শনিবার ১৩ এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০ চৈত্র, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম
শিরোনাম

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে মেয়র

সিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকায় অংশ নিন

এনা অনলাইন :   বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ 12693
সিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অ্যাম্বাসেডরের ভূমিকায়  অংশ নিন

নিউইয়র্ক শহরের ম্যাকডোনাল্ড অ্যাভিনিউ থেকে ব্রঙ্কস ও কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সিটি পুলিশসহ এই শহরের প্রতিটি সংস্থায় আপনাদের কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করা উচিত। কারণ আপনাদের কমিউনিটির পরিষেবাগুলোর যত্ন নিজেদেরই নিতে হবে। এ জন্য আপনাদের সন্তানদেরও সিটির বিভিন্ন সংস্থায় অংশগ্রহণ করা দরকার। প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ কমিউনিটির সেবাকারী নেতা হওয়া। সবাইকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং একেকজন অ্যাম্বাসাডরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে। এ লক্ষ্যে আমি সিটি সরকার, পুলিশ বিভাগ ও এমটিএতে নারীদের হিজাব পরার অনুমতি নিশ্চিত করতে লড়াই করেছি।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল চারটায় সিটি হলে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশিদের সঙ্গে আয়োজিত ঐতিহাসিক এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরিউক্ত কথাগুলো বলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস। মেয়র অফিসের চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মির বাশারের উপস্থাপনায় ও স্বনামধন্য সেবা প্রতিষ্ঠান ‘ভালো’র উদ্যোগে এই গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ফ্রেড ক্রাইজম্যান, কমিশনার ম্যানুয়েল ক্যাস্ট্রো, স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান জেনিফার রাজকুমার, ডিওয়াইসিডির চিফ অব স্টাফ গ্লোরিয়া চিন, ডেপুটি কমিশনার কাজমি ভিলেনচিক, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জেসিকা হার্নান্দেজ, শুক্রানি ধানপাত, দিপা আভুলা, ডিএইচ কেয়ার ডিরেক্টর ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘ভালো’র সমন্বয়ক শাহরিয়ার রহমান প্রমুখ।

মেয়র অ্যাডামস বলেন, নিউইয়র্ক শহরের প্রতি আমি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ১১ সেপ্টেম্বর কনি আইল্যান্ড অ্যাভিনিউতে তরুণ ফিলিস্তিনিদের বাড়ি থেকে উৎখাত করার সময় আমাকে একা শহরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। ছোট ছেলেদের বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এ সময় আমি নেতাদের এবং এই কমিউনিটির অনেকের কাছে গিয়ে বলেছিলাম, আমরা এটি হতে দিতে পারি না। এ বিষয়ে আমি ৩১তম স্ট্রিট ও থার্ড অ্যাভিনিউতে সংবাদ সম্মেলনও করেছি। কিন্তু কাউকে আমার পাশে পাইনি। আমি একাই দাঁড়িয়েছিলাম। এমনও দিন গেছে, যখন ফিলিস্তিনি নারীরা হিজাব পরার কারণে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গ্রেগ বল মেঝেতে পবিত্র কোরআনকে অপবিত্র করার অপচেষ্টার সময়ও আমি তাকে বলি, এ কাজ করলে আমি তাকে বাধা দেব। যদিও এটা আমার ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, কিন্তু আমি সবার ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

তিনি আরও বলেন, আমি কে, সেই বিচার সৃষ্টিকর্তা করবেন। আমি হৃদয় দিয়ে সৃষ্টিকর্তাকে ভালোবাসি এবং যা সঠিক, তার পক্ষে দাঁড়াই। একই শক্তি আমি প্রদর্শন করেছি, এই শহরের মুসলিমবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে। ঈশ্বর আমাকে যা করতে বলেন, সে অনুসারেই আমাকে বাঁচতে হবে। প্রতিদিন আমি আমার হাঁটুর ওপর আছি। আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাকে প্রতিটি দিন ভালোভাবে পার করার শক্তি দেন।

এরিক অ্যাডামস বলেন, আমি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র, কারণ আমি ঈশ্বরের প্রতি মনোযোগী ও সত্য থাকি। আমার বিচার করার অধিকার কারও নেই। আর তোমার বিচার করার অধিকার আমার নেই, কারণ আমি ঈশ্বর নই। রোগ-শোক ও নানা কারণে অভিবাসী গোষ্ঠীগুলো দীর্ঘ সময় ধরে এজেন্সির শক্তিশালী অবস্থানের বাইরে থেকেছে। আমি দেখি আপনি সংশোধন বিভাগে কী করছেন, আমি দেখি বাংলাদেশি সমাজ কী করছে।

