। ফলে গেটম্যান গেট বন্ধ করতে পারেননি। ট্রেনটি সেখানেই দাঁড়িয়ে যায়। তখন মিছিল থেকে ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযাগ। যদিও তাতে কেউ হতাহত হননি বলেই রেল কর্তৃপক্ষের দাবি। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কামারহাটিতে বিটি রোডেও অবরোধ হয়। এদিন ডায়মন্ডহারবার শাখার রাসুলডাঙায় ট্রেন অবরোধ করা হয়। ঘণ্টাখানেক আপ ও ডাউন শাখায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। রাজারহাটে চৌরাস্তাতেও অবরোধ হয়। নারিকেলবাগান মোড়ে জমায়েত করে প্রতিবাদ জানানো হয়।

এ দিন সকাল থেকেই ডোমজুড়ের সলপ মোড়ে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ চলে। কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করে। বেশ কয়েকটি সরকারি বাসে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জও করতে হয় পুলিশকে।

শিয়ালদহ ডিভিশনের বারাসত-হাসনাবাদ শাখায় বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় সকাল সাড়ে ৬টা থেকে। হাসনাবাদ শাখার সোঁদালিয়া-লেবুতলা স্টেশনের মাঝে অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে, লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা শাখায় রেলের ওভারহেড তারে কলাপাতা ফেলে দেয়ার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। ফলে সকাল ৮টা থেকেই ওই শাখায় ট্রেন চলাচল বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মালদহ ডিভিশনের আজিমগঞ্জ শাখাতেও বিক্ষোভের জেরে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়ে বহু ট্রেন। যাত্রীদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

জঙ্গিপুর, মহিপাল-সহ বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকে। বাসুদেবপুরে হল্ট স্টেশনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা। সাকরাইল স্টেশনে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে এই অবরোধের জেরে হাওড়ার দক্ষিণ-পূর্ব শাখায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে রয়েছে লোকাল ও দূরপাল্লার ট্রেন।

শুক্রবার উলুবেড়িয়া স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। লণ্ডভণ্ড করে দেয়া হয় গোটা স্টেশন চত্বর। টিকিট কাউন্টার বন্ধ থাকায় এদিন চরম অসুবিধায় পড়েন সাধারণ ও নিত্যযাত্রীরা। অস্থায়ী টিকিট কাউন্টার খুলে আপাতত টিকিট দেয়ার কাজ চলছে বলে রেল সূত্রে খবর। বিক্ষোভ ছড়িয়েছে বীরভূমেও। সিএবি-র প্রতিবাদে মুরারইয়ে রেল অবরোধের জেরে ডাউন শতাব্দী এক্সপ্রেস বাঁশলই স্টেশনে আটকে পড়ে।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