শিরোনাম

প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য, শিরোনাম

বাণিজ্যযুদ্ধ ও ব্রেক্সিটে ঝুঁকি বাড়ছে ইইউ অর্থনীতিতে

এনা অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৯ মে ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

বাণিজ্যযুদ্ধ ও ব্রেক্সিটে ঝুঁকি বাড়ছে ইইউ অর্থনীতিতে

ইউরোপীয় কমিশন (ইসি) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধের মাত্রা বৃদ্ধির হুমকি ও ব্রেক্সিট ঘিরে তৈরি অনিশ্চয়তা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। খবর গার্ডিয়ান।

ইইউর ২০১৯ সালের প্রবৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের পূর্বাভাস কমিয়েছে ইসি। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে যে শ্লথগতি তৈরি হয়েছে, তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এ মহাদেশের ওপর। ইসির নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ২৮ দেশের ইইউর জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ১ দশমিক ৪ শতাংশ। এর আগে ১ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

চলতি সপ্তাহে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ফের আলোচনায় বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। কিন্তু দিনকয়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত করে তুলেছে। আগামী দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে জানিয়ে কমিশন সতর্ক করে দিয়ে বলছে, বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ বৃদ্ধি পেলে ইইউর অর্থনীতি বড় ধাক্কা খেতে পারে।

অন্যদিকে ব্রেক্সিট-সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ইইউর প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এর ওপর চুক্তিহীন ব্রেক্সিটের ঝুঁকি আগামী দিনের অর্থনৈতিক শক্তির জন্য হুমকি তৈরি করছে। ইসি বলছে, চুক্তিহীনভাবে বেরিয়ে গেলে ব্রিটেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে, তবে সেটি ইইউর ২৭ দেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

মার্কিন-চীন আলোচনা চূড়ান্ত রূপ না পেলে ট্রাম্পের চীনা পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে পারে। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর সতর্কবার্তা নিয়ে হাজির হলো ইসি।

তবে অনেক বিশ্লেষক বলছেন, এ শুল্ক বৃদ্ধিকে আলোচনায় দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন ট্রাম্প, তাই আদতে এটি কার্যকর হবে না। ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারগুলোয় দরপতন দেখা দেয়। এফটিএসই ১০০-এর পতন হয় ১২০ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, ডাও জোনসের পতন হয় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৪৪২ পয়েন্ট।

এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্দে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে এটি বিশ্ব অর্থনীতির মহা ক্ষতি করবে। তিনি বলেন, আইএমএফের মত হলো সবাইকে খুশি করে—এমন পন্থায় বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমন করা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, কেননা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা পরিষ্কারভাবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করছে।

চলতি বছরের শ্লথগতির প্রবৃদ্ধি নিয়ে ইইউর পূর্বাভাস নির্দিষ্ট কিছু দেশের প্রবৃদ্ধিতে দুর্বলতা বজায় থাকাকে প্রতিফলিত করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর ইতালির প্রবৃদ্ধি হবে শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। ধারণা অনুযায়ী, অর্থনৈতিক শ্লথগতির কারণে ২০২০ সালে ইতালি সরকারের বাজেট ঘাটতি বেড়ে দাঁড়াবে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ, যা ২০১৯ সালে ছিল ২ দশমিক ৫ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক চাহিদা কমায় জার্মানির রফতানিতে টান পড়েছে। অন্যদিকে রয়েছে ব্রেক্সিটে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ও গাড়ি ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের শ্লথগতি। এসব কারণে চলতি বছরের জন্য জার্মানির প্রবৃদ্ধির হার আগের ১ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ২০১৮ সালের দ্বিতীয়ার্ধে জার্মানি অল্পের জন্য মন্দা এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

বছরের শুরুতে প্রত্যাশার তুলনায় ভালো পারফরম্যান্সের কারণে চলতি বছরের জন্য যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস শূন্য দশমিক ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, ব্রেক্সিট প্রক্রিয়ায় অগ্রগতির অভাবে যুক্তরাজ্য ও ইইউর মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্কে স্থবিরতা নেমে এসেছে এবং চুক্তিহীন ব্রেক্সিট হলে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ক্ষতি সম্মুখীন হবে।

ইউরোপিয়ান কমিশনের ইউরো অ্যান্ড সোস্যাল ডায়ালগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেলদিস দোমব্রোভক্সি বলেন, পূর্বাভাসে ঝুঁকির দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্যযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং উদীয়মান বাজারগুলোর দুর্বলতা, বিশেষ করে চীনের। ইউরোপে সম্ভাব্য চুক্তিহীন ব্রেক্সিট নিয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১