মেয়র বলেন, আমি বিগত ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে থাকা মেয়রদের মতো দেখতে নই। আমার মতো দেখতে শুধু একজন মেয়র এবং সেটা আমি। আপনাদের মধ্যে যেকোনো একজন এখন মেয়র হতে পারেন। মেয়র পদে থেকে আমরা দুই বছরে যা করেছি, তা সত্যিই গর্বিত হওয়ার মতো। ইতিমধ্যে আমরা সিটির অর্থনীতিকে কভার করেছি, অপরাধ কমিয়ে এনেছি। নির্বাচনী প্রচারণাকালে আমি হালাল খাবার সরবরাহ থেকে শুরু করে এই কমিউনিটিকে কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। অন্য মেয়ররা আপনাদের আজান দেওয়ার অধিকার দিতে পারতেন, কিন্তু দেননি। মুসলিমরা আমাকে এ বিষয়ে বলেছে এবং আমার কাছে আজানের অনুমতি চেয়েছে। তবে বিভিন্ন এজেন্সির সবাই আমাকে বলেছে, কেন আমি হ্যাঁ বলেছি। আমি বলেছি, কারণ আমি মেয়র এবং আমরা এটি করতে যাচ্ছি। আমরা নামাজের জন্য আজান দিতে যাচ্ছি। তাই আপনার ভাই ও বোনেরা যারা এখানে মুসলমান, তারা নামাজ পড়তে পারছেন। এটাই মেয়রের ভূমিকা। সিটি হল এবং সরকারে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে, তার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আপনাকে গুরুত্বপূর্ণ হতে হবে।

মেয়র অফিসের চীফ অ্যামিনিস্ট্রেটিভ অফিসার মির বাশার উপস্থিত সবাইকে স্বাগত জানিয়ে মেয়র এডামস বাংলাদেশি কম্যুনিটির জন্য গত দুই বছর কী কী কার্যক্রম করেছেন তা সংক্ষিপ্তকারে তুলে ধরেন।

এছাড়া মেয়র অ্যাডামস ডিএইচ কেয়ার-এর সিইও ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ভালো’র সমন্বয়ক শাহরিয়ার রহমান ও মির বাশারকে ধন্যবাদ দেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশিদের পক্ষে কীভাবে আরও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়, সে বিষয়ে মেয়রের সহযোগিতা কামনা করা হয়। উপস্থিত প্রশ্নকারীরা হাউজিং, হেলথ, বাংলা ভাষা সর্বত্র চালু, সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি, কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ, শহীদ মিনার নির্মাণ প্রভৃতি বিষয়ে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মেয়র প্রতিটি দাবির সঙ্গে সহমত পোষণ করে উপস্থিত কর্মকর্তাদের বিষয়গুলোর সুষ্ঠু সমাধানের নির্দেশ প্রদান করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে মেয়রকে প্রশ্ন করেন রুহিন হোসেন, মোহাম্মদ আলী, ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ডিটেক্টিভ মাসুদুর রহমান, মেহেদী আমিন, রোহানা হোসেন প্রমুখ।

গোলটেবিল বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক এমপি এম এম শাহীন, এনওয়াইপিডির ডেপুটি ইন্সেক্টর ক্যাপটেন আব্দুল্লাহ, বাঙালী সম্পাদক কৌশিক আহমেদ, আইবিটিভি সিইও জাকারিয়া মাসুদ জিকু, আক্তার আহমেদ টিপু, খলিলুর রহমান, সারা আহমেদ, আসিফ খান প্রমুখ।

Facebook Comments Box

Comments

comments

Posted ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

America News Agency (ANA) |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আর্কাইভ

 

President/Editor-in-chief :

Sayeed-Ur-Rabb

 

Corporate Headquarter :

 44-70 21st.# 3O1, LIC. New York-11101. USA, Phone : +6463215067.

Dhaka Office :

70/B, Green Road, 1st Floor, Panthapath, Dhaka-1205, Phone : + 88-02-9665090.

E-mail : americanewsagency@gmail.com

Copyright © 2019-2024Inc. America News Agency (ANA), All rights reserved.ESTD-1997