শিরোনাম

প্রচ্ছদ যুক্তরাষ্ট্র, শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগ বিভক্তির আগুনে জ্বলছে

এনা অনলাইন : | বুধবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগ বিভক্তির আগুনে জ্বলছে

ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের মধ্যে কমিটি নিয়ে বিভক্তি দেখা দেয়। এবারের বিভক্তি অন্য যে কোন সময়ের তুলনায় তীব্র। বলা যায় বিভক্তির আগুনে জ্বলছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ। বিভক্ত দুটো গ্রুপের মধ্যে একটির নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান। অন্যটির নেতৃত্বে রয়েছেন উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। বিভক্তি এত চরম আকার ধারণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কর্মী সম্মেলন পর্যন্ত ডেকেছিলেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী পরিবারের ব্যানারে ডাকা এই কর্মী সম্মেলন গত ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মী সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন এবং যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি উত্থাপন করেন। সেই সাথে তারা আহবান জানান, প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনায় ড. সিদ্দিকুর রহমান যেন না যান এবং সভাপতিত্ব না করেন। তিনি সভাপতিত্ব করতে গেলে উদ্ভুত পরিস্থিতির জন্য ড. সিদ্দিকুর রহমানকেই দায়ী থাকতে হবে দাবি করা হয়। এ ছাড়াও ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অশোভন ভাষায় স্লোগানও দেয়া হয়।

অন্যদিকে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ’আমার কী দোষ। সম্মেলনতো আমিও চাই। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন না দিয়ে আমি কি করবো?’ তিনি আরো বলেন, গত বছরও তারা এই সময়ে সভা- সমাবেশ করেছিলো। আমি তাদের সমাবেশে গিয়ে বলেছিলাম, আমিও আপনাদের সাথে আছি এবং সম্মেলনের পক্ষে। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করা হচ্ছে সেই সব অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। তারা বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা করছে। আসলে তারা কী চায় সেটা তারাই জানে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ড. সিদ্দিকুর রহমান রয়েছেন ৮ বছর। যুক্তরাষ্ট্র বিদ্রোহী গ্রুপের দাবি এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেয়া হোক। বিদ্রোহী গ্রুপের একজন নেতা দাবি করেন প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের বৈঠক হয়েছে, তিনি বলেছেন তার গণসংবর্ধনায় যেন কোন গন্ডোগোল না হয়, তিনি সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেবেন। অন্যদিকে সিদ্দিকুর রহমানের পক্ষের গ্রুপ বলছেন, আমরা জানি না নেত্রী কমিটি দেবেন কি না। কমিটি দেয়া না পর্যন্ত ড. সিদ্দিকুর রহমানই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তার নেতৃত্বেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে এবং তিনিই সেই সভায় সভাপতিত্ব করবেন। ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিউইয়র্ক আগমনের পূর্বেও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে বিভক্তি দেখা দিয়েছিলো। সেই সময় ড. সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বোধীন আওয়ামী লীগ একটি স্বল্পকালীন অফিসও নিয়েছিলো জ্যাকসন হাইটসে। সেই সময়ও দুই গ্রুপের উত্তেজনায় মারামারির ঘটনা ঘটেছিলো। এই ঘটনায় বিদ্রোহী গ্রুপের কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিলো। পরে অবশ্য সেই মামলা তুলে নেয়া হয়। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর গণসংবর্ধনা সভায় তিনি আসার সাথে সাথেই ’নো মোর সিদ্দিক’, ’নো মোর সিদ্দিক’ স্লোগানে পুরো অডিটোরিয়ামে অন্য রকম এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেই স্লোগানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চরম বিরক্ত হয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ধমকে সেই স্লোগান বন্ধ হয়। প্রধানমন্ত্রী ধমক দিয়ে স্লোগান বন্ধ করেছিলেন কিন্তু কোন কমিটি দেননি। তিনি আস্থা রেখেছিলেন ড. সিদ্দিকুর রহমানের উপরই।

এবারো প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা তিনি এবার সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি দেবেন। কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতার ইন্ধনে বিদ্রোহী গ্রুপ ড. সিদ্দিক বিরোধী আন্দোলন করে যাচ্ছেন। একটি সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাসে বিদ্রোহী গ্রæপের কয়েকজন নেতা বাংলাদেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং তারা ড. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তারা দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবার নতুন কমিটি দেবেন।

অন্যদিকে আরেকটি সূত্রে জানা গেছে, কমিটি দেয়া নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর। তিনি ইচ্ছা করলে কমিটি দিতে পারেন, আবার নাও দিতে পারেন। তবে এবারো কমিটি না দেয়ার সম্ভাবনা বেশি। যদিও তা নির্ভর করছে বিভক্ত কমিটির (বিদ্রোহী গ্রুপের) কর্মকান্ডের উপরে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসাবে সম্ভাব্য যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হচ্ছেন- বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, ওয়াশিংটনের ড. খন্দকার মনসুর, আটলান্টার মোহাম্মদ আলী মানিক, ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, ডা. মাসুদুল হাসান, বর্তমান কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, বর্তমান সময়ের আলোচিত নাম ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক হিসাবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তারা হলেন বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী এনাম, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, আব্দুল হাসিব মামুন, বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা আইরীন পারভীন, বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক চন্দন দত্ত, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, আইন বিষয়ক সম্পাদক শাহ বখতিয়ার, জনসংযোগ সম্পাদক কাজী কয়েস, বর্তমান কার্যকরি কমিটির সদস্য হিন্দাল কাদির বাপ্পা, দেওয়ান বজলু প্রমুখ।

এ দিকে বিদ্রোহী গ্রুপ সম্মেলন দাবির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা সফল করার জন্য লোক দেখানো গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। অনেকেই বলেছেন, ড. সিদ্দিকুর রহমানকে যদি সভাপতিত্ব করতে না দেয়া হয়, তাহলে তারা আলাদা হল ভাড়া করুক। একবার প্রয়াত নূরুল ইসলাম অনু এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম আলাদা আলাদা হল ভাড়া করেছিলেন। কিন্তু বিদ্রোহীরাতো কোন হল ভাড়া করেনি। ড. সিদ্দিকের ভাড়া করা হলে গিয়েই তারা উপস্থিত হবেন।

বিদ্রোহী গ্রুপের প্রধান টার্গেট হচ্ছে নতুন কমিটি। অন্যদিকে ড. সিদ্দিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণসংবর্ধনা সফল করার জন্য অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। প্রতিদিনই নিউইয়র্কের বিভিন্ন বরোতে সভা সমাবেশ করছেন। তাদের এই কর্মসূচি আগামী ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ড. সিদ্দিকুর রহমান জানান, ইতিমধ্যেই হোটেল বুকিং দেয়া হয়েছে এবং সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। এখন বিভিন্ন বরোতে কমিটি করা হচ্ছে। সেই সাথে করা হচ্ছে বিভিন্ন সাব কমিটি।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১