শিরোনাম

প্রচ্ছদ অর্থ ও বাণিজ্য, শিরোনাম

ইলেকট্রনিক পণ্যে আমদানি শুল্কারোপ : ভারতের বিরুদ্ধে ডব্লিউটিওতে অভিযোগ জাপানের

এনা অনলাইন : | বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

ইলেকট্রনিক পণ্যে আমদানি শুল্কারোপ : ভারতের বিরুদ্ধে ডব্লিউটিওতে অভিযোগ জাপানের

নির্দিষ্ট কিছু জাপানি ইলেকট্রনিক পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপ করায় ভারতের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিউটিও) অভিযোগ করেছে জাপান। বৈশ্বিক বাণিজ্য সংস্থা ডব্লিউটিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গত মঙ্গলবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারণার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ‘ক্রমাগত ও পদ্ধতিগতভাবে’ কিছু নির্দিষ্টসংখ্যক জাপানি পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর কারণে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে জাপান। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জাপান আরো অভিযোগ করেছে, জেনারেল অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্যারিফস অ্যান্ড ট্রেড (গ্যাট) চুক্তির মাধ্যমে শুল্কহারের যে সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল, ভারতের আরোপিত আমদানি শুল্ক তাকেও ছাড়িয়ে গেছে। গ্যাট চুক্তি অনুযায়ী, ডব্লিউটিওর কোনো সদস্য দেশ সর্বোচ্চ সীমার অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক আরোপ করতে পারবে না। ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি মেকানিজমের আওতায় ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করতে চাইছে জাপান।

ডব্লিউটিওকে জাপান জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে গৃহীত নীতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ করহার সমন্বয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে জাপান। দেশটি অভিযোগ করে, ২০১৪ সালে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারণার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ‘ক্রমাগত এবং পদ্ধতিগতভাবে’ বিভিন্ন খাতের বেশকিছু পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে, ইলেকট্রনিকস সিস্টেমস, মাইনিং, গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিফেন্স ম্যানুফ্যাকচারিং, খাদ্য, গাড়ির যন্ত্রাংশ, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস।

জাপান জানিয়েছে, ভারত সরকার তাদের অভ্যন্তরীণ খাতগুলোকে প্রণোদনা দিতে যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর আওতায় আমদানি শুল্ক বাড়ানোর এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। দেশটি জানায়, শুল্ক বাড়ানোর এ পদক্ষেপ তাদের আগের বিবেচনা এবং ডব্লিউটিওর আইনের আওতায় তারা এর আগে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তার সঙ্গে ‘অসংগতিপূর্ণ’।

জাপানের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের কিছু শুল্ক বিবেচনার বিষয়ে দেশটিকে আমরা আলোচনায় বসার অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ ভারতের আরোপিত এসব শুল্কহার স্পষ্টভাবেই গ্যাট চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত শুল্কসীমা এবং জাপানের স্বার্থের পরিপন্থী।

আমদানি শুল্ক আরোপকৃত পণ্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে জাপান জানায়, সেলুলার নেটওয়ার্কের টেলিফোনের মতো পণ্যগুলোয় ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা কিনা স্পষ্টভাবেই গ্যাট চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত শুল্কসীমার লঙ্ঘন। গ্যাট চুক্তি অনুযায়ী, এসব পণ্য শুল্কমুক্ত হওয়ার কথা। এসব পণ্য ছাড়াও ভয়েস, ইমেজ বা অন্যান্য উপাত্ত কনভার্শন ও ট্রান্সমিশন বা রিজেনারেশনের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনের ওপর ১০-২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা কিনা স্পষ্টভাবে গ্যাট চুক্তির মাধ্যমে নির্ধারিত শুল্কসীমার চেয়ে অনেক বেশি।

অন্য যেসব পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা নিয়ে জাপান প্রশ্ন তুলেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে, বেজ স্টেশন বা বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড। ডব্লিউটিওর আইনের আওতায় ভারতের ওপর যে বাধ্যবাধকতা জারি করা হয়েছে, এর সঙ্গে তাদের শুল্ক আরোপের পদক্ষেপ অসংগতিপূর্ণ।

জাপান তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, ডব্লিউটিওর মধ্যস্থতায় আলোচনায় বসতে এবং আলোচনার একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য তারিখের বিষয়ে সম্মত হতে ভারতকে যে অনুরোধ জানানো হয়েছে, তার উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া অনুযায়ী, আলোচনার অনুরোধ জানানো হলো প্রথম ধাপ। এর মাধ্যমে উভয় পক্ষ বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সুযোগ পায় এবং আইনি জটিলতা ছাড়াই একটি সন্তোষজনক সমাধানে পৌঁছতে পারে। যদি ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে এ বিরোধের মীমাংসা করা না যায়, তবে অভিযোগকারী একটি প্যানেলের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তির অনুরোধ জানাতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১৭-১৮ সালে ভারত ও জাপানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১ হাজার ৫৭০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছিল। যদিও বাণিজ্য ছিল অনেকাংশেই জাপানের পক্ষে।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১