শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম

নিউইয়র্কে গণসংবর্ধনা ২৮ সেপ্টেম্বর

শেখ হাসিনা আসছেন ২২ সেপ্টেম্বর

এনা অনলাইন : | মঙ্গলবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

শেখ হাসিনা আসছেন ২২ সেপ্টেম্বর

জাতিসংঘের ৭৪তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসবেন। আর সম্মেলনে যোগদান শেষে তিনি ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার উদ্দেশে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাবেন। প্রতিবারের মতো এবারও তার সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন আমলা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সফরসঙ্গী হবেন। তার বহরে প্রতিনিধির সংখ্যা সরকারিভাবে ৫০ না ছাড়ালেও অনেকেই এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও নিজ খরচে সফরসঙ্গী হিসেবে আসবেন বলে জানা গেছে। সেই হিসাবে সংখ্যা দুই শতাধিকের বেশি হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন আসছেন এটা নিশ্চিত। এদিকে ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন। বরাবরের মতো এবারও জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন বাংলায়। তিনি প্রতিবছর ধারাবাহিকভাবে বাংলায় ভাষণ দিয়ে আসার নজির স্থাপন করেছেন অনেক আগেই। কিন্তু এবার তিনি টানা তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এখানে আসছেন। টানা ১১ বারের মতো বাংলায় ভাষণ দেবেন।
তিনি জাতিসংঘে আসার পর তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হতে পারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মার্কিন ফার্স্ট লেডির। এছাড়া যুক্তরাজ্য, জাপান, কানাডা, চীনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধানের (যে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানগণ যোগ দেবেন সেই হিসাবে) সঙ্গেও দেখা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী মাসে এসব কর্মসূচি চ‚ড়ান্ত হবে। সূত্র জানায়, কোন কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের সাথে সাক্ষাৎ হবে ও আলাদা বৈঠক হবে, এসব সময়সূচি ঠিক হচ্ছে। আরো কয়েক দিন পর এগুলো চ‚ড়ান্ত হবে। সব অনুষ্ঠানের সময়সূচি চ‚ড়ান্ত হলে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের তা অবহিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক সফরকালে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। এই সময়ে তার সম্মানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এ নিয়ে চলছে প্রস্তুতি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে যে কোন্দল, গতবার প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখে গেছেন এবারও তা রয়ে গেছে। তা থাকলেও সবাই চাইছেন প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফলভাবে করার। বেশ বড় পরিসরে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। তার সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে ২৮ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ম্যারিয়ট মার্ককুইজে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা ও কর্মীরা যোগ দেবেন। এছাড়া বিশিষ্টজনরা উপস্থিত থাকবেন।
গতবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি একপর্যায়ে যারা আওয়ামী লীগের যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছিলেন তাদের চুপ করার জন্য বলেছেন। এবারও ওই বিভেদ রয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনা নিয়ে বিরোধীদের তৎপরতা এবারও থাকবে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসূচি ও অনুষ্ঠানের বিভিন্ন সেশনের সিডিউল চ‚ড়ান্ত হলে ও তার কোন কোন সেশনে বক্তৃতা রয়েছে তা জানানো হবে। তবে জানা গেছে, অন্যান্য বারের মতো তিনি এবারও একাধিক সেশনে বক্তৃতা করবেন। এর মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সেমিনার, এসডিজি অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে বক্তৃতা করবেন। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও তার আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। এসডিজি অর্জন সংক্রান্ত বিষয়ে গত পাঁচ বছরে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরবেন। বাংলাদেশ যেসব ক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে, সেসব বিষয়ও তুলে ধরবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সেমিনারে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় তার সরকারের আমলের বাংলাদেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরবেন। পাশাপাশি তিনি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও দেশের উন্নয়নসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বক্তৃতা করবেন। প্রবাসীদের বিনিয়োগের বিষয়টিতেও গুরুত্ব আরোপ করবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রী যখন এখানে অবস্থান করবেন, তখন তার জন্মদিন উদ্্যাপিত হবে। তিনি ঘটা করে জন্মদিনের কোনো অনুষ্ঠানে যোগ না দিলেও তার জন্মদিন ব্যাপকভবে উদ্্যাপন করবেন এখানকার নেতাকর্মীরা। এ জন্য তারা কেকও কাটতে পারেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে ১৪ বার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন। এবার যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৫ বার হবে। তিনিই বোধ হয় এতবার একনাগাড়ে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। কারণ তিনি টানা তিন মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী। গত দুই মেয়াদেই যোগ দিয়েছেন ১০ বার। এবার নিয়ে টানা ১১ বার। এর আগের মেয়াদে যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখনো তিনি সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তিনি ক্ষমতাসীন থাকাকালীন প্রতিবছরই বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে জাতিসংঘে সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন কেবল একটি বছর ছাড়া। একবার তিনি যোগ দেননি। তাই এবার তার যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে ১৫ বার যোগ দেওয়া হবে।
বাংলাদেশের বড় একটি সংকট রোহিঙ্গা সংকট। রোহিঙ্গা ইস্যুটি জাতিসংঘের আগামী সাধারণ পরিষদে ও মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে গুরুত্ব পাবে। ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশন শুরু হবে আর ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্ক হবে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়টি তুলে ধরবেন। এর আগে ২০১৭ ও ২০১৮ সালে সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি রোহিঙ্গা সংকটের কথা গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে অনেক দিন ধরেই সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ জন্য আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতা কামনা করেছেন। বাংলাদেশ এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সফল হতে পারেনি। দুই দফা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে তাদেরকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের ওপর জোর দিতে পারেন।
জানা গেছে, আগামী অক্টোবর মাসে জাতিসংঘের মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতিবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লি সাধারণ পরিষদে তার প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হবে। গত বছর রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর জেনোসাইড, মানবতাবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও জাতিগত নির্মূলের অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ গঠিত তদন্ত দল। তদন্ত দল দুটি প্রতিবেদনে মিয়ানমার বাহিনীর ব্যবসা-বাণিজ্য, যৌন সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। মানবাধিকার পরিষদের আসন্ন অধিবেশনে রিপোর্টের বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য উপস্থাপিত হবে।
সূত্র জানায়, নিউইয়র্ক সফরের শেষ দিনে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য বারের মতো এবারও কথা বলতে পারেন নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলা গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে। তিনি তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেবেন। সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ২৭ সেপ্টেম্বর হতে পারে কিংবা ২৮ সেপ্টেম্বর। তিনি ২৭ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিলে সংবাদ সম্মেলন হবে ২৮ সেপ্টেম্বর আর ২৮ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিলে সংবাদ সম্মেলন হবে ২৯ সেপ্টেম্বর। সাধারণত প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পরদিন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন থেকে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এবার তার ভাষণের সিডিউল হতে পারে ২৭ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানগণ যখন ভাষণ দেন, তখন তাদের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া থাকে না। এ কারণে কে কার পরে বলবেন, সেই সিডিউল নির্ধারিত থাকে। আর এক সপ্তাহ আগেও চ‚ড়ান্ত করে বলা সম্ভব হয় না যে ওই দিন ভাষণ দেবেন। একেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানগণ ভাষণ দেওয়ার সময় একেক রকম সময় নেন। ফলে সেভাবেই ভাষণের দিনগুলো অতিবাহিত হতে থাকে। একদিন আগে থেকে সময়সূচি চূড়ান্ত হতে থাকে। সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত যতখানি মনে হচ্ছে তাতে ২৭ কিংবা ২৮ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ হবে।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০