শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম, স্লাইডার

ঢাকায় খোকার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল

এনা অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ০৭ নভেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

ঢাকায় খোকার জানাজায় সর্বস্তরের মানুষের ঢল

রাজধানী ঢাকার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের শেষ মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার তৃতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় অংশ নেয় দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও সর্বস্তরের লাখো জনতা।

এ সময় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার শেষ আকুতি ছিলো দেশে ফেরার, তিনি ফিরলেন তবে কফিনে জড়িয়ে। এ সময় তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন।



সংসদ ভবনে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর পর বৃহস্পতিবার পুর ১টা ৩০ মিনিটে নয়াপল্টনে আনা হয় খোকার লাশ। এসময় নয়া পল্টনে ঢল নামে জনতার। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্নস্তরের হাজারো সাধারণ জনতা জানাজায় অংশ নেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় বিএনপির এই কেন্দ্রিয় নেতার লাশবাহী ফ্লাইট। বিমানবন্দরে খোকার লাশ গ্রহণ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো একনজর দেখা ও তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়াপল্টনে দুপুর ১২টার আগে থেকেই কালো ব্যাজ ধারণ করে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন।

জীবিত খোকাকে দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার : ফখরুল
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাকে জীবদ্দশায় সরকার দেশে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এদিন ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা।

এ সময় মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার সকাল-বিকেল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বললেও সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় দেশে ঢুকতে দেয়নি‌। এ রকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের চেতনায় জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে বলেও জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘খোকা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি আধুনিক ঢাকা গড়ার কাজ শুরু করেছিলেন। আমরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করি।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানসহ ঢাকা মহানগর বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

বাবার জানাজার আগে যা বললেন খোকাপুত্র
প্রায় সময়ই আব্বু বলতেন, যেই বাংলাদেশ নিজ হাতে স্বাধীন করেছি, সেই দেশে আমাকে কি বাক্সবন্দি হয়ে ফিরতে হবে? শেষ পর্যন্ত বাবার কথাই সত্যি হলো। তাকে দেশে আনা হলো, তবে সুস্থ অবস্থায় নয়, একেবারে কফিনে মুড়িয়ে বাক্সবন্দি করে। এ কথা বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন খোকার বড় ছেলে ইশরাক।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার জানাজার আগে এক আবেগঘন বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জানাজায় অংশ নেয়া খোকার রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে অনেককেই কাঁদতে দেখা যায়।

খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন বলেন, জানাজায় সব দলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে তার বাবা সবার কাছে একজন গ্রহণযোগ্য নেতা ছিলেন। আমার বাবা দেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে না পারার দুঃখ নিয়ে মারা গেছেন। তিনি (খোকা) ভ্রমণ নথি দিয়ে দেশে ফিরলেন। তিনি ২০১৭ সালে পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করলেও তিনি তা পাননি।’

আজ ৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে খোকার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগমুহূর্তে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বাবার স্মৃতি রোমন্থন করেন খোকাপুত্র।

এর আগে সাদেক হোসেন খোকার লাশ আজ সকাল ৮টা ২৮ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

খোকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাস ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু তার মরদেহ গ্রহণ করেন। বিমানবন্দর থেকে খোকার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনে নেয়া হয়। সেখানে বেলা ১১টায় তার জানাজা হয়।

এটিই দেশের মাটিতে খোকার প্রথম জানাজা।

তার প্রথম জানাজা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত সর্বস্তরের বাংলাদেশিরা অংশ নেয়। জানাজা শেষে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়।

শুধু আওয়ামী লীগ নেতারা নয়, মহান স্বাধীনতাযুদ্ধের এ গেরিলা যোদ্ধার জানাজায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের জনগণও অংশ নেন।

জানাজা শেষে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা সংসদের বিরোধী দলের নেতা পক্ষ থেকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, এলডিপি প্রেসিডেন্ট অলি আহমেদসহ বর্তমান ও সাবেক সংসসদ সদস্যরা খোকার কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজায় অন্যান্যদের মধ্যে অংশ নেন সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, বিএনপি নেতা ড. আব্দুল মঈন খান, ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, এলডিপি সভাপতি অলি আহমেদ, জাতীয় পার্টির নেতা কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আব্দুল কাদির সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

সংসদ প্রাঙ্গণে জানাজা শেষে মুক্তিযুদ্ধে গেরিলা যোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ সর্বস্তরের জনগণের শ্রদ্ধার জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়।

ইশরাক খোকার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে তাদের সহযোগিতা করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের মানুষ ছিলেন : তোফায়েল
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা বিনয়ী ও মার্জিত আচরণের ব্যক্তি ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা তোফায়েল আহমেদ। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় খোকার নামাজের জানাজায় অংশ নিতে এসে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

মুক্তিযুদ্ধে খোকার অবদানের কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল বলেন, ‘আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিজীবনে তিনি চমৎকার মানুষ ছিলেন। ব্যক্তিজীবনে আমাদের প্রত্যেক্যের মধ্যেই ত্রুটি রয়েছে। সাদেক হোসেন খোকা মানুষ হিসেবে ছিলেন অমায়িক ও ভদ্র।’

