শিরোনাম

প্রচ্ছদ জাতীয়, শিরোনাম

জমজমাট ঢাকার ইফতার বাজার

তুহিন আহমদ পায়েল | শনিবার, ১৮ মে ২০১৯ | সর্বাধিক পঠিত

জমজমাট ঢাকার ইফতার বাজার

ছবি-সংগৃহীত

বছর ঘুরে আবার এল রমজান মাস। যদিও এটা সংযম সাধনার মাস। রমজান মাস শুরু থেকে ঢাকার ইফতার বাজার সরগম হয়ে উঠে। রমজান মাসে ইফতারি কেনাবেচা রীতিমতো উৎসবের রূপ ধারণ করে। কর্মব্যস্ততার কারণে অনেক পরিবারে ইফতারি বানানো সম্ভব হয় না। তা ছাড়া কর্মক্ষেত্রেও অনেকে ইফতার করেন। ফলে অনেকেই কেনা ইফতারির ওপর নিভর করেন। পুরান ঢাকার ইফতার বাজার চকবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। শাহী ইফতার মানেই পুরান ঢাকার চকবাজারের ইফতার। রমজানের প্রতিদিন দুপুর থেকেই চকবাজার ছাপিয়ে পুরান ঢাকার অলিগলির বাতাসে ভাসে নানা স্বাদের মুখরোচক খাবারের মনকাড়া সুবাস। ইফতার ঐতিহ্যে এবারও জমজমাট পুরান ঢাকা। ঐতিহ্য বজায় রেখে দোকানি আর ব্যবসায়ীরা প্রতিবছর রমজানে আনছেন নতুন নতুন ইফতার আয়োজন। মূল আয়োজনটা চকবাজারকে ঘিরেই। এই বাজারের ইফতার সামগ্রীর সব সময়ই বিশেষ আগ্রহ থাকে রোজাদারদের। এবারো তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। ঐতিহ্যবাহী এ ইফতার নিয়ে যথারীতি এ বছরও জমে উঠেছে। পুরান ঢাকার চকবাজার। ঢাকাইয়ারা সব সময় বাইরের খাবারে আকর্ষণ বোধ করে। সে কারণেই বাইরের ইফতারির টান সেই আদিকাল থেকেই চলে আসছে।
ইফতারির মধ্যে উল্লেখযোগ্য আস্ত মুরগির কাবাব, মোরগ মুসাল্লাম, বটিকাবাব, টিকাকাবাব, কোফ্তা, চিকেন কাঠি, শামিকাবাব, শিকের ভারী কাবাব, সুতিকাবাব, কোয়েল পাখির রোস্ট, কবুতরের রোস্ট, জিলাপি, শাহি জিলাপি, নিমকপারা, সমুচা, আলাউদ্দিনের হালুয়া, হালিম, দইবড়া, সৌদি পানীয় লাবাং, কাশ্মীরি সরবত, ইসবগুলের ভুসি, পুরি এবং ৩৬ উপকরণের মজাদার ‘খাবার বড়বাপের পোলারা খায়’সহ কতনা পদ।


চকবাজারের ইফতারিপাড়ায় পা দিয়ে দেখা গেল এসব মুখরোচক খাবারের হাঁকডাক আর ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ঘুরে দেখা মিলল নানা খাবারের। যার মধ্যে গরুর সুতি কাবাব ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা কেজি, খাসির সুতি কাবাব ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা, শামি কাবাব ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস, টিক্কা কাবাব ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, চাপালি কাবাব ৫০ থেকে ৬০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে। মুরগির রোস্ট প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ২৫০ টাকায়। আস্ত মুরগি মোসাল্লামের পিস বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায়। টানা পরোটা ৩০ থেকে ৪০ টাকা পিস, খাসির মাংসের কিমা পরোটা ৬০ থেকে ৭০ টাকা, গরুর মাংসের কিমা পরোটা ৪০ থেকে ৫০ টাকা পিস এবং ৫ থেকে ১০ টাকা পিচ বিক্রি হচ্ছে বেগুনি, পেঁয়াজু, আলুর চপ, সমুচা প্রভৃতি।
দুই কেজি ওজনের একাধিক শাহি জিলাপির পসরা সাজিয়ে বসা নাজিমউদ্দিন বলেন, তিনি ২০ বছর ধরে এখানে জিলাপির ব্যবসা করছেন। এবার প্রতি কেজি ২০০ টাকা দরে এক পিস জিলাপির দাম নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা। তবে ক্রেতারা চাইলে ২৫০ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের জিলাপিও কিনতে পারবেন।
সারাদিন রোজা রাখার ক্লান্তি নিমিষেই কেটে যায় দারুণ এক গ্লাস পানীয়তে। চকবাজারে তারও ব্যবস্থা রয়েছে। দুধ ও পেস্তা বাদামের শরবত বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা লিটার দরে। লাবাং ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা লিটার। ফালুদা বড় বাক্স ১৫০ থেকে ২০০ টাকা।
দোকানভেদে ইফতারির নানা পদের দামে তারতম্য রয়েছে। ইফতারি বাজার এখন শুধু পুরান ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বেইলি রোড, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এখন ইফতারির একটি অন্যতম আকর্ষণীয় বাজার গড়ে উঠেছে। এখানে পুরান ঢাকার অনেক খাবারের আয়োজন থাকে। তবে দামের বেলায় কোনো ছাড় নেই।
চকবাজারের ব্যবসায়ী মো. সেলিম বলেন, প্রতি বছরই জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। আর রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম অতিরিক্ত রাখা হয়। এ কারণেই গতবারের তুলনায় এবার ইফতার সামগ্রীর দামও বেড়েছে।
এদিকে, রোজার প্রথম দিনে চকবাজারে ইফতার ও সেহরির খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে পাঁচটি মনিটরিং টিমের কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এই দলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ছাড়াও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) প্রতিনিধিরা রয়েছেন। মেয়র জানান, এ দলগুলো নিশ্চিত করবেন যাতে কেউ ভেজাল, পচা, বাসি খাবার বিক্রি করতে না পারে। দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে কি-না সেটিও দেখবে এই মনিটরিং কমিটি।
সাঈদ খোকন বলেন, পবিত্র রমজান মাসে কোনো ব্যবসায়ী ইফতার সামগ্রীসহ খাদ্যে ভেজাল দিলে বা পচা-বাসি খাবার বিক্রি করলে তাকে এবারের ঈদ কারাগারে কাটাতে হতে পারে।

Comments

comments

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১