শিরোনাম

প্রচ্ছদ যুক্তরাষ্ট্র, শিরোনাম

ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন ব্লুমবার্গ!

এনা অনলাইন : | শনিবার, ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

ট্রাম্পকে হারাতে পারবেন ব্লুমবার্গ!

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে যুক্ত হলেন বিলিয়নিয়ার, নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন। এক বিবৃতিতে ৭৭ বছর বয়সী ব্লুমবার্গ বলেছেন, তিনি নির্বাচনে দাঁড়াচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে এবং আমেরিকাকে পুনর্গঠন করতে। এ জন্য তিনি ডেমক্রেট দল থেকে প্রার্থিতা চাইছেন। তার কণ্ঠে দৃপ্ত প্রত্যয়- এই নির্বাচনে আমাদেরকে জিততেই হবে।

আগামী বছর নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। সেই নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।



তাকে টেক্কা দিতে মনোনয়ন চাইছেন বিরোধী ডেমক্রেট দলের ১৭ জন প্রার্থী। সেই দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন মাইকেল ব্লুমবার্গ। এত প্রার্থীর মধ্য থেকে দল মনোনয়ন দেবে একজনকে। কে হবেন সেই সৌভাগ্যবান তা নির্ধারণ করা হবে প্রাইমারি নির্বাচনের মাধ্যমে। এখন পর্যন্ত ফ্রন্ট রানার বা সামনের সারিতে আছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এবং বার্নি স্যান্ডার্স। তাদের সঙ্গে দলীয় মনোনয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার ঘোষণা দিয়ে ব্লুমবার্গ বলেছেন, আমি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পরাজিত করতে এবং আমেরিকাকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করবো। আমি বিশ্বাস করি ব্যবসা, সরকারে থাকা এবং মানবপ্রীতির মতো একগুচ্ছ অভিজ্ঞতা আমাকে সাহায্য করবে বিজয়ী হতে এবং নেতৃত্ব দিতে। ব্লুমবার্গমনে করেন, বর্তমানে যারা নির্বাচনী মাঠে আছেন তারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ জানাতে যথেষ্ট নন।

যুক্তরাষ্ট্রে সম্পদের অসমতা, বার্নি স্যান্ডার্স ও এলিজাবেথ ওয়ারেন বিলিয়নিয়ারদের জন্য ট্যাক্স বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছেন। এ নিয়ে কয়েক মাস ধরে যখন বিতর্ক চলছে তখন এই নির্বাচনী মাঠে প্রবেশ করলেন মাইকেল ব্লুমবার্গ। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসে আয়কর বিষয়ক প্রস্তাবে বার্নি স্যান্ডার্স বলেছেন, বিলিয়নিয়ারদের অস্তিত্ব থাকা উচিত নয়।

ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে মাইকেল ব্লুমবার্গের নিট সম্পদ ৫৪৪০ কোটি ডলার। এই হিসাবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অষ্টম ধনী। তার জন্ম ম্যাসাচুসেটসে। প্রথমে তিনি ওয়াল স্ট্রিটের একজন ব্যাংকার হিসেবে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তারপর নিজের আর্থিক প্রকাশনা সাম্রাজ্য গড়ে তোলেন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে তার নাম। বছরের পর বছর তিনি বিভিন্ন শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাজনৈতিক সহ বিভিন্ন কারণে লাখ লাখ ডলার দান করে আসছেন। ২০০১ সালে তিনি নিউইয়র্কের মেয়র পদে প্রচারণায় নামেন। এতে সফল হন তিনি। ২০১৩ সাল পর্যন্ত একটানা তিন টার্ম তিনি সেখানকার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। এক দশকেরও বেশি সময় গুজব ছিল যে, তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করবেন।

এক সপ্তাহেই অন্তত ৩০ মিলিয়ন ডলারের টিভি বিজ্ঞাপন
টিভি বিজ্ঞাপনের পেছনে মাত্র এক সপ্তাহেই অন্তত ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছেন নিউইয়র্কের সাবেক মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি টাকা। মূলত: যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে দলীয় মনোনয়ন লাভের প্রত্যাশা থেকেই বিজ্ঞাপন বাবদ এ পরিমাণ অর্থ ব্যয় করেছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে তার বিত্ত বৈভবের বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহ থেকে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে ৬০ সেকেন্ডের এ বিজ্ঞাপন সম্প্রচার শুরু হবে। এটি হবে মূলত ৭৭ বছর বয়সী মাইকেল ব্লুমবার্গের একটি বায়োগ্রাফিক্যাল কমার্শিয়াল বা জীবনীধর্মী বিজ্ঞাপন।

যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনেরও বেশি রাজ্যে প্রায় ১০০টি নিউজ মিডিয়ায় এ বিজ্ঞাপন স¤প্রচার করা হবে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে শুরু করে মেইন-এর মতো রাজ্যগুলো থাকবে এ তালিকায়।
এদিকে বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ বিজ্ঞাপন সম্প্রচারের সমালোচনা করেছেন অনেকে। বিশেষ করে ডেমক্র্যাটিক পার্টির অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা এর সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন চেয়েছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। সর্বশেষ দলীয় প্রার্থিতার দৌড়ে হিলারি ক্লিন্টনের কাছে ছিটকে পড়েন তিনি। এবারও তিনি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।

সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, মাইকেল ব্লুমবার্গ বা অন্য বিলিয়নিয়াররা মনে করেন যে, তারা বিলিয়ন ডলার ব্যয় করে আমাদের নির্বাচনকে কিনতে পারবেন, তাদের এমন ধারণায় আমি বিরক্ত।

নির্বাচনি প্রচারণায় অর্থ ব্যয়ের তালিকা থেকে ছোট রাজ্য বা শহরগুলোকেও বাদ দেননি মাইকেল ব্লুমবার্গ। নর্থ ডাকোটার ফার্গো, মিসিসিপির বিলোক্সির মতো শহরে বিজ্ঞাপন বাবদ তার অর্ধলক্ষ ডলার ব্যয়ই তার প্রমাণ।

মাইক ব্লুমবার্গ ২০২০ ইনক গঠন: প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে গেলে ইলেকটরাল এন্টিটি গঠন করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। তাই নিউ ইয়র্ক সিটির সাবেক মেয়র ব্লুমবার্গ ২০২০ ক্যাম্পেইন কমিটি গঠনের লক্ষে ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ঐশ্বর্যশালী সাবেক মেয়র মাইক ব্লুমবার্গ ২০২০ ইনক নামে দাপ্তরিকভাবে ইলেকটরাল এনটিটি গঠন করেছেন।

৭৭ বছর বয়স্ক আরকানসাস এবং আলাবামাসহ ডেমক্র্যাটিক প্রাইমারী ব্যালটে অংশ নেয়ার প্রস্তুতি হিসেবে মাইক ব্লুমবার্গ ২০২০ ইনক গঠন করেছেন বলে ২৩ নভেম্বর জানা যায়। যাহোক, ব্লুমবার্গের জনৈক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা বলেন, ফেডারেল ইলেকশন কমিশনারের নিকট প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়ার অর্থ এই নয় যে আগামী বছর ব্লুমবার্গ নিশ্চিতভাবে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন। বরং নির্বাচনে অংশ গ্রহণের দরজা খোলার রাখার জন্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেয়া হয়েছে।

আলাবামার প্রাইমারীতে অংশ নেয়ার জন্য কমপক্ষে ১৫ দিন আগেই ৮ নভেম্বর ব্লুমবার্গ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন। ব্লুমবার্গ শেষ মুহূর্তেও ব্লুমবার্গ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ২০২০ প্রাইমারীতে তিনি বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হবেন। আর ব্লুমবার্গ শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে না চাইলে তিনি প্রথম ৪টি প্রাইমারী এড়িয়ে যাবেন। এদিকে অপর এক খবরে জানা গেছে যে ব্লুমবার্গ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে কথিত স্টেটগুলোর ভোটার রেজিস্ট্রেশনের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এদিকে ২৫ নভেম্বর এক জরিপ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে সাবেক মেয়র রুডলফ জুলিয়ানী এবং বিল ডি ব্লাসিয়োর তুলনায় মেয়র হিসেবে ব্লুমবার্গের জনপ্রিয়তা ঢের বেশি। সিয়েনা জরিপে বলা হয়েছে যে সমগ্র স্টেটের ভোটারদের ৪৭% ব্লুমবার্গের কর্মকান্ডে সন্তুষ্টি এবং ৩৯% অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বিল ডি ব্লাসিয়োর কর্মকান্ডে ২৭% সন্তুষ্টি এবং ৫৬% অসন্তুষ্টি এবং জুলিয়ানির কর্মকান্ডে ৩০% এবং ৬২% অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

Comments

comments



আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১