শিরোনাম

প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য, শিরোনাম

দুই বছরের ব্যবধানে গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় দ্বিগুণ

এনা অনলাইন : | সোমবার, ১০ জুন ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

দুই বছরের ব্যবধানে গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় দ্বিগুণ

গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম বেড়েছে দুবার। ২০১৫ সালের পর ২০১৭ সালেও বাড়ানো হয় গ্যাসের দাম। উচ্চমূল্যে গ্যাস বিক্রির ফলে দুই বছরেই এ খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণের বেশি। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের কোষাগারে ৬ হাজার ২০৪ কোটি টাকা জমা দিলেও সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছর এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে আয় দ্বিগুণ হওয়ার পরও নতুন করে গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। উচ্চমূল্যে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কারণ দেখিয়ে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির এ প্রস্তুতি চলছে।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, এক দশক ধরেই গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বাড়ছে ধারাবাহিকভাবেই। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে এ খাত থেকে সরকারের আয় ছিল ২ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৩ হাজার ২৬৩ কোটি ও ২০০৯-১০ অর্থবছরে ৩ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। ২০১০-১১ অর্থবছরে গ্যাস খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা, ২০১১-১২ অর্থবছরে রাজস্ব আসে ৪ হাজার ৫৩৮ কোটি ৩৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫ হাজার ৫৮৬ কোটি ৫৮ লাখ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫ হাজার ৩৭৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে আয় হয় ৬ হাজার ২০৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা।



২০১৫ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ফলে আয়ও বেড়ে হয় ৭ হাজার ৫২১ কোটি টাকা। পরের বছর গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় আরো বেড়ে ১৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকায় দাঁড়ায়। আয় বৃদ্ধির এ ধারা গত অর্থবছরেও অব্যাহত ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বেড়ে হয় ১৪ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

গ্যাস খাত থেকে সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি পেট্রোবাংলা ও এর অধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফাও বেড়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পেট্রোবাংলা মুনাফা করে ৯২০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সংস্থাটি মুনাফা করেছে ৯৬৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

গ্যাস সংকট মোকাবেলায় এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। দেশে বিদ্যমান দামের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ দামে এই এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। আর এতে সরকারের বিপুল অংকের অর্থ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বর্তমানে আমদানি করা এলএনজিতে বছরে ২৪ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি দাঁড়াবে বলে জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। উচ্চমূল্যের এলএনজির কারণে আবারো গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। গ্যাসের দাম বাড়াতে বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের মার্চে গণশুনানিও করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর যুক্তি হিসেবে সরকার এলএনজির দামের সঙ্গে গ্রাহকদের সহনীয় করে তোলার পাশাপাশি জ্বালানি খাতের উন্নয়নমূলক কাজের ব্যয় সংকুলানের কথাও বলছে। এক্ষেত্রে যুক্তি হলো ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হলে সার্বিকভাবে গ্যাসের দাম বেড়ে যাবে। তাই এ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সহনীয় করতে ধাপে ধাপে গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হচ্ছে ১৪ হাজার কোটি টাকা। এ ব্যয় গ্যাস বিক্রির অর্থে নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এজন্যই গ্যাসের মূল্য বাড়ানো প্রয়োজন।

গ্যাস খাতের এ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতির অভাবকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গ্যাস খাতের উন্নয়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে গত এক দশকে এ খাতের উন্নয়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। এ সময়ের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে কোনো গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান হয়নি। স্থলভাগে সর্বশেষ গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ১৯৯৯ সালে। আর অফশোরে গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হয়েছে সর্বশেষ ২০০৪ সালে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ম. তামিম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে সরকার শুরু থেকেই উদাসীনতা দেখিয়েছে। তা না হলে আমরা হয়তো এক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকতে পারতাম। গ্যাসের মজুদ কমে আসছে। এ পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমাতে ও ভবিষ্যতে এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কাটাতে কয়লা উত্তোলনের দিকে যেতে হবে। তা না হলে জ্বালানির অন্য খাতগুলোর উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চললেও পেট্রোবাংলার অধীন অধিকাংশ কোম্পানিই মুনাফায় আছে। পেট্রোবাংলার অধীনে মোট কোম্পানি রয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে দুটি কোম্পানি গ্যাস উৎপাদন, অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রমে একটি, গ্যাস সঞ্চালনে একটি, গ্যাস বিতরণে ছয়টি এবং যানবাহনে জ্বালানি হিসেবে গ্যাস ব্যবহারে একটি কোম্পানি রয়েছে। এছাড়া খনিজ সম্পদ আহরণে রয়েছে আরো দুটি কোম্পানি। গ্যাস উৎপাদন ও বিতরণ কোম্পানির সবগুলোই লাভে রয়েছে।

তবে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি খাতে বর্তমানে কোনো গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিকে ভর্তুকি দেয়ার প্রয়োজন হয় না। কারণ গ্রাহকের কাছে বিক্রীত গ্যাসের টাকায় কোম্পানিগুলো মুনাফা করছে। আইওসির কাছ থেকে গ্যাস কিনতে যে বাড়তি টাকা ব্যয় হয়, তা সম্পূরক শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় করা হয়।

পেট্রোবাংলার বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্যাস বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লাভের অংশ ছাড়াও ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে (জিডিএফ) জমা হয় ৯ হাজার ১৮৫ কোটি টাকা। নতুন গ্যাসকূপ অনুসন্ধান, খনন ও গ্যাস খাতের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ব্যয় বহনের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে এ তহবিল গঠন করা হয়, যেখানে প্রতি ঘনমিটার গ্যাস বিক্রির বিপরীতে ১ থেকে দেড় টাকা জমা হয়।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১