দেশবাসী সাদেক হোসেন খোকার অবদান শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে : সাঈদ খোকন
সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র মরহুম সাদেক হোসেন খোকার লাশে শ্রদ্ধা জানালেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

সাদেক হোসেন খোকার লাশ আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে আনা হয়। এখানে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার কফিনে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান মেয়র সাঈদ খোকনসহ সাবেক ও বর্তমান কাউন্সিলরগণ, কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ ইমদাদুল হক ও বিভিন্ন দফতরের বিভাগীয় প্রধানগণসহ অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিবর্গ।

জানাজা শুরুর আগে মেয়র সাঈদ খোকন নগরবাসীর উন্নয়নে মরহুম সাদেক হোসেন খোকার অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশবাসী তার এ অবদানের কথা স্মরণ করবে। তিনি তার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

ডিএসসিসির ব্যবস্থাপনায় নগর ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ জানাজায় মেয়র সাঈদ খোকনের সাথে সাদেক হোসেন খোকার দুই পুত্র ইশরাক হোসেন ও ইশরাফ হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, বিএনপি নেতা এমরান সালেহ প্রিন্স, ডিএসসিসির বর্তমান কাউন্সিলরগণ, সংস্থার সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ শরীক হন।

‘গেরিলা যোদ্ধাকে বিদায় জানাতে এসেছি’
বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা শুধু একটি দলের ছিলেন না। গেরিলা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করা এই বীর যোদ্ধাকে তাই শ্রদ্ধা জানাতে জাতীয় শহীদ মিনারে ঢল নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের। শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকরাও এমন অভিমতই ব্যক্ত করেছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, কর্মজীবীসহ সকল শ্রেণি পেশার মানুষ বৃহস্পতিবার জাতীয় শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাকে।

হাতে তিনটি গোলাপ ফুল নিয়ে মায়ের সাথে শ্রদ্ধা জানাতে আসা ১১ বছরের বালক জুনায়েদ হোসেন বলেন, ‘গেরিলা বাহিনীকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি।’ চানখারপুল এলাকার বাসিন্দা জুনায়েদ। মায়ের কাছে শুনেছেন একাত্তরে গেরিলা যুদ্ধ করে খোকা প্রিয় মাতৃভূমিকে মুক্ত করেছেন।

জুনায়েদের মা সাবেকুন নহার বলেন, আমরা রাজনৈতিক দলের কোনো নেতাকর্মী না। উনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তাই আমার সন্তান তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছে।

মুন্সিগঞ্জ হরগঙ্গা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো: ফয়সাল বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন বিপ্লবী নেতা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে রণাঙ্গনে তিনি গেরিলা যুদ্ধ করেছেন। তাই তার কফিনে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে এসেছি। কোন রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল বলেন, না আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নই।

রাজধানীর ডেমরা থেকে আসা ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সদস্য সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে এই প্রতিবেদকে বলেন, আমি বর্তমানে গৃহিণী। রাজনীতিতে সক্রিয় নেই বহুদিন। সাদেক হোসেন খোকা জাতির বীর সন্তান ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে তার কাছ থেকে পিতৃস্নেহ পেয়েছি। তিনি ছিলেন একজন সৎ ও আদর্শবান রাজনীতিবীদ। তার মতো নেতার মৃত্যু জাতীর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

বনশ্রী থেকে এসেছেন মুনির। পেশায় লেগুনা ড্রাইভার। ‘কেন এসেছেন?’ প্রশ্ন শুনে বলেন, আমি তাকে ভালোবাসি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও দেশকে স্বাধীন করার জন্য তিনি যে সাহসী ভুমিকা রেখেছেন সেই জায়গা থেকে সম্মান জানাতে এসেছি।

লালবাগের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আবদুর রহমান কিংবা ৫৭ বছর বয়সী সালাউদ্দিন- সবাই মনে করেছেন যে দল মতের উর্ধ্বে উঠে এই বীর যোদ্ধাকে শ্রদ্ধা জানানো উচিত। তাই তো ছুটে এসেছেন।

সালাউদ্দিন বলেন, সাদেক হোসেন খোকা একজন ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি আধুনিক ঢাকার রুপকার ছিলেন। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

হাতে একটি গোলাপ ফুল নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছেন মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুরের সুভাষ অধিকারী (৬০) বলেন, আমার স্ত্রী ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। আমার সৌভাগ্য যে শহীদ মিনারের কাছেই ছিলাম। তিনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিপ্লবী নেতা। তিনি বিক্রমপুরের অহংকার ছিলেন। তাই তাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

শেষবারের মতো নগর ভবনে খোকা
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র শেষ বারের মতো ফিরেছিলেন নিজের কর্মস্থলে। তবে নিথর দেহে। নয়াপল্টনে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয়ে জানাজা শেষে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নেয়া হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। সেখানে কর্মী-সমর্থক শুভাকাঙ্খী ও অনুরাগীদের শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক এই নগরপিতা।

দুপুর ৩টার দিকে তাকে নেয়া হয় ডিএসসিসিতে। এ সময় নগর ভবনের সামনে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন সাদেক হোসেন খোকার নামাজে জানাজায়।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় তার পরিবার। সাবেক মন্ত্রী খোকা নিউইয়র্কের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ক্যান্সারে আক্রান্ত খোকা প্রায় পাঁচ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসিত ছিলেন।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১