শিরোনাম

প্রচ্ছদ খেলাধুলা, শিরোনাম, স্লাইডার

তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা যায়!

তুহিন আহমদ পায়েল : | বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা যায়!

ছবি- সংগৃহিত

কিছুদিন আগেও যেকোনো আসর বা টুর্নামেন্টে ব্যর্থ হলেই বলা হতো অনভিজ্ঞতার কথা। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তেমন কিছু হচ্ছে না। বরণ বিশ্বকাপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল হিসেবে এবার খেলছে বাংলাদেশ। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপ খেলা চার ক্রিকেটার আছেন শুধু বাংলাদেশ দলেই। তবে আরেকটি দিক দিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের অনভিজ্ঞ বলতে পারে। কারণ এবারেই স্কোয়াডের সাতজন খেলোয়াড় প্রথম বিশ্বকাপ খেলছেন। প্রথমবারের মতো এত বেশি নতুন খেলোয়াড় নিয়ে এবার বিশ্বকাপ খেলছে কোনো দল।
তাদের নিয়ে দেখা যায় বড় কিছুর স্বপ্ন। কিন্তু কতটুকু সেই স্বপ্নের পরিধি? বাংলাদেশ ক্রিকেট দল কি পারবে একজন মাশরাফি বিন মর্তুজার নেতৃত্বে বিশ্বকাপ জয় করে নিয়ে ফিরতে? পারবে কি এই দেশের ক্রীড়ার ইতিহাসে নতুন কোনো মহাকাব্যের রচনা করতে?
বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে আসছে সেই শুরু থেকেই। বিশ্বকাপ বাছাই পেরুবার লক্ষে ১৯৭৯ সাল থেকে টাইগাররা খেলে আসছে আইসিসি ট্রফি । কিন্তু সেই থেকে ১৯৯৪ পর্যন্ত টানা পাঁচবার আসিসিসি ট্রফির ব্যর্থতায় বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। অবশেষে ১৯৯৭ সালে এসে পূরণ হয় বাংলাদেশের স্বপ্ন। আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশ পা রাখে স্বপ্নের বিশ্বকাপে। ১৯৯৭ সালের ১৩ এপ্রিল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের কিলাত কেলাব মাঠে কেনিয়াকে হারিয়ে আইসিসির সহযোগীদের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ।
কোয়ার্টার ফাইনালে হল্যান্ড, সেমির যুদ্ধে স্কটল্যান্ড আর ফাইনালে কেনিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। সেদিন মরিস ওদুম্বে, স্টিভ টিকোলো, টমাস ওদেয়োর কেনিয়াকে দুই উইকেটে হারিয়ে আইসিসি ট্রফি জিতেছিল আকরাম-বুলবুল-নান্নুদের বাংলাদেশ। সেবার আইসিসি ট্রফির সেরা তিনটি দল খেলেছিল পরবর্তী বিশ্বকাপে। সেই আলোকে স্কটল্যান্ডের বিপে সেমির যুদ্ধে জেতার পরপরই আসলে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। সেটা ছিল ১৯৯৭ সালের ৯ এপ্রিল।
অনেক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে বর্তমান অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট। এক সময় বলা হতো, ক্রিকেটে আমরা মাঝেমধ্যে জয় পাই, পরাজয়টাই স্বাভাবিক পরিণতি। কিন্তু এখন ক্রিকেটের দিন বদল হয়েছে। আমরা সব ম্যাচেই জয়ের জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাই। বাংলাদেশের ক্রিকেট এক অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে।
ইংল্যান্ডে সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ‘শুভ সূচনা’ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের পরিকল্পনা এগিয়েছিল এই পথ ধরেই। প্রথম তিন ম্যাচে অন্তত একটি জয় যদি আসে, আর পরে যদি হারানো যায় এই চার দলকে, তার পর অন্যান্য ম্যাচের ফলাফল আর কিছুটা ভাগ্যের ছোঁয়া মিলিয়ে সেমিফাইনালের ফল খুলে যেতেও পারে!
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান তাই ব্যর্থ হবে নাকি এগোবে লক্ষ্য পূরণের দিকে, সেটি নির্ধারিত করে দেবে আসলে সামনের ম্যাচগুলোর ফলই। বলা যায়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের আসল লড়াই শুরু হচ্ছে এখন। শক্তি-সামর্থ্যে এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে কিছু করে ফেলার তাড়না এক রকম। আবার জিততেই হবে, এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চাপ নিয়ে মাঠে নামা আরেক রকম। বাংলাদেশ দলকে এখন বইতে হবে সেই ভার, সামলাতে হবে সেই চাপ।
বিশ্বকাপের মঞ্চে সহজ হবে না আসলে কোনো ম্যাচই। সব দলেরই আছে লক্ষ্য, পরিকল্পনা আর শক্তির জায়গা। প্রতিপক্ষ সব দলও নিশ্চয়ই সম্ভাব্য জয়ের তালিকায় বাংলাদেশের বিপে ম্যাচটি রেখেছে, সেভাবেই ছক কাটছে। কঠিন লড়াইয়ের জন্যই তাই তৈরি থাকতে হবে দলকে। বর্তমানে বাংলাদেশ দল সোনালি প্রজন্মের তারকায় ঠাসা। এরা অদম্য চরিত্রের।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১