শিরোনাম

প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক, শিরোনাম

গণহত্যা মামলা রোহিঙ্গা সংকট পুনরুজ্জীবিত করতে পারে: সু চি

এনা অনলাইন : | শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

গণহত্যা মামলা রোহিঙ্গা সংকট পুনরুজ্জীবিত করতে পারে: সু চি

আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইজেসি) মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গাম্বিয়ার গণহত্যা মামলা রোহিঙ্গা সংকটকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে বলে সতর্কতা জানি মামলা বাতিল করার আর্জি জানিয়েছেন অং সান সু চি। মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর সু চি বলেন, গাম্বিয়ার মামলাটি খারিজ দেওয়ার আর্জি জানাচ্ছে মিয়ানমার। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার যে আবেদন করা হয়েছিল, তাও বাদ করা হোক।

তিনি আরও বলেন, সামরিক বিচার ব্যবস্থাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।



বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার শেষ দিনের শুনানিতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন মিয়ানমারের এজেন্ট স্টেট কাউন্সিলর সু চি।

আদালতকে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা খারিজ করে দেওয়ার আবদার জানিয়ে সু চি বলেন, গাম্বিয়ার এ মামলাকে আর আগ বাড়তে দেওয়া হলে তা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলার আশঙ্কা আছে।

এককালে যে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সু চিকে বন্দি করে রাখে, তাদের সাফাই গেয়ে তিনি বলেন, আমি আদালতের কাছে আবেদন জানাই, প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টির সঙ্গে তারা যেন এমন সিদ্ধান নেন, যা আমাদের  একতা স্থাপনে সাহায্য করে।

রাখাইনে পুনরায় শান্তি ফিরে আসছে দাবি করে মিয়ানমার নেত্রী বলেন, সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে কেবলই বিশ্বাস দানা বাঁধতে শুরু করেছে। ভঙ্গুর এ বিশ্বাসের ভিত্তিতে নতুন করে সন্দেহ বা সংশয় রোপণ করতে পারে বা সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপ পুনর্মিলনকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রেসিডেন্ট ইউসুফ জানান যত দ্রুত সম্ভব আদালত উভয় পক্ষকে তার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেবে। এর আগে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানো সেনাদের বিচারের প্রশ্নে মিয়ানমারকে বিশ্বাস করা যায় না বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইজেসি) রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার তৃতীয় ও শেষদিনের শুনানিতে গাম্বিয়ার যুক্তিখণ্ডন পর্বে এসব কথা বলেন দেশটির প্রধান আইনজীবী পল রাইখলার।

এর আগে গতকাল বুধবার (১১ ডিসেম্বর) শুনানির দ্বিতীয় দিনে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি ২০১৭ সালে রাখাইনে সেনা অভিযানকালে আইন লঙ্ঘন করা সেনাদের বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান।

এরই প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার গাম্বিয়া জানায়, মিয়ানমার মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা চালানো  নিজ সেনাদের বিচার করবে, এটি বিশ্বাসযোগ্য নয়। রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে যে সব পদক্ষেপ নেওয়া উচিত, সে সবের ব্যাপারেও দেশটিকে বিশ্বাস করা যায় না বলে জানায় তারা।

২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় মিয়ানমার সেনাবাহিনী ‘তাতমাদাও’।

তাতামাদাওয়ের নামোল্লেখ করে ১৭ বিচারকের উদ্দেশ্যে গাম্বিয়ার আইনজীবী বলেন, এটা কীভাবে সম্ভব যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানো তাতামাদাও নিজেই নিজের বিচার করবে? যখন কিনা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাং থেকে শুরু করে ৬ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেই জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। তাদের সবাইকে ফৌজাদারি মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছে।

এরপরপরই তিনি ২০১৮ সালের জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনের একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, সেখানে ২০১৭ সালে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে ‘গণহত্যার উদ্দেশ্যে’ খুন ও গণধর্ষণ চলানোর জন্য অভিযুক্ত করা হয়।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